বাংলা ১ম পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

দিন কাটিয়া যায়। জীবন অতিবাহিত হয়। ঋতুচক্রে সময় পাক খায়। পদ্মার ভাঙন-ধরা মাটি ধসিতে থাকে, পদ্মার বুকে জল ভেদ করিয়া জাগিয়া ওঠে চর। অর্ধ-শতাব্দীর বিস্তীর্ণ চর পদ্মার ভালে আবার বিলীন হইয়া যায়। জেলে পাড়ার শিশুর ক্রন্দন কোনোদিন বন্ধ হয় না। ক্ষুধা-তৃষ্ণার দেবতা, হাসি কান্নার দেবতা, অন্ধকার আত্মার দেবতা – ইহাদের পূজা কোনোদিন সাঙ্গ হয় না ।

  1. ক)

    'লালসালু' উপন্যাসটি প্রথম কত সালে প্রকাশিত হয়?

    (1)
  2. খ)

    "বিশ্বাসের, পাথরে যেন খোদাই সে চোখ।” – উক্তিটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সাথে 'লালসালু' উপন্যাসে বর্ণিত কোন অঞ্চলের কীরূপ সাদৃশ্য পাওয়া যায়, ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপকটি 'লালসালু' উপন্যাসের ভূমিকা অংশের সামান্য রূপায়ণ মাত্র।" — মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'লালসালু' উপন্যাসটি প্রথম ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উক্তিটি দ্বারা মজিদের চোখের স্থিরতা, অপ্রতিরোধ্য আত্মবিশ্বাস এবং অপরকে বশ ও বিভ্রান্ত করার তীক্ষ্ণ ক্ষমতাকে বোঝানো হয়েছে।

    'লালসালু' উপন্যাসে মজিদ যখন মহব্বতনগর গ্রামে প্রবেশ করে মোদাচ্ছের পীরের ভুয়া মাজার প্রতিষ্ঠা করে, তখন তার চাহনি ও চেহারায় এক ধরনের কৃত্রিম অথচ অলঙ্ঘনীয় ভাবমূর্তি ফুটে ওঠে। তার চোখে ছিল দৃঢ় প্রত্যয় ও কপট ধার্মিকতার এমন এক পাথুরে কাঠিন্য, যার সামনে সাধারণ ধর্মভীরু ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন গ্রামবাসী সহজেই কুঁকড়ে যেত এবং তার কথাকে অভ্রান্ত সত্য বলে মেনে নিতে বাধ্য হতো।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সাথে 'লালসালু' উপন্যাসে বর্ণিত মজিদের আদি বাসস্থান বা নোয়াখালী অঞ্চলের প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা ও অভাব-অনটনপীড়িত জীবনের সাদৃশ্য পাওয়া যায়।

    উদ্দীপকে পদ্মাপাড়ের ভাঙন, চরের সৃষ্টি ও বিলীন হওয়া, জেলেপাড়ার শিশুদের কান্না এবং ক্ষুধা-তৃষ্ণার অনন্ত হাহাকারের মতো কঠোর জীবনসংগ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। নদীভাঙা ও নিঃস্ব মানুষের বেঁচে থাকার চিরন্তন লড়াই এখানে মুখ্য।

    'লালসালু' উপন্যাসের সূচনাতেও দেখা যায় মজিদের আদি বাসস্থান একটি শস্যহীন, অনুর্বর এবং নদীভাঙা অঞ্চল। সেখানে বাঁচার তাগিদে মানুষ ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের সঙ্গে নিত্য লড়াই করে। সে অঞ্চলে 'শস্যের চেয়ে টুপি বেশি, ধর্মের আগাছা বেশি' হলেও মানুষের পেটে অন্ন জোটে না। উদ্দীপকের পদ্মার চরাঞ্চলের সংগ্রামী ও ক্ষুধার্ত মানুষের মতো লালসালুর সূচনার অঞ্চলের মানুষেরাও প্রকৃতির রুদ্ররূপ ও অনাহারের শিকার হয়ে দেশান্তরী হতে বাধ্য হয়। তাই প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও অভাবক্লিষ্ট জীবনের দিক থেকে উদ্দীপকটি উপন্যাসের বর্ণিত অঞ্চলের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “উদ্দীপকটি 'লালসালু' উপন্যাসের ভূমিকা অংশের সামান্য রূপায়ণ মাত্র” — মন্তব্যটি যথার্থ।

    'লালসালু' উপন্যাসের সূচনায় ঔপন্যাসিক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ মজিদের আদি অঞ্চল অর্থাৎ পূর্ববঙ্গের শস্যহীন, অনাহারক্লিষ্ট ও ভাগ্যান্বেষণে দেশত্যাগী মানুষের জীবনের এক করুণ পটভূমি তুলে ধরেছেন। সেই অঞ্চলের মানুষ তীব্র ক্ষুধার তাড়নায় এবং প্রকৃতির নিষ্ঠুরতায় জীবিকার খোঁজে দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে পড়ে। মজিদও তেমনি এক অঞ্চল থেকে জীবিকার অন্বেষণে মহব্বতনগর গ্রামে এসে ধর্মব্যবসার জাল বিস্তার করে। উদ্দীপকে পদ্মার ভাঙন, চরের ভাঙা-গড়া এবং ক্ষুধা-তৃষ্ণার দেবতার পূজার মধ্য দিয়ে মানুষের বেঁচে থাকার আদিম ও চিরন্তন হাহাকার চিত্রিত হয়েছে, যা উপন্যাসের সূচনায় বর্ণিত পশ্চাৎভূমির রূপকেই প্রতিফলিত করে।

    তবে 'লালসালু' উপন্যাসের মূল কাহিনী বা মূল বক্তব্য কেবল ক্ষুধা আর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে সীমাবদ্ধ নয়। উপন্যাসটির মূল উপজীব্য হলো ধর্মের নামে ভণ্ডামি, কুসংস্কার, গ্রামীণ ক্ষমতার রাজনীতি এবং সাধারণ মানুষের অন্ধবিশ্বাসকে পুঁজি করে মজিদের কায়েম করা কর্তৃত্ব ও শোষণ। উপন্যাসের মূল অংশে উন্মোচিত হয়েছে মজিদের আত্মদ্বন্দ্ব, জমিলার নীরব প্রতিবাদ, রহীমার অন্ধ আনুগত্য এবং ধর্মীয় আবরণে সমাজ শোষণের বাস্তব চালচিত্র। উদ্দীপকে উপন্যাসের সেই বৃহত্তর সমাজবাস্তবতা, ধর্মব্যবসা এবং মনস্তাত্ত্বিক সংঘাত অনুপস্থিত; সেখানে কেবল উপন্যাসের পটভূমি বা ভূমিকার অভাব-অনটনের সামান্য প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে।

    অতএব, সমগ্র উপন্যাসের ভাববস্তুর তুলনায় উদ্দীপকটি কেবল উপন্যাসের শুরুর অঞ্চলের প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক দুরবস্থার সীমিত রূপকে ধারণ করায় মন্তব্যটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন