জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
এক্সপ্লান্ট কী?
- খ)(2)
সাইব্রিড বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত ও চিত্রের বৈশিষ্ট্যসমূহ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
চিকিৎসা এবং কৃষি শিল্পে উদ্দীপকের পদ্ধতিটির গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
টিস্যু কালচার প্রযুক্তিতে ব্যবহারের জন্য মূল উদ্ভিদ দেহ থেকে পৃথক করে নেওয়া যেকোনো সজীব টিস্যু বা অঙ্গকে এক্সপ্লান্ট (Explant) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দুটি ভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদের প্রোটোপ্লাস্টের মিলনের ফলে যদি একটির সাইটোপ্লাজম ও নিউক্লিয়াসের সাথে অন্যটির কেবল সাইটোপ্লাজমের মিলন ঘটে (অর্থাৎ একটির নিউক্লিয়াস নিষ্ক্রিয় বা বিনষ্ট হয়), তবে সেই সংকর কোষ থেকে উৎপন্ন উদ্ভিদকে সাইব্রিড (Cybrid বা Cytoplasmic Hybrid) বলে। সাইটোপ্লাজমিক জিনগত বৈশিষ্ট্যের স্থানান্তরে সাইব্রিড ব্যবহৃত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'B' চিত্রটি হলো প্লাজমিড (Plasmid)। ব্যাকটেরিয়ার মূল ক্রোমোজোমের বাইরে অবস্থিত স্বপ্রজননশীল, অতিরিক্ত বৃত্তাকার ডিএনএ অণুকে প্লাজমিড বলে।
প্লাজমিডের বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. প্লাজমিড হলো দ্বিসূত্রক এবং সাধারণত বৃত্তাকার ডিএনএ অণু।
২. এটি ব্যাকটেরিয়ার প্রধান ক্রোমোসোমাল ডিএনএ বহির্ভূত এবং এটি স্বাধীনভাবে স্ব-প্রতিলিপনে (Self-replicating) সক্ষম।
৩. প্লাজমিডের আণবিক ভর প্রায় ১০^৬ থেকে ১০^৮ ডাল্টন পর্যন্ত হয়ে থাকে।
৪. এতে অল্প সংখ্যক জিন থাকে যা ব্যাকটেরিয়ার অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ক্ষমতা, টক্সিন উৎপাদন ইত্যাদি বিশেষ বৈশিষ্ট্য প্রদান করে।
৫. প্লাজমিডে নির্দিষ্ট রেস্ট্রিকশন সাইট থাকে, যার ফলে এটিকে নির্দিষ্ট স্থানে রেস্ট্রিকশন এনজাইম দিয়ে কেটে কাঙ্ক্ষিত জিন সংযুক্ত করে রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ তৈরি ও বাহক (Vector) হিসেবে ব্যবহার করা যায়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে প্রদর্শিত পদ্ধতিটি হলো রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ প্রযুক্তি (জিন প্রকৌশল বা জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং)। চিকিৎসা এবং কৃষি শিল্পে এ পদ্ধতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে:
১. চিকিৎসা ক্ষেত্রে গুরুত্ব:
ক. ইনসুলিন উৎপাদন: ডায়াবেটিস রোগের চিকিৎসায় রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ প্রযুক্তির মাধ্যমে ই. কোলাই (E. coli) ব্যাকটেরিয়া থেকে বাণিজ্যিকভাবে মানুষের ইনসুলিন প্রস্তুত করা হচ্ছে।
খ. ইন্টারফেরন ও বৃদ্ধি হরমোন: ভাইরাস সংক্রমণ ও ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহৃত ইন্টারফেরন এবং মানব বৃদ্ধির হরমোন এ প্রযুক্তিতে তৈরি করা সম্ভব হয়েছে।
গ. টিকা ও অ্যান্টিবায়োটিক প্রস্তুত: হেপাটাইটিস-বি সহ বিভিন্ন রোগের নিরাপদ ও কার্যকর রিকম্বিনেন্ট ভ্যাকসিন তৈরিতে এটি ব্যবহৃত হয়।
ঘ. জিন থেরাপি: বংশগত ও জিনগত ত্রুটিপূর্ণ রোগের নিরাময়ে ত্রুটিযুক্ত জিন প্রতিস্থাপন করে সুস্থ জিন প্রবেশ করানো যায়।২. কৃষি শিল্পে গুরুত্ব:
ক. ট্রান্সজেনিক উদ্ভিদ সৃষ্টি: কাঙ্ক্ষিত জিন স্থানান্তরের মাধ্যমে পোকা-মাকড় প্রতিরোধী (যেমন: বিটি তুলা, বিটি বেগুন) এবং রোগ প্রতিরোধী ফসলের জাত উদ্ভাবন করা সম্ভব হয়েছে।
খ. প্রতিকূলতা সহনশীল জাত উদ্ভাবন: খরা, লবণাক্ততা ও অতিরিক্ত তাপমাত্রা সহনশীল ফসলের জাত তৈরি করা হচ্ছে।
গ. পুষ্টিমান বৃদ্ধি: জেনেটিক পরিবর্তনের মাধ্যমে ভিটামিন ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য শস্য, যেমন- ভিটামিন 'এ' সমৃদ্ধ 'গোল্ডেন রাইস' উদ্ভাবন করা হয়েছে।
ঘ. ফলন বৃদ্ধি ও গুণগত মানোন্নয়ন: এ প্রযুক্তির মাধ্যমে ফসলের স্থায়িত্বকাল বাড়ানো এবং উন্নত ফলনশীল জাত তৈরি করে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।সুতরাং, চিকিৎসা ও কৃষি শিল্পের সার্বিক উন্নতি ও মানবকল্যাণে উদ্দীপকের রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ প্রযুক্তি অপরিহার্য ও বৈপ্লবিক অবদান রাখছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও