যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৩
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১: অধ্যবসায়ী হলে পরীক্ষায় ভালো ফলাফল হয়। ভালো দুলাফল হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির চান্স পাওয়া যায়, জীবনে উন্নতি করা যায়।
দৃশ্যকল্প- ২ :

- ক)(1)
লৌকিক ব্যাখ্যা কী?
- খ)(2)
জগতের উৎপত্তি ব্যাখ্যা করা যায় না কেন?
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প ১ এ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার কোন রূপটি ফুটে উঠেছে ? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প-২ এর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার যে রূপের উল্লেখ করা হয়েছে তা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অতিপ্রাকৃতিক বা কাল্পনিক শক্তির ওপর নির্ভর করে সাধারণ মানুষের দেওয়া ব্যাখ্যাকে লৌকিক ব্যাখ্যা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার অন্যতম সীমাবদ্ধতা হলো জগতের সামগ্রিক বা আদি উৎপত্তির ব্যাখ্যা না দিতে পারা। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার প্রধান পদ্ধতি হলো কোনো ঘটনাকে তার চেয়ে ব্যাপকতর কোনো নিয়ম বা কার্যকারণ সম্পর্কের অধীনে এনে ব্যাখ্যা করা। কিন্তু সমগ্র জগৎ একটি সার্বিক ও চরম ব্যবস্থা; এর বাইরে এমন কোনো ব্যাপকতর সত্তা বা পূর্ববর্তী প্রাকৃতিক কার্যকারণ নিয়ম নেই যার সাহায্যে এর উৎপত্তিকে ব্যাখ্যা করা সম্ভব। তাই বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে জগতের সামগ্রিক উৎপত্তি ব্যাখ্যা করা যায় না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-১ এ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার 'শৃঙ্খলযোজন' (বা ব্যবধানবর্তী নিয়ম আবিষ্কার) রূপটি ফুটে উঠেছে।
যুক্তিবিদ কার্ভেথ রিডের মতে, বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার তিনটি রূপ রয়েছে— বিশ্লেষণ, শৃঙ্খলযোজন এবং অন্তর্ভুক্তি। যখন কোনো দূরবর্তী কারণ ও কার্যের মধ্যবর্তী পর্যায়ক্রমিক স্তর বা কার্যকারণ সম্পর্কগুলোকে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করা হয়, তখন তাকে শৃঙ্খলযোজন বলা হয়।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ দেখানো হয়েছে— অধ্যবসায়ী হলে পরীক্ষায় ভালো ফলাফল হয়, ভালো ফলাফল হলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ মেলে এবং এর মাধ্যমে জীবনে উন্নতি সাধন সম্ভব হয়। এখানে 'অধ্যবসায়' হলো দূরবর্তী প্রাথমিক কারণ এবং 'জীবনে উন্নতি' হলো চূড়ান্ত কার্য। এ দুইয়ের মধ্যবর্তী স্তর হিসেবে 'ভালো ফলাফল' ও 'বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি' শৃঙ্খলাকারে বা ক্রমান্বয়ে যুক্ত হয়ে সামগ্রিক প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা করেছে। সুতরাং, দৃশ্যকল্প-১ এ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার শৃঙ্খলযোজন রূপটি যথাযথভাবে ফুটে উঠেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-২ এ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার 'বিশ্লেষণ' (Analysis) রূপটির উল্লেখ করা হয়েছে। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
যখন কোনো একটি জটিল কার্যকে তার পৃথক পৃথক উপাদান বা কারণসমূহে বিভক্ত করে এদের পৃথক ক্রিয়া ও সম্মিলিত ফলকে নির্ণয় ও ব্যাখ্যা করা হয়, তখন তাকে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার 'বিশ্লেষণ' রূপ বলে। অনেক সময় একাধিক কারণ যুগপৎ কাজ করে একটি জটিল কার্য সৃষ্টি করে, যাকে যথাযথভাবে বুঝতে হলে প্রতিটি কারণের ভূমিকা আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করে দেখতে হয়।
দৃশ্যকল্প-২ এর চিত্রে দেখা যায়, 'তীরের গতি' নামক একটি জটিল কার্য ব্যাখ্যা করার জন্য বিভিন্ন কারণকে আলাদা করা হয়েছে— বাতাসের প্রতিবন্ধকতা, মাধ্যাকর্ষণ শক্তি, তীরন্দাজের পেশিশক্তি এবং নিক্ষেপণ কৌশল। এই প্রতিটি কারণ আলাদাভাবে তীরের গতির ওপর ক্রিয়াশীল এবং এদের সামগ্রিক ক্রিয়ার ফল হিসেবে তীরের গতি নির্ধারিত হয়। এখানে একটি জটিল ঘটনা বা কার্যকে তার গঠনকারী বিভিন্ন কারণে পৃথক করে দেখানোর মাধ্যমেই বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে।
অতএব, দৃশ্যকল্প-২ এ কার্যকর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার রূপটি হলো 'বিশ্লেষণ', যা জটিল ঘটনাবলির কার্যকারণ সম্পর্ক স্পষ্টীকরণে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও