উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৬
উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র প্রশ্ন
জনাব নয়ন একটি স্বনামধন্য পানীয় কারখানার মালিক। উক্ত কারখানার উৎপাদন ক্ষমতা অনুযায়ী তার কারখানায় দৈনিক ১৫,০০০ লিটার পানীয় উৎপাদন সম্ভব। কিন্তু দক্ষ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শ্রমিকের অভাবে তিনি লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী পানীয় উৎপাদন করতে পারছেন না। বাজারে এ পানীয় খুবই জনপ্রিয়। ফলে ক্রেতাদের চাহিদামতো পানীয় সরবরাহ করতে না পারার কারণে দিন দিন বাজার হাতছাড়া হয়ে পড়ছে। বিষয়টি নিয়ে মি. নয়ন খুবই চিন্তিত।
- ক)(1)
প্রকৃত উৎপাদন ক্ষমতা কী?
- খ)(2)
কাম্য উৎপাদন মাত্রা বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানে কোন ধরনের উপযোগ সৃষ্টি হয়? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উৎপাদন ক্ষমতা ব্যবহারের জন্য জনাব নয়নের করণীয় সুপারিশ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা ও বাস্তব পরিস্থিতির অধীনে একটি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান প্রকৃতপক্ষে নির্দিষ্ট সময়ে যে পরিমাণ পণ্য বা সেবা উৎপাদন করতে সক্ষম হয়, তাকে প্রকৃত উৎপাদন ক্ষমতা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কাম্য উৎপাদন মাত্রা বলতে এমন একটি উৎপাদন স্তর বা পরিমাণকে বোঝায় যেখানে পণ্যের গড় বা একক প্রতি উৎপাদন ব্যয় সর্বনিম্ন হয়।
একটি প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন বৃদ্ধির সাথে সাথে একটি নির্দিষ্ট পর্যায় পর্যন্ত স্থির ব্যয়ের কাম্য ব্যবহারের কারণে একক প্রতি মোট ব্যয় হ্রাস পায়। যে নির্দিষ্ট উৎপাদন মাত্রায় পৌঁছালে এই গড় ব্যয় সর্বনিম্ন স্তরে অবস্থান করে, উৎপাদন ব্যবস্থাপনায় তাকে কাম্য উৎপাদন মাত্রা (Optimum Capacity/Scale of Production) বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানে 'রূপগত উপযোগ' (Form Utility) সৃষ্টি হয়।
প্রকৃতিপ্রদত্ত বা সংগৃহীত কাঁচামালের বাহ্যিক আকার ও রূপ পরিবর্তনের মাধ্যমে যখন নতুন কোনো ব্যবহারযোগ্য পণ্য তৈরি করা হয়, তখন তাকে রূপগত উপযোগ বলে। কারখানাগুলোতে উৎপাদনের মাধ্যমে মূলত রূপগত উপযোগ সৃষ্টি করা হয়।
উদ্দীপকে জনাব নয়ন একটি পানীয় উৎপাদন কারখানার মালিক। এখানে বিভিন্ন উপাদান বা উপকরণের রূপ পরিবর্তন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে পানীয়জাতীয় ভোগ্যপণ্য তৈরি করা হয়, যা মানুষের পিপাসা ও স্বাদ মেটায়। কাঁচামালকে প্রক্রিয়াজাত করে নতুন পণ্যে রূপান্তরের মাধ্যমে এই উপযোগ সৃষ্টি হওয়ায় এটি রূপগত উপযোগ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পূর্ণ উৎপাদন ক্ষমতা ব্যবহারের জন্য জনাব নয়নের প্রধান করণীয় হলো দক্ষ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শ্রমিক নিয়োগ ও বিদ্যমান শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।
উৎপাদন ক্ষমতা ও কারখানার অবকাঠামো অনুকূলে থাকা সত্ত্বেও যদি মানবসম্পদ দক্ষ না হয়, তবে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হয় না। উপযুক্ত কর্মিব্যবস্থাপনা ও দক্ষতার উন্নয়ন ঘটালে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায় এবং প্রতিষ্ঠানের সার্বিক সক্ষমতার পূর্ণ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব নয়নের কারখানার সর্বোচ্চ উৎপাদন ক্ষমতা দৈনিক ১৫,০০০ লিটার এবং বাজারে পণ্যের চাহিদাও প্রচুর। কিন্তু দক্ষ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শ্রমিকের অভাবে তিনি এ সক্ষমতা অনুযায়ী উৎপাদন করতে পারছেন না, ফলে ক্রেতাদের চাহিদামতো সরবরাহ করতে না পেরে বাজার হারাচ্ছেন। এ সমস্যা সমাধানে তাকে অবিলম্বে নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করতে হবে:
১. অভিজ্ঞ ও দক্ষ কারিগরি কর্মী নিয়োগ দেওয়া;
২. কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের আধুনিক যন্ত্রপাতি পরিচালনা ও উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা;
৩. কর্মীদের দক্ষতা ও কাজের গতি বাড়ানোর জন্য প্রণোদনামূলক মজুরি বা সুবিধার ব্যবস্থা করা;
৪. শ্রমঘণ্টা ও কর্মপদ্ধতি সুষমভাবে বিন্যাস করে শিফট ভিত্তিক কাজ পরিচালনা করা।সুতরাং, শ্রমিকদের দক্ষতা ও কার্যক্ষমতা বৃদ্ধির বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমেই জনাব নয়ন তার কারখানার পূর্ণ উৎপাদন ক্ষমতা ব্যবহার করতে এবং বাজার পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হবেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও