অর্থনীতি ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২১

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

জামাল একজন সবজি চাষি। এ বছর দেশে আলুর সংকট থাকায় সে, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন, গ্রামীণ ব্যাংক ও কৃষি ব্যাংকের নিকট থেকে ঋণ গ্রহণ করে নিজস্ব জমিসহ চুক্তিতে জমি নিয়ে আলু চাষ করে। আলু চাষে সে ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কৃষি তথ্য সেবা কেন্দ্রের সহায়তা নিয়ে উৎপাদনে যেমন সফলতা পায়, তেমনি উৎপাদিত ফসলের বাজার সম্পর্কেও বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে লাভবান হয়।

  1. ক)

    কৃষিজোত কী?

    (1)
  2. খ)

    উচ্চ ফলনশীল বীজ কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে কৃষি ঋণের উৎসসমূহ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    কৃষিতে ICT ব্যবহারের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    একজন কৃষকের অধীনে থাকা চাষযোগ্য মোট জমির পরিমাণকে কৃষিজোত বলা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উচ্চ ফলনশীল (উফশী) বীজ ব্যবহারের ফলে প্রচলিত দেশি বীজের তুলনায় একক প্রতি জমিতে কয়েকগুণ বেশি ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হয়। এটি রোগবালাই প্রতিরোধী এবং কম সময়ে পরিপক্ব হয়, যার ফলে একই জমিতে বছরে একাধিকবার ফসল ফলানো যায়। এভাবে উফশী বীজ কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে সরাসরি সহায়তা করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে জামাল কৃষি কাজ পরিচালনার জন্য কৃষি ঋণের প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক—উভয় ধরনের উৎস থেকেই ঋণ গ্রহণ করেছে।

    কৃষি ঋণের উৎসসমূহ প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত:
    ১. অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎস: যে উৎসগুলো কোনো প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মনীতি দ্বারা পরিচালিত হয় না। উদ্দীপকে জামাল তার 'বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজন'-এর নিকট থেকে যে ঋণ নিয়েছে, তা অপ্রাতিষ্ঠানিক ঋণের অন্তর্ভুক্ত।
    ২. প্রাতিষ্ঠানিক উৎস: সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়মকানুন মেনে পরিচালিত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান। উদ্দীপকে জামাল 'গ্রামীণ ব্যাংক' ও 'বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক' থেকে ঋণ গ্রহণ করেছে, যা প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের প্রত্যক্ষ উদাহরণ।

    অতএব, উদ্দীপকে জামালের গৃহীত ঋণ কৃষি ঋণের অপ্রাতিষ্ঠানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক উভয় উৎসকেই নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং উৎপাদিত ফসলের সঠিক মূল্য প্রাপ্তিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির (ICT) ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা উদ্দীপকে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

    আধুনিক কৃষিতে ইন্টারনেট, মোবাইল ফোন ও কৃষি তথ্য সেবা কেন্দ্রের ব্যবহার কৃষকদের সনাতন পদ্ধতি থেকে প্রযুক্তিভিত্তিক আধুনিক চাষাবাদে রূপান্তর করতে সহায়তা করে। এর মাধ্যমে কৃষকেরা সঠিক সময়ে আধুনিক বীজ রোপণ, সার ও কীটনাশক ব্যবহারের সঠিক মাত্রা, আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং রোগবালাই দমনের বৈজ্ঞানিক পরামর্শ তাৎক্ষণিকভাবে জানতে পারে। উদ্দীপকে জামাল ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সঠিক কৃষি তথ্য সেবা পেয়ে আলুর সফল উৎপাদন নিশ্চিত করতে পেরেছে।

    তাছাড়া, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দেশের বিভিন্ন বাজারের দামের তথ্য সরাসরি পাওয়ায় মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমে এবং কৃষক পণ্যের উপযুক্ত ও ন্যায্য মূল্য পায়। জামালও বাজারের রিয়েল-টাইম তথ্য পাওয়ার কারণে আলু বিক্রি করে লাভবান হতে পেরেছে। সুতরাং, কৃষির সার্বিক আধুনিকায়ন ও কৃষকের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য ICT-এর ব্যবহার অপরিহার্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন