‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২১

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনার নেতৃত্ব দেন কে?

    (1)
  2. খ)

    ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনের ফলাফল ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে ব্রিটিশ ভারতের কোন আইনের চিত্র প্রকাশিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    ব্রিটিশ ভারতের তৎকালীন রাজনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে উক্ত আইনের গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৪৬ সালের ক্যাবিনেট মিশন বা মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনার নেতৃত্ব দেন ভারত সচিব লর্ড পেথিক লরেন্স (Lord Pethick-Lawrence)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৫৪ সালের পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে এক বিপুল ও ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে।

    মোট ২৩৭টি মুসলিম আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন লাভ করে এবং এর মধ্যে আওয়ামী লীগ পায় ১৪৩টি আসন। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ মাত্র ৯টি আসনে বিজয়ী হয়। এ ফলাফলের মাধ্যমে পূর্ব বাংলায় মুসলিম লীগের রাজনৈতিক আধিপত্যের চূড়ান্ত অবসান ঘটে এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রথম সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক বিজয় নিশ্চিত হয়। এটি ছিল তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বৈষম্যমূলক নীতির বিরুদ্ধে পূর্ব বাংলার জনগণের গণতান্ত্রিক রায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চিত্রে ১৯৪৭ সালের 'ভারত স্বাধীনতা আইন' (Indian Independence Act, 1947)-এর বৈশিষ্ট্যসমূহ প্রকাশিত হয়েছে।

    উদ্দীপকের ছকে প্রদর্শিত মূল দিকগুলো হলো—
    ১. দুটি ডোমিনিয়ন সৃষ্টি: ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি পৃথক ও স্বাধীন ডোমিনিয়ন গঠনের বিধান।
    ২. গণপরিষদ গঠন: নতুন সংবিধান প্রণয়ন ও অন্তর্বর্তীকালীন আইনসভা হিসেবে কাজ করার জন্য উভয় ডোমিনিয়নে আলাদা গণপরিষদের ব্যবস্থা।
    ৩. দেশীয় রাজ্যগুলোর স্বাধীনতা: দেশীয় রাজ্যগুলোর ওপর থেকে ব্রিটিশ সার্বভৌমত্বের অবসান ঘটিয়ে যেকোনো ডোমিনিয়নে যোগ দেওয়া বা স্বাধীন থাকার অধিকার প্রদান।
    ৪. ভারত সচিবের পদের অবসান: 'সেক্রেটারি অব স্টেট ফর ইন্ডিয়া' বা ভারত সচিব পদের বিলুপ্তি সাধন।

    ১৯৪৭ সালের ১৮ জুলাই ব্রিটিশ পার্লামেন্টে পাস হওয়া 'ভারত স্বাধীনতা আইন'-এ ঠিক এই প্রধান ধারাগুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল। অতএব, উদ্দীপকের চিত্রটি ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনকেই নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ব্রিটিশ ভারতের তৎকালীন জটিল রাজনৈতিক সংকট নিরসন এবং উপমহাদেশে দীর্ঘকালীন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের সমাপ্তি টানতে ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম।

    তৎকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এ আইনের গুরুত্ব নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
    ১. ব্রিটিশ শাসনের অবসান ও স্বাধীনতার পথ উন্মোচন: এই আইনের মাধ্যমে প্রায় দুই শতাব্দীর ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। এর মাধ্যমে ভারত ও পাকিস্তান দুটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
    ২. দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসন: তৎকালীন কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ ভারতের শাসনতান্ত্রিক কাঠামো নিয়ে যে তীব্র মতবিরোধ ও অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল, দেশভাগের মাধ্যমে এই আইন তার একটি চূড়ান্ত সমাধান দেয়।
    ৩. ক্ষমতা হস্তান্তর: এটি ছিল ব্রিটিশদের পক্ষ থেকে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের হাতে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের সাংবিধানিক দলিল। এর ফলে গভর্নর জেনারেল ও ভাইসরয়ের বিশেষ ক্ষমতার বিলোপ ঘটে এবং ডোমিনিয়নগুলো পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন লাভ করে।
    ৪. সংবিধান প্রণয়ন ও আইনি ধারাবাহিকতা: যতদিন পর্যন্ত নতুন সংবিধান কার্যকর না হয়, ততদিন পর্যন্ত ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনকে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনসহ অন্তর্বর্তীকালীন সংবিধান হিসেবে অনুসরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়, যা শাসনতান্ত্রিক শূন্যতা রোধ করেছিল।

    তবে এই আইনের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে সীমানা নির্ধারণ হওয়ায় লাখ লাখ মানুষের বাস্তুচ্যুতি ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ঘটেছিল। তবুও সামগ্রিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনই ছিল উপমহাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের চূড়ান্ত ও সর্বাধিক প্রভাবশালী পদক্ষেপ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন