অর্থনীতি ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৭
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
জানুয়ারি মাসের ১ম সপ্তাহে মমিনুল স্যার ঢাকা থেকে গাজীপুরের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নিতে যাওয়ার সময় ব্যাগে কিছু নাস্তা ও দুইটি কমলা নিয়ে যান। পথিমধ্যে নাস্তা ও একটি কমলা খেলেও ভুলক্রমে ব্যাগ একটি কমলা থেকে যায়। প্রায় একমাস পর ব্যাগ পরিষ্কার করতে গিয়ে দেখেন ব্যাগের কমলাটি না পঁচে প্রায় পূর্বের মতই রয়েছে।
- ক)(1)
ভেজাল খাদ্য কী?
- খ)(2)
খাদ্য প্রাপ্যতাই কি খাদ্য নিরাপত্তার জন্য যথেষ্ট?
- গ)(3)
মমিনুল স্যারের ব্যাগের কমলাটি পূর্বের ন্যায় থাকল কীভাবে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের ঘটনা নিরাপদ খাদ্য ধারণাকে সমর্থন করে কি? তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্বাভাবিক খাদ্যদ্রব্যে কোনো নিম্নমানের, ক্ষতিকর বা কৃত্রিম অপদ্রব্য মেশানোকে অথবা খাদ্য থেকে কোনো পুষ্টিকর উপাদান অপসারণ করাকে ভেজাল খাদ্য বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
না, শুধু খাদ্য প্রাপ্যতাই খাদ্য নিরাপত্তার জন্য যথেষ্ট নয়। খাদ্য নিরাপত্তার সংজ্ঞায় তিনটি প্রধান মাত্রা রয়েছে: খাদ্যের প্রাপ্যতা (Availability), খাদ্যের ক্রয়ক্ষমতা বা প্রাপ্তিসাধ্যতা (Accessibility), এবং খাদ্যের সঠিক ব্যবহার ও পুষ্টিমান (Utilization)। দেশে পর্যাপ্ত খাদ্য থাকলেও যদি জনগণের তা কেনার সামর্থ্য না থাকে কিংবা খাদ্যটি পুষ্টিকর ও নিরাপদ না হয়, তবে সার্বিক খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মমিনুল স্যারের ব্যাগের কমলাটি দীর্ঘ এক মাস পরও না পঁচে পূর্বের ন্যায় থাকার মূল কারণ হলো তাতে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ বা সংরক্ষক (যেমন: ফরমালিন) ব্যবহার করা হয়েছিল।
সাধারণত স্বাভাবিক অবস্থায় কমলা বা যেকোনো তাজা ফল কিছুদিন পরই ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের আক্রমণে পচে যায়। কিন্তু অসাধু ব্যবসায়ীরা ফল দীর্ঘদিন সতেজ ও আকর্ষণীয় রাখার জন্য এবং পচন রোধ করার জন্য ফরমালিন ও বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্য স্প্রে করে বা চুবিয়ে রাখে। এ ধরনের বিষাক্ত প্রিজারভেটিভ ফলের কোষগুলোর ব্যাকটেরিয়াজনিত পচনশীল প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়। ফলে স্বাভাবিক পচন না ঘটে মমিনুল স্যারের ব্যাগের কমলাটি প্রায় এক মাস পরেও সতেজ ও অবিকৃত অবস্থায় থেকে যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ঘটনাটি নিরাপদ খাদ্য ধারণাকে কোনোভাবেই সমর্থন করে না; বরং এটি নিরাপদ খাদ্যের ধারণার চরম পরিপন্থি।
নিরাপদ খাদ্য বলতে এমন খাদ্যকে বোঝায় যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য কোনো প্রকার ক্ষতিকর নয়, বিষাক্ত রাসায়নিক বা ভেজালমুক্ত এবং পর্যাপ্ত পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ। নিরাপদ খাদ্যের অন্যতম পূর্বশর্ত হলো খাদ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে বিপণন পর্যন্ত ক্ষতিকর রাসায়নিকের ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকা।
উদ্দীপকে দেখা যায়, কমলাটি এক মাস পরও সাধারণ তাপমাত্রায় না পচে পূর্বের মতোই থেকে গেছে, যা স্পষ্টতই প্রমাণ করে এতে উচ্চমাত্রার রাসায়নিক পদার্থ বা ফরমালিন ব্যবহার করা হয়েছিল। আপাতদৃষ্টিতে ফলটি সতেজ দেখালেও তা স্বাস্থ্যসম্মত নয়। ফরমালিন ও অন্যান্য বিষাক্ত রাসায়নিকযুক্ত ফল খেলে মানবদেহে লিভার, কিডনি বিকল হওয়া, পেটের নানা পীড়া এবং ক্যান্সারের মতো জটিল ও প্রাণঘাতী রোগের সৃষ্টি হয়।
অতএব, বাহ্যিক সতেজতা নিরাপদ খাদ্যের মাপকাঠি নয়; কৃত্রিম রাসায়নিকের মাধ্যমে খাদ্য সংরক্ষণ মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় উদ্দীপকের ঘটনাটি নিরাপদ খাদ্যের ধারণার সম্পূর্ণ বিপরীত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও