অর্থনীতি ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

ছেরু মিয়ার সন্তোষজনক কৃষি জমি আছে। নিরক্ষর বলে তিনি কখনো ব্যাংক থেকে কৃষি ঋণের সুবিধা গ্রহণ করেননি। 'ঋণের জরুরি প্রয়োজনে তিনি আত্মীয়-স্বজনের সহায়তা নেন। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি উদ্যোগে কৃষি বীজসহ অন্যান্য উপকরণ সহায়তার কারণে ছেরু মিয়াসহ সকল কৃষকের অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।

  1. ক)

    যৌথ খামার কী?

    (1)
  2. খ)

    সনাতনি কৃষি কাঠামো প্রবৃদ্ধিকে কীভাবে প্রভাবিত করে

    (2)
  3. গ)

    ছেরু মিয়া যে উৎস থেকে কৃষিঋণ নেন তার বর্ণনা দাও।

    (3)
  4. ঘ)

    সরকারি কর্ম সৃষ্টির গুরুত্ব উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    একাধিক কৃষক যখন স্বেচ্ছায় একত্রিত হয়ে নিজেদের জমি, শ্রম ও মূলধন একত্র করে যৌথ ব্যবস্থাপনায় চাষাবাদ করে, তখন তাকে যৌথ খামার বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সনাতনি কৃষি কাঠামো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে মন্থর করে। সনাতন পদ্ধতিতে আদিম যন্ত্রপাতি (যেমন—কাঠের লাঙল, মই) এবং প্রাচীন কৌশলে চাষাবাদ করায় জমির উৎপাদনশীলতা কম থাকে এবং উৎপাদন খরচ বেশি হয়। ফলে কৃষকের উদ্বৃত্ত উৎপাদন সৃষ্টি হয় না, যার কারণে মূলধন গঠন ব্যাহত হয় এবং জাতীয় প্রবৃদ্ধির গতি ধীর হয়ে পড়ে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ছেরু মিয়া জরুরি প্রয়োজনে আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে যে ঋণ গ্রহণ করেন, তা হলো কৃষিঋণের 'অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎস'।
    অপ্রাতিষ্ঠানিক ঋণ ব্যবস্থার মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
    ১. উৎসসমূহ: আত্মীয়-স্বজন ছাড়াও বন্ধু-বান্ধব, গ্রাম্য মহাজন, ধনী প্রতিবেশী, ব্যাপারী ও ফড়িয়া ইত্যাদি অপ্রাতিষ্ঠানিক ঋণের অন্তর্ভুক্ত।
    ২. জামানত ও আনুষ্ঠানিকতাহীনতা: এ ধরনের ঋণ পাওয়ার জন্য কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কাগজপত্র বা জটিল আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন হয় না। ছেরু মিয়া নিরক্ষর হওয়ায় ব্যাংকের জটিল প্রক্রিয়া এড়িয়ে সহজে ও দ্রুত এ ঋণ গ্রহণ করেন।
    ৩. সুদের প্রকৃতি: আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে পাওয়া ঋণ সাধারণত সুদমুক্ত বা নামমাত্র সুদে পাওয়া গেলেও মহাজনি বা অন্যান্য উৎস থেকে নেওয়া ঋণ অত্যন্ত চড়া সুদের হয়ে থাকে।
    ৪. নমনীয়তা: শর্তাবলি সাধারণত পারস্পরিক বিশ্বাস ও মৌখিক প্রতিশ্রুতির ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে সরকারি উদ্যোগে উন্নত কৃষি বীজসহ অন্যান্য উপকরণ সহায়তার কথা বলা হয়েছে, যা কৃষকদের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সামগ্রিক গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে সরকারি কর্মসূচি ও কর্ম সৃষ্টির গুরুত্ব নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
    ১. উৎপাদনশীলতা ও আয় বৃদ্ধি: সরকার কর্তৃক উন্নত বীজ, সার ও সেচযন্ত্র ভর্তুকিমূল্যে সরবরাহ করায় কৃষকদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায়। এর ফলে ছেরু মিয়ার মতো সাধারণ কৃষকদের আয় বৃদ্ধি পায় এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়।
    ২. দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান: গ্রামীণ এলাকায় সরকারি উন্নয়নমূলক কর্মসূচি ও উপকরণ সহায়তা কৃষিতে নতুন কাজের সুযোগ সৃষ্টি করে। ফলে মৌসুমি ও প্রচ্ছন্ন বেকারত্ব হ্রাস পায় এবং দারিদ্র্য বিমোচন ত্বরান্বিত হয়।
    ৩. প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধার বিস্তার: সরকারি তদারকি বাড়লে কৃষকদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ঘটে, ফলে তারা মহাজনি ঋণের শোষণ থেকে মুক্ত হয়ে সরকারি সহায়তার পূর্ণ সুবিধা নিতে পারে।
    ৪. জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন: কৃষকদের মাঝে উপকরণ সহায়তা পৌঁছালে সামগ্রিক কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পায়, যা দেশের খাদ্য স্বয়ম্ভরতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
    সুতরাং, উদ্দীপকের আলোকে বলা যায় যে, কৃষকদের জন্য সরকারি উপকরণ সহায়তা ও সহায়ক কর্মকাণ্ডের প্রসার গ্রামীণ অর্থনীতির টেকসই উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন