যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২২

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

একটি বাক্সে ১০টি কলম ছিল। মুহিব বাক্সটির প্রতিটি কলম পরীক্ষা করল। এবং দেখল প্রত্যেকটি কলমই লাল রঙের। এ থেকে মুহিব সিদ্ধান্ত নিল, সবগুলো কলম হয় লাল।

  1. ক)

    অপ্রকৃত আরোহ বলতে কী বোঝ?

    (1)
  2. খ)

    পূর্ণাঙ্গ আরোহ বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আরোহানুমানটির সঙ্গে বৈজ্ঞানিক আরোহের পার্থক্য দেখাও ।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের আরোহানুমানটিকে কি যথার্থ আরোহ বলা যায়? এ সম্পর্কে তোমার মতামত দাও ।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে আরোহ প্রক্রিয়ায় আরোহের মূল বৈশিষ্ট্য অর্থাৎ 'আরোহমূলক লম্ফ' অনুপস্থিত থাকে, তাকে অপ্রকৃত আরোহ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে আরোহ প্রক্রিয়ায় একটি সার্বিক যুক্তিবাক্যের অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি বিশেষ দৃষ্টান্তকে একে একে পর্যবেক্ষণ বা পরীক্ষা করে একটি সার্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, তাকে পূর্ণাঙ্গ আরোহ (বা নিখুঁত আরোহ) বলে। যেমন— একটি ঝুড়ির প্রতিটি আম পরীক্ষা করে বলা হলো, 'এই ঝুড়ির সব আম মিষ্টি'। এতে আরোহমূলক লম্ফ অনুপস্থিত থাকে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত আরোহানুমানটি হলো 'পূর্ণাঙ্গ আরোহ'। এর সাথে বৈজ্ঞানিক আরোহের প্রধান পার্থক্যগুলো নিচে দেওয়া হলো:

    ১. আরোহমূলক লম্ফ: বৈজ্ঞানিক আরোহে জ্ঞাত সত্য থেকে অজ্ঞাত সত্যে যাওয়ার একটি 'আরোহমূলক লম্ফ' থাকে, কিন্তু উদ্দীপকের পূর্ণাঙ্গ আরোহে বাক্সের ১০টি কলমই প্রত্যক্ষ করা হয়েছে বলে এতে কোনো আরোহমূলক লম্ফ নেই।
    ২. প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়ম: বৈজ্ঞানিক আরোহ প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা ও কার্যকারণ নিয়মের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। পক্ষান্তরে, পূর্ণাঙ্গ আরোহে কেবল অভিজ্ঞতার মাধ্যমে সব দৃষ্টান্ত গণনা করা হয়, কোনো কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয় করা হয় না।
    ৩. সার্বিক সংশ্লেষক বাক্য গঠন: বৈজ্ঞানিক আরোহে একটি প্রকৃত সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ আরোহের সিদ্ধান্ত মূলত জানা বিষয়ের একটি সংক্ষিপ্ত সমষ্টিমাত্র, নতুন কোনো তথ্যের উদ্ভাবন করে না।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের আরোহানুমানটিকে যথার্থ বা প্রকৃত আরোহ বলা যায় না। যুক্তিবিদ মিলের মতে, এটি একটি অপ্রকৃত আরোহের (পূর্ণাঙ্গ আরোহ) দৃষ্টান্ত। নিচে আমার মতামত তুলে ধরা হলো:

    ১. আরোহমূলক লম্ফের অভাব: প্রকৃত আরোহের প্রধান ও অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য হলো 'আরোহমূলক লম্ফ' (Inductive Leap)— অর্থাৎ জানা থেকে অজানায়, দৃষ্ট থেকে অদৃষ্টে পদার্পণ করা। উদ্দীপকে মুহিব বাক্সের ১০টি কলমের প্রত্যেকটি আলাদাভাবে পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখানে কোনো অজ্ঞাত সত্যে উত্তরণ ঘটেনি।
    ২. নতুন জ্ঞানের অনুপস্থিতি: যথার্থ আরোহে আমরা কিছু দৃষ্টান্ত দেখে সমুদয় ক্ষেত্র সম্পর্কে নতুন জ্ঞানে পৌঁছাই। কিন্তু মুহিবের ক্ষেত্রে পূর্বে জানা ১০টি বিষয়েরই পুনরাবৃত্তি ঘটেছে মাত্র, কোনো নতুন জ্ঞান অর্জিত হয়নি।
    ৩. কার্যকারণ সম্পর্কের অনুপস্থিতি: যথার্থ আরোহে কার্যকারণ সম্বন্ধ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা থাকে, যা উদ্দীপকের প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। এটি কেবল একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা বা সমষ্টি মাত্র।

    সুতরাং, আরোহের মূল প্রাণ অর্থাৎ আরোহমূলক লম্ফ না থাকায় উদ্দীপকের আরোহানুমানটিকে কোনোভাবেই যথার্থ আরোহ বলা যায় না; এটি মূলত একটি অপ্রকৃত আরোহ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন