পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৯
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
সিঙ্গাপুরের নাগরিক সাত বছরের সুহানা তার বাবার সাথে জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশে আসে। একটি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে সে ভোট দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে। বিভিন্ন কারণে ভোট দিতে না পারলেও ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ তাদের মুগ্ধ করে ।
- ক)(1)
সার্ক-এর সর্বশেষ সদস্য রাষ্ট্র কোনটি?
- খ)(2)
জলবায়ু পরিবর্তনের দুটি কারণ লিখ
- গ)(3)
সুহানার ভোট দিতে না পারার কারণগুলো ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত বলে তুমি মনে কর?
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সার্ক-এর সর্বশেষ সদস্য রাষ্ট্র আফগানিস্তান।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রধান দুটি কারণ নিচে উল্লেখ করা হলো:
১. জীবাশ্ম জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যবহার: কলকারখানা, যানবাহন এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লা, খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের মতো জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে বায়ুমণ্ডলে প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গত হয়।
২. নির্বিচারে বন উজাড়করণ (Deforestation): বৃক্ষ বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে। কিন্তু কৃষিজমি সম্প্রসারণ ও নগরায়নের জন্য ব্যাপক হারে গাছপালা কেটে ফেলার ফলে বাতাসে গ্রিনহাউস গ্যাসের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে বৈশ্বিক উষ্ণতা তথা জলবায়ু পরিবর্তন ত্বরান্বিত হচ্ছে। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত সুহানার ভোট দিতে না পারার মূল কারণ হলো ভোটাধিকার অর্জনের সাংবিধানিক ও আইনি শর্ত পূরণ না করা।
বাংলাদেশ সংবিধানের ১২২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হলে একজন ব্যক্তিকে অবশ্যই:
১. বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে;
২. বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে;
৩. উপযুক্ত আদালত কর্তৃক অপ্রকৃতিস্থ বা মানসিক ভারসাম্যহীন ঘোষিত না হওয়া; এবং
৪. ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকা আবশ্যক।উদ্দীপকের সুহানা মূলত সিঙ্গাপুরের নাগরিক, সে বাংলাদেশের নাগরিক নয়। উপরন্তু তার বয়স মাত্র সাত বছর, যা ভোটদানের জন্য নির্ধারিত ন্যূনতম বয়স (১৮ বছর)-এর অনেক কম। সে বাংলাদেশের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তও নয়। সুতরাং, ভিনদেশি নাগরিক হওয়া এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার কারণেই সুহানা বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে পারেনি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা ও পরিবেশ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। আমার মতে, এর জন্য নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা উচিত:
১. স্বাধীন ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠন: নির্বাচন কমিশনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত, সৎ, যোগ্য ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের দ্বারা গঠন করতে হবে এবং সাংবিধানিকভাবে কমিশনকে পূর্ণ প্রশাসনিক ও আর্থিক স্বাধীনতা দিতে হবে।
২. নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তী প্রশাসন বা তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা: নির্বাচনকালীন সময়ে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা রক্ষায় সরকারের অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।
৩. নির্ভুল ও স্বচ্ছ ভোটার তালিকা প্রণয়ন: নিয়মিত ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা এবং জাল ভোট প্রতিরোধে বায়োমেট্রিক ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা।
৪. আচরণবিধির কঠোর প্রয়োগ: নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনকারী প্রার্থী বা দলের বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে তাত্ক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
৫. আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষতা: নির্বাচনে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে যেন ভোটাররা নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন।
৬. গণমাধ্যম ও পর্যবেক্ষকদের পূর্ণ স্বাধীনতা: স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এবং সাংবাদিকদের অবাধে ভোট পর্যবেক্ষণ ও তথ্য প্রকাশের সুযোগ প্রদান করতে হবে।
৭. কালো টাকা ও পেশিশক্তির ব্যবহার রোধ: নির্বাচনে অর্থের অপব্যবহার ও অস্ত্রধারীদের প্রভাব সম্পূর্ণ দমন করতে হবে।পরিশেষে বলা যায়, উপরোক্ত পদক্ষেপসমূহ বাস্তবায়িত হলে জনগণের মতামতের সঠিক প্রতিফলন ঘটবে এবং নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও