পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২১
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
CFC- এর পূর্ণরূপ কী?
- খ)(2)
মজলুম জননেতা সম্পর্কে লেখ।
- গ)(3)
ছকে উল্লিখিত ঘটনাবলির সাথে তোমার পাঠ্য বইয়ের কোন নেতার মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পূর্ণ গঠনে উক্ত নেতার ভূমিকা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
CFC- এর পূর্ণরূপ হলো Chlorofluorocarbon (ক্লোরোফ্লোরোকার্বন)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী 'মজলুম জননেতা' হিসেবে পরিচিত। তিনি আজীবন শোষিত, বঞ্চিত, কৃষক ও মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, আসামে 'লাইন প্রথা' বিরোধী আন্দোলন এবং পাকিস্তান আমলে বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও স্বাধিকার আন্দোলনে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। নিপীড়িত জনগণের পক্ষে নির্ভীক অবস্থানের কারণে তিনি সাধারণ মানুষের কাছে 'মজলুম জননেতা' উপাধিতে ভূষিত হন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ছকে উল্লিখিত ঘটনাবলির সাথে পাঠ্যবইয়ের মহান নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মিল রয়েছে।
উদ্দীপকের ছকে ১৯৬৬ সালের ৬ দফা, আগরতলা মামলা, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং 'স্বাধীনতার স্থপতি' উল্লেখ করা হয়েছে। ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে ঐতিহাসিক ৬ দফা কর্মসূচি পেশ করেন, যা বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ হিসেবে পরিচিত পায়। এর প্রেক্ষিতে আইয়ুব সরকার বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামি করে ঐতিহাসিক 'রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য' তথা আগরতলা মামলা দায়ের করে। এই মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে এবং বঙ্গবন্ধুকে মুক্ত করার দাবিতে ১৯৬৯ সালে সর্বস্তরের জনগণ রাজপথে নেমে গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি করে। গণঅভ্যুত্থানের ফলে পাকিস্তান সরকার আগরতলা মামলা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয় এবং কারামুক্তির পর শেখ মুজিবুর রহমানকে ছাত্র-জনতা 'বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত করে। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে তাঁর অবিসংবাদিত নেতৃত্বেই বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে এবং তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি হিসেবে মর্যাদা লাভ করেন। তাই ছকে উল্লিখিত প্রতিটি ঐতিহাসিক ঘটনার সাথে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সরাসরি সম্পর্কিত।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকা ছিল অপরিসীম ও অনন্য।
১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা, অর্থনীতি, অবকাঠামো ও প্রশাসনিক কাঠামো পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর তাণ্ডবে সম্পূর্ণ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছিল। ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর বঙ্গবন্ধু শূন্য হাতে একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনের বিশাল দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
বঙ্গবন্ধুর গৃহীত উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপসমূহ:
১. উদ্বাস্তু পুনর্বাসন ও ত্রাণ বিতরণ: ভারতে আশ্রয় নেওয়া প্রায় এক কোটি শরণার্থীকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষদের মাঝে খাদ্য ও ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করে দ্রুত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেন।
২. ভারতীয় মিত্রবাহিনীর প্রত্যাহার: স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে তিনি স্বাধীনতার মাত্র তিন মাসের মধ্যে ভারতীয় মিত্রবাহিনীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করেন, যা সমকালীন ইতিহাসে বিরল ঘটনা।
৩. সংবিধান প্রণয়ন: মাত্র দশ মাসের মধ্যে তিনি বাংলাদেশকে একটি আধুনিক, গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান উপহার দেন (১৯৭২ সালের সংবিধান)।
৪. যোগাযোগ ও অবকাঠামো সংস্কার: ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্রিজ, কালভার্ট, রেলপথ এবং চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্রবন্দর দ্রুততম সময়ে সংস্কার ও চালু করেন।
৫. আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও কূটনীতি: বঙ্গবন্ধুর কূটনৈতিক দূরদর্শিতার ফলে অল্প সময়ের মধ্যে জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ, ওআইসিসহ বিশ্বের বহু দেশ বাংলাদেশকে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।
৬. অর্থনৈতিক ও শিক্ষা কার্যক্রম: ব্যাংক-বীমা ও কলকারখানা জাতীয়করণ, প্রাথমিক শিক্ষাকে জাতীয়করণ এবং কুদরাত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশন গঠনের মাধ্যমে দেশের সার্বিক অগ্রযাত্রার ভিত্তি স্থাপন করেন।পরিশেষে বলা যায়, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিকূলতা এবং দেশের সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির মাঝেও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মাত্র সাড়ে তিন বছরে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে একটি আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্রের টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছিলেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও