যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৭

যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

যুক্তিবিদ্যা ক্লাসে রাজিব স্যার বলেন, “মানুষ হলো বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন জীব” । মানুষের মধ্যে বুদ্ধিবৃত্তি গুণটি আছে বলেই মানুষ অন্যান্য প্রাণী থেকে আলাদা । তিনি আরও বললেন, এই গুণটির বলেই মানুষ বিচার করতে পরে। তাছাড়া মানুষের মধ্যে তার আচার-ব্যবহার, পোশাক-পরিচ্ছদ, হাস্যপ্রিয়তা, জন্মস্থান, জন্ম তারিখ এরূপ অনেক বিষয় রয়েছে।

  1. ক)

    বিধেয় কী?

    (1)
  2. খ)

    বিধেয়ক একটি সম্পর্কের নাম— বুঝিয়ে লেখ।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ‘মানুষ’ পদের বিশেষ গুণটি কোন বিধেয়ককে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা কর ।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে রাজিব স্যারের শেষের বক্তব্যটির আলোকে বিধেয়কের প্রকার বিশ্লেষণ কর ।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্য পদ সম্পর্কে যা কিছু স্বীকার বা অস্বীকার করা হয়, তাকে বিধেয় বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদের পারস্পরিক সম্পর্ককে বিধেয়ক বলে। বিধেয়ক কোনো পৃথক পদ নয়, বরং এটি সদর্থক যুক্তিবাক্যে বিধেয় পদ উদ্দেশ্য পদের সাথে কীভাবে সম্পর্কিত—তা নির্দেশ করে। যেহেতু দুটি পদের সম্বন্ধের ধরন বোঝাতেই বিধেয়কের ধারণা ব্যবহৃত হয়, তাই বিধেয়ক মূলত একটি সম্পর্কের নাম।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ‘মানুষ’ পদের বিশেষ গুণটি হলো ‘বুদ্ধিবৃত্তি’, যা বিধেয়কের ‘লক্ষণ’ বা ‘বিভেদী গুণ’ (Differentia)-কে নির্দেশ করে।

    যে গুণ বা গুণাবলী একই জাতির অন্তর্ভুক্ত একটি প্রজাতিকে অন্যান্য প্রজাতি থেকে পৃথক করে, তাকে লক্ষণ বা বিভেদী গুণ বলে।
    উদ্দীপকে বলা হয়েছে, মানুষ হলো বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন জীব এবং বুদ্ধিবৃত্তি গুণটি থাকার কারণেই মানুষ অন্যান্য প্রাণী থেকে আলাদা। এখানে ‘জীব’ হলো আসন্নতম জাতি এবং ‘বুদ্ধিবৃত্তি’ হলো এমন একটি অপরিহার্য গুণ, যা জীব জাতির অন্তর্ভুক্ত মানুষ প্রজাতিকে অন্যান্য সকল প্রাণী বা প্রজাতি থেকে পৃথক করে। সুতরাং, এটি যুক্তিবিদ্যায় লক্ষণ বা বিভেদী গুণকে নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে রাজিব স্যারের শেষের বক্তব্যে উল্লিখিত বিষয়গুলোর আলোকে বিধেয়কের দুটি প্রকার—উপলক্ষণ (Property) এবং অবান্তর লক্ষণ (Accident) নির্দেশিত হয়েছে। নিচে এদের বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. উপলক্ষণ: যে গুণ কোনো পদের যাত্যর্থের অংশ নয়, কিন্তু যাত্যর্থ থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়, তাকে উপলক্ষণ বলে। উদ্দীপকে স্যারের বক্তব্যে বলা হয়েছে, "এই গুণটির বলেই মানুষ বিচার করতে পারে" এবং মানুষের রয়েছে "হাস্যপ্রিয়তা"। এই বিচারশক্তি ও হাস্যপ্রিয়তা মানুষের মূল যাত্যর্থ (জীববৃত্তি ও বুদ্ধিবৃত্তি) না হলেও বুদ্ধিবৃত্তি থেকে স্বাভাবিকভাবেই নিঃসৃত হয়। সুতরাং এগুলো মানুষের উপলক্ষণ।

    ২. অবান্তর লক্ষণ: যে গুণ কোনো পদের যাত্যর্থ নয় বা যাত্যর্থ থেকে নিঃসৃতও নয়, অথচ পদের মধ্যে বর্তমান থাকে, তাকে অবান্তর লক্ষণ বলে। উদ্দীপকে উল্লেখিত আচার-ব্যবহার, পোশাক-পরিচ্ছদ, জন্মস্থান ও জন্ম তারিখ হলো অবান্তর লক্ষণ। কারণ এগুলো পরিবর্তনশীল বা কোনো বিশেষ ব্যক্তির সাথে সম্পর্কিত হলেও সার্বিক মানুষ পদের সারসত্তা প্রকাশ করে না। যেমন জন্মস্থান বা জন্ম তারিখ হলো অবিচ্ছেদ্য ব্যক্তিগত অবান্তর লক্ষণ, আর পোশাক-পরিচ্ছদ হলো বিচ্ছেদ্য ব্যক্তিগত অবান্তর লক্ষণ।

    অতএব, শিক্ষকের শেষের বক্তব্যে উপলক্ষণ ও অবান্তর লক্ষণ—বিধেয়কের এই দুই প্রকার সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন