বাংলা ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৪

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

তার বড় মেয়ে যুঁথিকার বিয়ে না হলে অন্য দু'মেয়েরও বিয়ে হবে না-এমন মনে হলেই রায়হান সাহেব অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিন্তু সম্প্রতি যুঁথিকা ক্যান্সার চিকিৎসার ওপর গবেষণার জন্য জার্মান সরকারের বৃত্তি লাভ করায় বাড়িতে পাত্রের হাট বসে গেছে। কিন্তু যুঁথিকার একটাই কথা দেশের কল্যাণ আমার প্রধান লক্ষ্য। বিয়ের কথা এখন একদমই ভাবছি না।

  1. ক)

    বেহাই সম্প্রদায়ের কী থাকা দোষের?

    (1)
  2. খ)

    “নিতান্ত এক ছেলে বলিয়া মা আমাকে ছাড়িতে পারেন নাই।" বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের যুথিকার সাথে কল্যাণীর চরিত্রের সাদৃশ্যগত দিকগুলো আলোচনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপকেও 'অপরিচিতা' গল্পের অনুরূপ নারী স্বাধীনতার বিষয়টি ফুটে উঠেছে।" উক্তিটির যথার্থতা বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'অপরিচিতা' গল্প অনুসারে, বেহাই সম্প্রদায়ের তেজ থাকাটা দোষের।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্ধৃত বাক্যটি দ্বারা অনুপমের জীবনে তার মায়ের অতিরিক্ত স্নেহ, নির্ভরশীলতা এবং একক প্রভাবের স্বরূপ তুলে ধরা হয়েছে।

    অনুপমের পিতা মারা যাওয়ার পর তার মা একমাত্র সন্তান অনুপমকে পরম মমতায় ও অতি-আদরে কোলে-পিঠে মানুষ করেছেন। শৈশব থেকেই অনুপম মায়ের আঁচল ধরে বড় হয়েছে, ফলে বাস্তব জগৎ সম্পর্কে তার কোনো নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা গড়ে ওঠেনি। মা-ও ছেলেকে চোখের আড়াল করতে পারেননি। অনুপমের এই পরনির্ভরশীল ও ব্যক্তিত্বহীন প্রকৃতির পেছনে মায়ের অতিরিক্ত অভিভাবকত্বই দায়ী—এ কথাই এখানে বোঝানো হয়েছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের যুঁথিকার সাথে 'অপরিচিতা' গল্পের কল্যাণী চরিত্রের আত্মমর্যাদাবোধ, দেশপ্রেম এবং প্রচলিত সামাজিক প্রথা ভেঙে স্বাবলম্বী হওয়ার মানসিকতায় গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।

    'অপরিচিতা' গল্পের নায়িকা কল্যাণী যৌতুকলোভী বরপক্ষের অন্যায্য আচরণের কারণে বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর ভেঙে পড়েনি। বরং সে নিজেকে নারীশিক্ষার ব্রতে উৎসর্গ করেছে। বিয়ের চেয়ে দেশসেবা ও আত্মমর্যাদাকে প্রাধান্য দিয়ে সে আজীবন অবিবাহিত থাকার সংকল্প গ্রহণ করে এবং দৃঢ় ব্যক্তিত্বের পরিচয় দেয়।

    উদ্দীপকের যুঁথিকাও প্রচলিত সমাজের বিয়ে-কেন্দ্রিক সনাতনী প্রত্যাশাকে অতিক্রম করেছে। পরিবারের দুশ্চিন্তা ও বিয়ের বহুমুখী প্রস্তাব থাকা সত্ত্বেও সে গবেষণার মাধ্যমে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ এবং দেশের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। বিয়েকে জীবনের একমাত্র লক্ষ্য মনে না করে দেশের সেবা ও জনকল্যাণকে জীবনের মূল ব্রত হিসেবে বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে যুঁথিকা ও কল্যাণী চরিত্র দুটি অভিন্ন চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “উদ্দীপকেও 'অপরিচিতা' গল্পের অনুরূপ নারী স্বাধীনতার বিষয়টি ফুটে উঠেছে”—উক্তিটি যথার্থ ও প্রাসঙ্গিক।

    পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীদের ব্যক্তিত্বহীন ও পরনির্ভরশীল করে রাখা হতো, যেখানে কন্যা সন্তানের বিয়ে দেওয়াই ছিল পরিবারের একমাত্র ভাবনা। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'অপরিচিতা' গল্পে কল্যাণী চরিত্রটি এই প্রথার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে নারীচেতনার এক নতুন রূপ উন্মোচন করে। যৌতুকলোভী মানসিকতার প্রতিবাদে তার বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর সে আর কোনো সনাতনী পাত্রস্থ হওয়ার পথে হাঁটেনি; বরং নারীশিক্ষার বিস্তার ও আত্মপ্রত্যয়ী জীবনের পথ বেছে নিয়ে স্বাধীনতা ও আত্মমর্যাদার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

    উদ্দীপকেও দেখা যায়, রায়হান সাহেব বড় মেয়ে যুঁথিকার বিয়ে না হওয়া নিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছিলেন। কিন্তু যুঁথিকা ক্যান্সারের মতো জটিল চিকিৎসার ওপর গবেষণার যোগ্যতা অর্জন করে প্রচলিত সামাজিক ধারণাকে বদলে দেয়। পাত্রের আগমন সত্ত্বেও সে স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে দেশের কল্যাণই তার প্রথম লক্ষ্য এবং সে এখনই বিয়ে নিয়ে ভাবছে না। এখানে যুঁথিকা নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা ও সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে।

    সুতরাং দেখা যায়, উভয় ক্ষেত্রেই নারীরা চিরাচরিত পারিবারিক ও সামাজিক বিয়ের শৃঙ্খল এবং পুরুষের মুখাপেক্ষী জীবন পরিহার করে নিজের মেধা, প্রজ্ঞা ও কর্মের মাধ্যমে স্বনির্ভর হয়ে উঠেছে। নিজেদের লক্ষ্য ও আদর্শ বাস্তবায়নে উভয়ের এই স্বকীয়তা আধুনিক নারী স্বাধীনতার চমৎকার প্রতিফলন ঘটায়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন