বাংলা ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন
7.1.
বিশ্বব্যাপী সংক্রামিত মহামারি কোভিড-১৯ এর ভয়াবহতা সম্পর্কে দুই বন্ধুর মধ্যে একটি সংলাপ তৈরি করো।
7.2.
প্রদত্ত উদ্দীপক অনুসরণ করে একটি খুদেগল্প রচনা করো:
মেয়েটি দৌড়াচ্ছিল। ট্রেন ছেড়ে দিয়েছে। ওদিকে মেয়েটির ব্যাগে সমানে মোবাইল ফোন বেজে চলেছে...
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
৭.১. কোভিড-১৯ এর ভয়াবহতা সম্পর্কে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ:
(স্থান: একটি পার্কের বেঞ্চ, পাত্র: রফিক ও শফিক)
রফিক: শুভ অপরাহ্ন শফিক! কেমন আছ?
শফিক: ভালো আছি বন্ধু, তবে মনটা বেশ বিষণ্ণ।
রফিক: কেন, কী হয়েছে?
শফিক: ভাবছি বিগত কয়েক বছর ধরে সারা বিশ্ব কীভাবে কোভিড-১৯ মহামারির তাণ্ডবে স্থবির হয়ে পড়েছিল। এখনো এর ক্ষতচিহ্ন যেন মুছে যায়নি।
রফিক: একদম ঠিক বলেছ। এই ভাইরাসের ভয়াবহতা মানব ইতিহাসের অন্যতম বড় এক বিপর্যয় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। কত কোটি কোটি মানুষ আক্রান্ত হলো, আর কত লাখ লাখ তাজা প্রাণ অকালে ঝরে গেল!
শফিক: শুধু প্রাণহানিই নয়, পুরো বিশ্বের অর্থনীতি ভেঙে পড়েছিল। লকডাউনের কারণে খেটে খাওয়া মানুষের অনাহারে দিন কেটেছে, কত মানুষ কাজ হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে।
রফিক: সবচেয়ে বড় বিষয় মানুষের স্বাভাবিক সামাজিক জীবন পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। আপনজন মারা গেলেও সংক্রমণভীতিতে শেষ বিদায় জানাতে যেতে পারেনি স্বজনেরা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘকাল বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদেরও অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।
শফিক: সত্যিই এক বিভীষিকাময় সময় ছিল। তবে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের দ্রুত টিকা উদ্ভাবন এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বাস্থ্যবিধির প্রচার মানবজাতিকে রক্ষা করতে পেরেছে।
রফিক: ঠিক তাই। এখনো আমাদের সম্পূর্ণ অসচেতন হওয়া চলবে না। স্বাস্থ্যসচেতনতা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা সবসময় জরুরি।
শফিক: একদম সহমত। চল, আজ উঠি। ভালো থেকো।
রফিক: তুমিও ভালো থেকো, সাবধানে থেকো।
৭.২. উদ্দীপক অনুসরণ করে খুদেগল্প:
হারানো মুহূর্তের সন্ধানে
মেয়েটি দৌড়াচ্ছিল। ট্রেন ছেড়ে দিয়েছে। ওদিকে মেয়েটির ব্যাগে সমানে মোবাইল ফোন বেজে চলেছে...
কামালপুর স্টেশনের প্ল্যাটফর্মজুড়ে ভিড়। প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে ‘চট্টগ্রাম এক্সপ্রেস’ গতি বাড়াতে শুরু করেছে। নীলার হাতে থাকা ভারি ফাইলটি কোনোমতে বুকের সাথে চেপে ধরে ও ট্রেনের হাতল ধরার জন্য প্রাণপণ ছুটছে। ব্যাগের গভীরে থাকা ফোনটি একের পর এক বেজে চলছে, কিন্তু সেটি রিসিভ করার মতো একবিন্দু অবসর তার নেই।
নীলার এই ট্রেনটি ধরা অতি জরুরি। আজ তার জীবনের প্রথম সরকারি চাকুরির চূড়ান্ত ভাইভা। দীর্ঘদিন বেকারত্বের অভিশাপ আর পরিবারের দারিদ্র্যের গ্লানি ঘোচানোর এটাই একমাত্র সুযোগ। সকালের জ্যামে আটকা পড়ে স্টেশনে পৌঁছাতে তার দশ মিনিট দেরি হয়ে গিয়েছিল।
হঠাৎ ট্রেনের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা এক সহৃদয় যুবক তার হাত বাড়িয়ে দিল। নীলা নিজের সমস্ত শক্তি সঞ্চয় করে এক লাফে ট্রেনের পাদদানিতে পা রাখল এবং যুবকের হাতটি শক্ত করে চেপে ধরল। নিমেষের মধ্যেই সে প্ল্যাটফর্ম থেকে ট্রেনের কামরায় প্রবেশ করতে সক্ষম হলো। হাঁপাতে হাঁপাতে সে মেঝেতেই বসে পড়ল। যুবকটি তাকে একটু পানি এগিয়ে দিল।
খানিকটা ধাতস্থ হয়ে নীলা কাঁপাকাঁপা হাতে ব্যাগ থেকে ফোনটি বের করল। দেখল মায়ের নম্বর থেকে মোট বারোটি মিসড কল। কল ব্যাক করতেই ওপাশ থেকে মায়ের উদ্বিগ্ন কণ্ঠ ভেসে এল, “মা নীলা, তুই কোথায়? ট্রেন পেয়েছিস তো? তোর ভাইভা তো এগারোটায়!”
নীলা গভীর শ্বাস নিয়ে বলল, “হ্যাঁ মা, পেয়েছি। ট্রেনেই আছি। তুমি কোনো চিন্তা কোরো না, আজ আমি ঠিক সময়েই পৌঁছাব।” ফোনের ওপাশ থেকে এক স্বস্তির দীর্ঘশ্বাস শোনা গেল। নীলা জানালার বাইরে তাকাল; পেছনে ফেলে আসা শহর পেরিয়ে ট্রেন এখন দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলেছে এক সোনালি ভোরের পানে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও