পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৩
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
বিশ্ব রাজনীতিতে দেখা যায় যে, একটি দেশকে পরাধীনতার শৃঙ্খাল থেকে মুক্ত করতে একজন মহান নেতা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ও সংগ্রাম করেছেন। উদাহরণ হিসেবে লেনিন, মহাত্মা গান্ধী, সুভাষ চন্দ্র বসু, হো-চি-মিন, নেলসন ম্যান্ডেলা প্রমুখের নাম উল্লেখ করা যেতে পারে। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে পশ্চিম পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠীর ষড়যন্ত্র, শাসন-শোষণ ও নিপীড়নের হাত থেকে শৃঙ্খলমুক্ত করতে একজন নেতার আবির্ভাব ঘটে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ মহান নেতার ঘোষিত কর্মসূচি বাঙালের মুক্তির সনদ হিসেবে কাজ করেছে।
- ক)(1)
BPSC- এর পূর্ণরূপ কী?
- খ)(2)
কী উদ্দেশ্যে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে আমাদের দেশকে শৃঙ্খলামুক্ত করতে কোন নেতাকে ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
"এ মহান নেতার ঘোষিত কর্মসূচিই বাঙালির মুক্তির সনদ হিসেবে কাজ করেছে"- বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
BPSC-এর পূর্ণরূপ হলো Bangladesh Public Service Commission (বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৫৪ সালের পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে মুসলিম লীগের ফ্যাসিবাদী শাসন, শোষণ এবং অন্যায়ের অবসান ঘটিয়ে বাঙালির রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো মিলে যুক্তফ্রন্ট গঠন করে। আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-প্রজা পার্টি, নেজামে ইসলাম এবং খেলাফতে রব্বানী পার্টির সমন্বয়ে এই জোট গঠিত হয় এবং তারা ২১ দফার ভিত্তিতে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয় লাভ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে শৃঙ্খলমুক্ত করতে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে দেশকে মুক্ত করতে লেনিন, মহাত্মা গান্ধী, নেলসন ম্যান্ডেলার মতো মহান নেতাদের মতো আমাদের দেশেও একজন মহান নেতার আবির্ভাব ঘটে, যিনি পশ্চিম পাকিস্তানি শোষকদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন এবং যার ঘোষিত কর্মসূচি বাঙালির মুক্তির সনদ ছিল।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন সেই অবিসংবাদিত নেতা, যিনি বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, চুয়ান্নর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন, ছেষট্টির ছয় দফা এবং উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বেই ১৯৭১ সালে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বিশ্ব মানচিত্রে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। তাই উদ্দীপকে উল্লিখিত নেতা হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"এ মহান নেতার ঘোষিত কর্মসূচিই বাঙালির মুক্তির সনদ হিসেবে কাজ করেছে"— উক্তিটি যথার্থ; এখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত ঐতিহাসিক 'ছয় দফা কর্মসূচি'কে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধী দলগুলোর এক সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি পেশ করেন। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান পাকিস্তানি সামরিক ও বেসামরিক জান্তার চরম রাজনৈতিক নিপীড়ন, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের শিকার ছিল। এ অবস্থা থেকে মুক্তির লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু এই ঐতিহাসিক কর্মসূচি তুলে ধরেন।
ছয় দফার মূল দাবিগুলো ছিল:
১. লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থা ও সংসদীয় পদ্ধতির সরকার প্রবর্তন।
২. কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে কেবল দেশরক্ষা ও পররাষ্ট্র বিষয় ন্যস্ত রাখা।
৩. দুই অঞ্চলের জন্য পৃথক অথচ সহজে বিনিময়যোগ্য মুদ্রা অথবা একই মুদ্রা কিন্তু পৃথক ব্যাংকিং রিজার্ভ ব্যবস্থা।
৪. রাজস্ব ধার্য ও আদায়ের ক্ষমতা আঞ্চলিক সরকারের হাতে রাখা।
৫. দুই অঞ্চলের বৈদেশিক মুদ্রার পৃথক হিসাব ও বৈদেশিক বাণিজ্যে প্রদেশের কর্তৃত্ব।
৬. পূর্ব পাকিস্তানের নিরাপত্তার জন্য আধা-সামরিক বা মিলিশিয়া বাহিনী গঠনের ক্ষমতা প্রদান।এই ছয় দফা ছিল মূলত বাঙালির স্বাধিকার ও অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক মুক্তির রূপরেখা। এটি ছিল বাঙালির মুক্তির 'ম্যাগনাকার্টা' (Magna Carta)। ছয় দফার মাধ্যমেই বাঙালি জাতি তাদের প্রকৃত দাবি বুঝতে পেরে ঐক্যবদ্ধ হয়, যা পরবর্তীকালে ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০-এর নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয় এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে চূড়ান্ত স্বাধীনতা অর্জনে রূপ নেয়। সুতরাং, উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও