অর্থনীতি ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৭
অর্থনীতি ১ম পত্র প্রশ্ন
মি. X এবং তার ১০ জন বন্ধু মিলে গার্মেন্টস ব্যবসা শুরু করলো। প্রত্যেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ মূলধন প্রদান করেছে এবং তাদের মধ্যে চুক্তি হলো তারা কেউ নিজ শেয়ার অন্য কাউকে বিক্রি বা হস্তান্তর করবে না এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করবে; কিন্তু মি. X তার শেয়ার তার বড় ভাইকে বিক্রি করে দেয়াতে অন্য বন্ধুরা সরকারি অনুমোদন নিয়ে কোম্পানি আইন অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানকে নতুনভাবে নিবন্ধন করলো। তারা প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিল।
- ক)(1)
সংগঠক কাকে বলে?
- খ)(2)
সমবায় কোন অর্থের একমালিকানা কারবার থেকে পৃথক?
- গ)(3)
উদ্দীপকের বর্ণিত প্রতিষ্ঠানটি প্রথম অবস্থায় কোন ধরনের সংগঠনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানটি কোন ধরনের সংগঠন যুক্তিসহ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উৎপাদনের উপাদানসমূহকে (ভূমি, শ্রম ও মূলধন) একত্রিত করে ব্যবসায়িক ঝুঁকি গ্রহণপূর্বক উৎপাদন পরিচালনা ও সমন্বয়কারী ব্যক্তিকে সংগঠক বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
গঠনপ্রকৃতি, সদস্য সংখ্যা, উদ্দেশ্য এবং আইনগত ভিত্তির দিক থেকে সমবায় সমিতি একমালিকানা কারবার থেকে সম্পূর্ণ পৃথক।
একমালিকানা কারবার একজনমাত্র ব্যক্তির একক পুঁজি, ঝুঁকি ও নিয়ন্ত্রণে একক মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে গঠিত হয় এবং এর জন্য কোনো বিশেষ আইনের বাধ্যবাধকতা নেই। অন্যদিকে, সমবায় সমিতি নিম্নবিত্ত বা সমশ্রেণির মানুষের পারস্পরিক অর্থনৈতিক কল্যাণ ও সহযোগিতার উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট সমবায় আইনের আওতায় অন্তত ২০ জন সদস্য নিয়ে গঠিত হয়। তাই উদ্দেশ্যের দিক থেকে মুনাফার চেয়ে সেবাই সমবায়ের মূল বৈশিষ্ট্য, যা এটিকে একমালিকানা থেকে পৃথক করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রথম অবস্থার প্রতিষ্ঠানটি একটি 'অংশীদারি কারবার'-এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
১৯৩২ সালের ভারতীয় অংশীদারি আইন অনুসারে, দুই বা ততোধিক ব্যক্তি চুক্তির ভিত্তিতে পারস্পরিক মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে যে ব্যবসা গড়ে তোলে, তাকে অংশীদারি কারবার বলে। অংশীদারি কারবারের সাধারণ সদস্য সংখ্যা সর্বনিম্ন ২ জন এবং সর্বোচ্চ ২০ জন (ব্যাংকিং ব্যবসায়ে সর্বোচ্চ ১০ জন)। অংশীদারি ব্যবসায়ের মূল ভিত্তি হলো চুক্তি এবং এতে অন্য অংশীদারদের সম্মতি ছাড়া কোনো অংশীদার তার শেয়ার বা অংশ অন্য কারও কাছে হস্তান্তর করতে পারে না।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. X এবং তার ১০ জন বন্ধু মিলে (মোট ১১ জন সদস্য) একটি গার্মেন্টস ব্যবসা শুরু করে, যা অংশীদারি কারবারের সদস্য সংখ্যার নিয়মের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। তারা প্রত্যেকে মূলধন দেয় এবং চুক্তিবদ্ধ হয় যে কেউ নিজ শেয়ার হস্তান্তর করবে না। কিন্তু মি. X চুক্তি ভঙ্গ করে নিজের শেয়ার বড় ভাইয়ের কাছে বিক্রি করায় বিরোধের সৃষ্টি হয়। শেয়ারের হস্তান্তর-অযোগ্যতা এবং চুক্তিনির্ভর পরিচালনার এই বৈশিষ্ট্যগুলো প্রথম অবস্থার প্রতিষ্ঠানটিকে স্পষ্টভাবে একটি অংশীদারি সংগঠন হিসেবে প্রমাণ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানটি একটি ‘পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি’ (যৌথ মূলধনী কোম্পানি) সংগঠন।
কোম্পানি আইন (যেমন: ১৯৯৪ সালের বাংলাদেশ কোম্পানি আইন) অনুযায়ী, আইনগত ব্যক্তিস্বত্বাবিশিষ্ট, কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তা ও চিরন্তন অস্তিত্বের অধিকারী এবং জনসাধারণের কাছে শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি বলে।
নিম্নোক্ত যুক্তির ভিত্তিতে পরিবর্তিত প্রতিষ্ঠানটিকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে চিহ্নিত করা যায়:
১. সরকারি অনুমোদন ও আইনগত নিবন্ধন: উদ্দীপকে দেখা যায়, বন্ধুরা সরকারি অনুমোদন নিয়ে দেশের কোম্পানি আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে নতুনভাবে নিবন্ধন করেছে, যা যৌথ মূলধনী ব্যবসায়ের আবশ্যিক শর্ত।
২. শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ: প্রতিষ্ঠানটি জনসাধারণের কাছে শেয়ার বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি কখনো সাধারণ জনগণের কাছে শেয়ার বিক্রি করতে পারে না, কেবল পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিই বিবরণপত্র প্রকাশের মাধ্যমে শেয়ার বিক্রি করে মূলধন সংগ্রহ করতে পারে।
৩. অবাধ শেয়ার হস্তান্তরযোগ্যতা: অংশীদারি প্রতিষ্ঠানে শেয়ার বিক্রির নিষেধাজ্ঞা ও জটিলতা থেকে মুক্তি পেতেই তারা এই রূপান্তর ঘটায়। পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির শেয়ার অবাধে হস্তান্তরযোগ্য।অতএব, কোম্পানি আইনের অধীনে নিবন্ধন এবং সাধারণ শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহের অধিকার অর্জন করায় পরিবর্তিত প্রতিষ্ঠানটি নিশ্চিতভাবেই একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও