পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
সালমা বেগম একজন কর্মজীবী মহিলা। তিনি সংসারের প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিজেই বাজার থেকে কিনে আনেন। মাছ কিনতে গিয়ে তিনি প্রায়ই বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার হন, মাছ বিক্রেতারা তাকে নানা কটুক্তি করে। তা সত্ত্বেও তিনি দমে যাননি। মাছ নষ্ট হওয়ার রোধে ফরমালিনের যথেচ্ছা ব্যবহার এবং ফুলকার কৃত্রিম রং ব্যবহারের বিরুদ্ধে তিনি সর্বদা সোচ্চার ছিলেন।
- ক)(1)
গ্রীন হাউস গ্যাস কী?
- খ)(2)
"জলবায়ু পরিবর্তন জনিত সমস্যা সৃষ্টিতে প্রধানত শিল্পন্নোত দেশগুলোই দায়ী।"- ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে সালমা বেগমের প্রতি মাছ বিক্রেতার আচরণ কোন সামাজিক সমস্যাকে চিহ্নিত করে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
সালমা বেগম যে সামাজিক সমস্যার সম্মুখীন হন তা দূরীকরণ তোমার সুপারিশসমূহ ও উপস্থাপন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বায়ুমণ্ডলে যেসব গ্যাস তাপ আটকে রেখে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে এবং গ্রিন হাউস প্রতিক্রিয়ার জন্য দায়ী, তাদের গ্রিন হাউস গ্যাস বলা হয় (যেমন— কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন, সিএফসি, ওজোন, নাইট্রাস অক্সাইড এবং জলীয় বাষ্প)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শিল্পোন্নত দেশগুলো ব্যাপক শিল্পায়ন, অতিরিক্ত জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার এবং উচ্চমাত্রায় গ্রিন হাউস গ্যাস (যেমন— কার্বন ডাই-অক্সাইড, সিএফসি) নির্গমনের জন্য দায়ী। তাদের অনিয়ন্ত্রিত উৎপাদন ও ভোগবাদী সংস্কৃতির ফলে বায়ুমণ্ডলে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ঘটছে, যার প্রভাবে পৃথিবীজুড়ে চরম আবহাওয়া, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তন জনিত বিভিন্ন দুর্যোগ দেখা দিচ্ছে। তাই ঐতিহাসিক ও বর্তমান উভয় প্রেক্ষাপটেই শিল্পোন্নত দেশগুলোই মূলত জলবায়ু পরিবর্তন জনিত সমস্যার জন্য দায়ী।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে সালমা বেগমের প্রতি মাছ বিক্রেতার কটূক্তিপূর্ণ আচরণ ‘ইভটিজিং’ বা ‘নারীর প্রতি যৌন হয়রানি/অশোভন আচরণ’ নামক সামাজিক সমস্যাকে চিহ্নিত করে।
জনসম্মুখে বা কর্মক্ষেত্রে নারীদের উদ্দেশে অশোভন মন্তব্য, কটূক্তি, অঙ্গভঙ্গি বা উত্ত্যক্ত করাকে ইভটিজিং বা হয়রানি বলা হয়। এটি নারীর চলাফেরার স্বাধীনতা ও নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সালমা বেগম একজন কর্মজীবী নারী হিসেবে সংসারের কেনাকাটা করতে বাজারে গেলে মাছ বিক্রেতারা তাকে বিভিন্ন কটূক্তি করে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে। নারীর স্বাধীন উপস্থিতি ও ব্যক্তিত্বকে খর্ব করার এই অপচেষ্টা মূলত সমাজে বিদ্যমান নারী নির্যাতন এবং ইভটিজিং বা উত্ত্যক্তকরণের নিকৃষ্ট রূপকে প্রকাশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে সালমা বেগম ইভটিজিং বা জনপরিসরে নারীর প্রতি হয়রানির যে সামাজিক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন, তা দূরীকরণে নিম্নোক্ত সুপারিশগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে:
১. কঠোর আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ: নারী হয়রানি ও ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
২. সামাজিক সচেতনতা ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন: সমাজের পুরুষদের মধ্যে জেন্ডার সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি এবং নারীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার বিস্তার ঘটাতে হবে।
৩. বাজার ও জনপরিসরে নজরদারি বৃদ্ধি: কাঁচাবাজার, বাসস্ট্যান্ডসহ জনবহুল স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বা সার্বক্ষণিক তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে বিক্রেতাদের আচরণবিধি নির্ধারণ ও তদারকি করতে হবে।
৪. প্রতিবাদী মনোভাব ও কমিউনিটি উদ্যোগ: স্থানীয় জনসাধারণ ও যুবসমাজকে হয়রানির বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে এবং সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
উপযুক্ত আইনি পদক্ষেপ, প্রশাসনিক নজরদারি এবং দৃষ্টিভঙ্গির ইতিবাচক পরিবর্তনের মাধ্যমেই এ ধরনের সামাজিক সমস্যা নির্মূল করা সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও