সহপাঠ • নাটক: সিরাজউদ্দৌলা • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৩

সহপাঠ প্রশ্ন

“এতক্ষণে”–অরিন্দম কহিলা বিষাদে-“জানিনু কেমনে আসি লক্ষ্মণ পশিল রক্ষঃপুরে! হায়, তাত, উচিত কি তবএ কাজ, নিকষা সতী তোমার জননী, সহোদর রক্ষঃশ্রেষ্ঠ? শূলিশম্ভুনিভকুম্ভকর্ণ? ভ্রাতৃপুত্র বাসববিজয়ী!নিজ গৃহপথ, তাত, দেখাও তস্করে? চণ্ডালে বসাও আনি রাজার আলয়ে?”

  1. ক)

    “ঘরের লোক অবিশ্বাসী হলে বাইরের লোকের পক্ষে সবই সম্ভব।”—উক্তিটি কার?

    (1)
  2. খ)

    “পলাশিতে যুদ্ধ হয়নি, হয়েছে যুদ্ধের অভিনয়।” —উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ’তাঁত’ চরিত্রের সঙ্গে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের সমগোত্রীয় চরিত্রের সাদৃশ্য বিচার করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের তস্কর 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে ‘ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি'—মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “ঘরের লোক অবিশ্বাসী হলে বাইরের লোকের পক্ষে সবই সম্ভব”—উক্তিটি ঘসেটি বেগমের।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উক্তিটি দ্বারা ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর প্রান্তরে সংঘটিত তথাকথিত যুদ্ধের প্রহসনমূলক চরিত্রকে বোঝানো হয়েছে।

    পলাশীর প্রান্তরে নবাবের পক্ষে মীরজাফর, রায়দুর্লভ ও ইয়ার লতিফের মতো প্রধান সেনাপতিরা বিপুল সৈন্য নিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় বা পুতুলের মতো দাঁড়িয়ে ছিল। ইংরেজদের সাথে আগে থেকেই হওয়া গোপন চুক্তি অনুযায়ী তারা যুদ্ধের অভিনয় করেছে মাত্র। প্রকৃতপক্ষে পূর্ণাঙ্গ কোনো রক্তক্ষয়ী সামরিক লড়াই সেখানে হয়নি, বরং বিশ্বাসঘাতকদের নিষ্ক্রিয়তার ফলে নবাবের নিশ্চিত জয় পরাজয়ে পর্যবসিত হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের 'তাত' (তাত অর্থ পিতৃব্য বা চাচা, এখানে বিভীষণ) চরিত্রের সঙ্গে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের প্রধান বিশ্বাসঘাতক মীরজাফর চরিত্রের গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।

    উদ্দীপকের শ্লোকটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাদবধ কাব্য' থেকে গৃহীত, যেখানে বিভীষণ নিজ জাতি ও গৃহের পথ শত্রুপক্ষ লক্ষ্মণকে দেখিয়ে দিয়ে নিজের ভাইপো ও রাজ্য লঙ্কার চরম সর্বনাশ সাধন করেছিলেন। তিনি স্বজাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে শত্রুর পক্ষে যোগ দেন।

    'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে মীরজাফর ছিলেন নবাবের প্রধান সেনাপতি এবং নবাবের আত্মীয়। কিন্তু ক্ষমতার লোভ ও সিংহাসন লাভের আশায় তিনি বিদেশি শক্তি ইংরেজদের সঙ্গে গোপন চুক্তি করে নবাব ও সমগ্র বাংলার স্বাধীনতার সাথে চরম বেইমানি করেন। বিভীষণের মতো মীরজাফরও ঘরের শত্রু হয়ে বাইরের শত্রু ইংরেজদের মসনদ দখলের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। তাই উভয় চরিত্রই ঘরের শত্রু ও স্বজাতিদ্রোহিতার প্রতীক হিসেবে সমগোত্রীয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের 'তস্কর' (চোর) বলতে রাম-লক্ষ্মণ বা বহিরাগত আক্রমণকারীকে বোঝানো হয়েছে, যা 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে অন্যায়ভাবে ক্ষমতা দখলকারী 'ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি'র সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ—মন্তব্যটি যথার্থ।

    তস্কর বা চোরের ধর্ম হলো অনধিকার প্রবেশ করে অপরের সম্পদ বা সম্পত্তি প্রতারণা ও বলপ্রয়োগের মাধ্যমে হরণ করা। উদ্দীপকে বিভীষণের সহায়তা নিয়ে লক্ষ্মণ গোপনে রক্ষঃপুরীতে অন্যায়ভাবে প্রবেশ করে তস্করের ভূমিকা পালন করেছিল।

    'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে দেখা যায়, ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এ দেশে কেবল বাণিজ্যিক স্বার্থে এসে ক্রমান্বয়ে রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। তারা বাংলার সম্পদ লুণ্ঠন করেছে, নবাবের বিরুদ্ধে দেশীয় বিশ্বাসঘাতকদের সাথে হাত মিলিয়েছে এবং অবশেষে পলাশীর নাটকের মাধ্যমে অবৈধভাবে বাংলার শাসন ক্ষমতা নিজেদের কবজায় নিয়েছে। তারা ন্যায্য ও সৎ পথে নয়, বরং চোরের মতো ষড়যন্ত্র ও গোপন আঁতাতের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলার শাসনক্ষমতা ছিনিয়ে নেয়। সুতরাং, অনধিকার প্রবেশ ও প্রতারণার মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের বিবেচনায় নাটকের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিই উদ্দীপকের 'তস্কর'-এর সমতুল্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন