বাংলা ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৩

বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন

4.1.

উপসর্গ কাকে বলে? উপসর্গের প্রয়োজনীয়তা আলোচনা করো।

4.2.

ব্যাসবাক্যসহ সমাস নির্ণয় করো: (যেকোনো পাঁচটি)নীপবৃক্ষ, শতবর্ষ, হরতাল,গিন্নিমা, রক্তারক্তি, সজল, সত্যাসত্য, তোরা।

উত্তর ও ব্যাখ্যা

AI-লিখিত অনুমানভিত্তিক উত্তর—ধারণা ও সীমাবদ্ধতা নিচে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি উৎসের যাচাইকৃত মূল উত্তর হিসেবে দাবি করা হচ্ছে না।

স্পষ্ট অনুমান: এইচএসসি পরীক্ষার ব্যাকরণ অংশের রীতি অনুযায়ী ৪.১ অথবা ৪.২-এর যেকোনো একটির উত্তর প্রদান করতে হয়; তবে সম্পূর্ণ সমাধানের সুবিধার্থে উভয়ের সমাধান উপস্থাপন করা হয়েছে।

৪.১ এর উত্তর:

উপসর্গের সংজ্ঞা:
যেসব অর্থহীন অব্যয়সূচক শব্দাংশ ধাতু বা শব্দের পূর্বে যুক্ত হয়ে নতুন অর্থবোধক শব্দ গঠন করে, শব্দের অর্থের পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংকোচন বা উৎকর্ষ-অপকর্ষ সাধন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে। যেমন: 'কার' শব্দের পূর্বে 'উপ' যোগ হয়ে গঠিত হয় 'উপকার'।

উপসর্গের প্রয়োজনীয়তা:
বাংলা ভাষার সমৃদ্ধি ও গতিশীলতায় উপসর্গের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। নিচে এর প্রধান প্রয়োজনীয়তা আলোচনা করা হলো:
১. নতুন শব্দ সৃষ্টি: উপসর্গ নতুন শব্দ তৈরির অন্যতম প্রধান মাধ্যম। যেমন: 'বাদ' শব্দের পূর্বে 'অপ' যোগ করে 'অপবাদ' এবং 'প্রতি' যোগ করে 'প্রতিবাদ' গঠিত হয়।
২. শব্দের অর্থ পরিবর্তন: উপসর্গ যুক্ত হলে শব্দের মূল অর্থ পরিবর্তিত হয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন অর্থ প্রকাশ পায়। যেমন: 'হার' শব্দের আগে 'প্র' যুক্ত হয়ে 'প্রহার' (আঘাত) এবং 'আ' যুক্ত হয়ে 'আহার' (খাবার) হয়।
৩. শব্দের অর্থের সংকোচন: উপসর্গের প্রভাবে অনেক সময় শব্দের ব্যপ্তি কমে সংকুচিত অর্থ প্রকাশিত হয়। যেমন: 'মান' শব্দের পূর্বে 'অপ' উপসর্গ যুক্ত হয়ে নেতিবাচক অর্থে 'অপমান' হয়।
৪. শব্দের অর্থের সম্প্রসারণ বা উৎকর্ষ সাধন: উপসর্গের প্রভাবে শব্দের ভাবার্থ আরও ব্যাপক বা উন্নত হয়। যেমন: 'জ্ঞান' শব্দের পূর্বে 'বি' যুক্ত হয়ে 'বিজ্ঞান' (বিশেষ জ্ঞান) এবং 'পূর্ণ' শব্দের পূর্বে 'পরি' যুক্ত হয়ে 'পরিপূর্ণ' হয়।
৫. ভাষার ভাব প্রকাশের ক্ষমতা বৃদ্ধি: উপসর্গ ব্যবহারে কম শব্দে গভীর ভাব প্রকাশ করা যায়, যা ভাষাকে অলংকৃত ও গতিশীল করে তোলে।

অতএব, বাংলা শব্দভাণ্ডারের শ্রীবৃদ্ধি ও ব্যাকরণিক বিকাশে উপসর্গের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


৪.২ এর উত্তর (ব্যাসবাক্যসহ সমাস নির্ণয়):

১. নীপবৃক্ষ = নীপ নামের বৃক্ষ (মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস)
২. শতবর্ষ = শত বর্ষের সমাহার (দ্বিগু সমাস)
৩. হরতাল = হর (প্রত্যেক) তাল (তালা) যাতে বন্ধ থাকে (বহুব্রীহি সমাস)
৪. গিন্নিমা = যিনি গিন্নি তিনিই মা (কর্মধারয় সমাস)
৫. রক্তারক্তি = রক্তে রক্তে যে যুদ্ধ বা লড়াই (ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস)
৬. সজল = জলের সহিত বর্তমান (সহার্থক বহুব্রীহি সমাস)
৭. সত্যাসত্য = সত্য ও অসত্য (দ্বন্দ্ব সমাস)
৮. তোরা = তুই ও তুই / তুই ও তোরা (একশেষ দ্বন্দ্ব সমাস)

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন