ইতিহাস ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৭
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
আলেকজান্ডার ৩২৭ খ্রি.পূর্বাব্দে ভারতে অভিযান চালান। এ অভিযান অনেক সহজ হয়ে যায় যখন তক্ষশিলার রাজা অম্ভি আলেকজান্ডারকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। নিজ ক্ষমতা রক্ষার আশায় অম্ভি ভারতবর্ষের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেন।
- ক)(1)
পলাশী কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
- খ)(2)
দ্বৈতশাসন বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে অম্ভির কর্মকাণ্ডের সাথে তুমি বাংলার নবাবি শাসনামলের কার কাজের মিল খুঁজে পাও? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
তুমি কি মনে কর, উল্লিখিত ব্যক্তির কর্মকাণ্ড বাংলার স্বাধীনতা হারানোর জন্য একমাত্র কারণ? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দেখাও ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পলাশী ভাগীরথী নদীর তীরে অবস্থিত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দ্বৈতশাসন বলতে একই সাথে দুটি ভিন্ন কর্তৃপক্ষের শাসন পরিচালনাকে বোঝায়। ১৭৬৫ সালে লর্ড ক্লাইভ মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের কাছ থেকে বাংলা, বিহার ও ওড়িশার দেওয়ানি লাভ করলে এ ব্যবস্থার সৃষ্টি হয়। এতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি পায় দেওয়ানি বা রাজস্ব আদায় ও প্রতিরক্ষার দায়িত্ব (দায়িত্বহীন ক্ষমতা), আর নবাবের হাতে থাকে নিজামত বা শাসন ও শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব (ক্ষমতাহীন দায়িত্ব)। এই শাসনব্যবস্থাই দ্বৈতশাসন নামে পরিচিত।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে অম্ভির কর্মকাণ্ডের সাথে বাংলার নবাবি শাসনামলের প্রধান সেনাপতি মীর জাফরের কাজের মিল রয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, তক্ষশিলার রাজা অম্ভি নিজ ক্ষমতা রক্ষার তাগিদে বহিরাগত আলেকজান্ডারের সাথে হাত মিলিয়ে স্বদেশের সাথে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করেন। একইভাবে, ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার প্রধান সেনাপতি মীর জাফর ক্ষমতার লোভে বহিরাগত ব্রিটিশদের সাথে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। যুদ্ধের ময়দানে তাঁর নেতৃত্বাধীন বিশাল বাহিনী নিষ্ক্রিয় দাঁড়িয়ে থাকায় নবাব পরাজিত ও নিহত হন। অতএব, অম্ভির কাজের সাথে মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতার সরাসরি মিল বিদ্যমান।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আমি মনে করি না যে উল্লিখিত ব্যক্তি অর্থাৎ মীর জাফরের কর্মকাণ্ডই বাংলার স্বাধীনতা হারানোর একমাত্র কারণ ছিল; বরং সামগ্রিক রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও নবাবের কিছু দুর্বলতাও এর পেছনে ভূমিকা রেখেছিল।
নিঃসন্দেহে মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতা পলাশীর যুদ্ধে নবাবের পরাজয়ের প্রধান ও প্রত্যক্ষ কারণ ছিল। কিন্তু বাংলার স্বাধীনতা হারানোর পেছনে অন্যান্য অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক কারণও জড়িত ছিল। নবাবের পরিবারের অভ্যন্তরীণ কোন্দল (যেমন ঘসেটি বেগম), স্বার্থান্বেষী প্রভাবশালী মহল যেমন জগৎ শেঠ, রায় দুর্লভ, উমিচাঁদ এবং রাজবল্লভের গোপন ব্রিটিশ তোষণ পরিস্থিতিকে আরও সংকটপূর্ণ করেছিল। তাছাড়া ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সামরিক শক্তিমত্তা, চতুর কূটনীতি এবং নবাব সিরাজউদ্দৌলার বয়সজনিত অনভিজ্ঞতা ও অতিরিক্ত সরল বিশ্বাসও স্বাধীনতার অবসান ডেকে আনে। যুদ্ধক্ষেত্রে মীর জাফরের ওপর বারবার বিশ্বাস স্থাপন করাও নবাবের একটি বড় কৌশলগত ভুল ছিল।
সুতরাং, মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতা মুখ্য ও চূড়ান্ত কারণ হলেও অন্যান্য অমাত্যদের বিশ্বাসঘাতকতা এবং সামগ্রিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও বাংলার স্বাধীনতা হারানোর জন্য যৌথভাবে দায়ী ছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও