বাংলা ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৩
বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন
10.1.
সারাংশ লেখো: জ্ঞান যে বাহুতে বল দেয়, জ্ঞানের তাই শ্রেষ্ঠ ফল নয়; জ্ঞানের চরম ফল যে তা চোখে আলো দেয়। জনসাধারণের চোখে জ্ঞানের আলো আনতে হবে, যাতে মানুষের সভ্যতার যা সব অমূল্য সৃষ্টি, তার জ্ঞান-বিজ্ঞান, তার কাব্যকলা, তার মূল্য জানতে পারে। জনসাধারণ যে বঞ্চিত, সে কেবল অন্ন থেকে বঞ্চিত বলে নয়, তার পরম দুর্ভাগ্য যে সভ্যতার এইসব অমৃত থেকে সে বঞ্চিত। জনসাধারণকে যে শেখাবে একমাত্র অন্নই তার লক্ষ্য, মনে সে তার হিতৈষী হলেও, কাজে। তার স্থান জনসাধারণের বস্তুকের দলে। পৃথিবীর যেসব দেশে আজ জনসংঘ মাথা তুলেছে, জনসাধারণের মধ্যে শিক্ষার প্রচারেই তা সম্ভব হয়েছে। তার কারণ কেবল এই নয় যে, শিক্ষার গুণে পৃথিবীর হালচাল বুঝতে পেরে জনসাধারণ জীবনযুদ্ধে জয়ের কৌশল আয়ত্ত করেছে। এর একটি প্রধান কারণ সংখ্যার অনুপাতে, জনসাধারণের সমাজে শক্তি লাভের যা গুরুতর বাধা অর্থাৎ সভ্যতা লোপের আশঙ্কা, শিক্ষিত জনসাধারণের বিরুদ্ধে সে বাধার ভিত্তি ক্রমশই দুর্বল হয়ে আসে।
10.2.
অথবা, ভাবসম্প্রসারণ করো: স্বদেশের উপকারে নাই যার মন কে বলে মানুষ তারে? পশু সেই জন।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১০.১. সারাংশ:
জ্ঞানের মূল সার্থকতা মানুষকে অন্তর্দৃষ্টি দান করায়, কেবল বস্তুগত সামর্থ্য অর্জনে নয়। মানবসভ্যতার জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিল্প-সংস্কৃতির আলো থেকে বঞ্চিত হওয়া সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় দুর্ভাগ্য। শুধু অন্নসংস্থানের মাধ্যমেই মানুষের পূর্ণ বিকাশ সম্ভব নয়। সার্বিক শিক্ষা বিস্তারের মাধ্যমেই সমাজ থেকে অজ্ঞতার অন্ধকার দূরীভূত হয় এবং জনসমাজ প্রকৃত শক্তিতে বলীয়ান হয়ে সভ্যতাকে রক্ষা ও এগিয়ে নিতে সক্ষম হয়।
অথবা,
১০.২. ভাবসম্প্রসারণ:
"স্বদেশের উপকারে নাই যার মন
কে বলে মানুষ তারে? পশু সেই জন।"
মূলভাব: স্বদেশপ্রেম মানুষের একটি মহত্তম গুণ। যে ব্যক্তি নিজের দেশের কল্যাণে নিয়োজিত থাকে না, বাহ্যিকভাবে মানুষ হলেও অন্তরে সে পশুরই সমান।
সম্প্রসারিত ভাব: মানুষ সামাজিক ও বুদ্ধিমান জীব। পশু ও মানুষের মধ্যে প্রধান পার্থক্য হলো বিবেক, নীতিবোধ ও পরোপকারের চেতনা। জন্মসূত্রে মানুষ যে দেশে জন্মগ্রহণ করে, সেই দেশের আলো-বাতাস, ফল-মূল ও প্রকৃতির স্নেহে সে লালিত-পালিত হয়। তাই দেশের প্রতি তার জন্মায় এক অকৃত্রিম ঋণ ও দায়িত্ববোধ। জন্মভূমির কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করাই প্রকৃত দেশপ্রেম।
পশু শুধুমাত্র নিজের জৈবিক চাহিদা পূরণ ও আত্মরক্ষার চিন্তায় ব্যস্ত থাকে; বৃহত্তর সমাজ বা দেশের মঙ্গলচিন্তা করার ক্ষমতা তার নেই। কিন্তু একজন বিবেকবান মানুষ কেবল নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য নিয়েই মগ্ন থাকতে পারে না। যার হৃদয়ে দেশের প্রতি কোনো টান নেই, জাতির সংকটে যে ব্যথিত হয় না এবং দেশের সেবায় আত্মনিয়োগ করে না, সে মানুষ নামের অযোগ্য। স্বার্থপরতায় মগ্ন এমন ব্যক্তির চেতনা ও জীবনধারা পশুর মতোই সীমাবদ্ধ ও অর্থহীন। দেশপ্রেমহীন মানুষ সমাজের জন্য বোঝাস্বরূপ এবং তাদের স্মৃতিও ইতিহাসের পাতায় ঘৃণিত হয়।
মন্তব্য: স্বদেশের সেবা ও কল্যাণসাধন প্রতিটি নাগরিকের পবিত্র দায়িত্ব। স্বদেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের সার্বিক উন্নতিতে অবদান রাখতে পারলেই মানবজীবন সার্থক হয়ে ওঠে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও