বাংলা ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

শ্যামচুর গ্রাম থেকে শহর অকেটা দূরে অবস্থিত। প্রকৃতি উদার হাতে এ অঞ্চলের মানুষকে শস্যে ও সম্পদে সুখী রেখেছে। এ অঞ্চলের মানুষের দিন কাটে ফসলের খেতে, গৃহস্থালি কাজে, হাসি-উৎসব ও প্রচলিত বিশ্বাসে। এ গ্রামের মাতব্বর মেহের আলীর বাড়িতে এক পড়ন্ত বিকালে রহমত মিয়া নামে এক অচেনা এক দরবেশের আগমন। দুর্গম পথ পার হয়ে আসা রহমত মিয়ার চোখে-মুখে নানা শঙ্কা, উদ্বেগ ও স্বপ্নের বিচিত্র আভাস। সকলের সামনে সে নিজেকে পীর হিসেবে পরিচয় দিয়ে নানা রকম অলৌকিক কর্মকাণ্ডের গল্প বলতে শুরু করে।

  1. ক)

    আওয়ালপুরের পীর সাহেবের প্রধান মুরিদ কে?

    (1)
  2. খ)

    তাহেরের বাপ নিরুদ্দেশ হয়ে যায় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের রহমত মিয়া ও লালসালু' উপন্যাসের মজিদ আত্মপরিচয়দানে ও আত্মপ্রকাশে কতটা অভিন্ন? আলোচনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপকের গ্রাম্যজীবন যেন 'লালসালু' উপন্যাসের গ্রাম্যজীবনের খণ্ডিতরূপ।”- এ মন্তব্য কতটা যৌক্তিক? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আওয়ালপুরের পীর সাহেবের প্রধান মুরিদ হলো মতিগঞ্জের সওদাগর (বা বিত্তশালী ব্যাপারী)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পারিবারিক কলহ এবং আত্মমর্যাদার চরম অপমানে তাহেরের বাপ নিরুদ্দেশ হয়ে যায়।

    তাহেরের বাপের সাথে তার স্ত্রীর ক্রমাগত বিবাদ লেগে থাকত। একপর্যায়ে তাহের ও কাদেরের মা তাদের বাবার বিরুদ্ধে মজিদের কাছে নালিশ জানায়। বিচারে মজিদ বৃদ্ধ তাহেরের বাপকে এমনভাবে অপদস্থ করে এবং তার ব্যক্তিত্বকে হেয় প্রতিপন্ন করে যে, তীব্র মানসিক গ্লানি, লজ্জা ও ক্ষোভে সে গভীর রাতে গোপনে বাড়ি ছেড়ে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের রহমত মিয়া ও সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ উভয়ই প্রতারণা ও ধর্মব্যবসার উদ্দেশ্যে আত্মপরিচয় ও আত্মপ্রকাশে সম্পূর্ণ অভিন্ন।

    'লালসালু' উপন্যাসে দেখা যায়, মজিদ ভাগ্যান্বেষণে অপরিচিত মহব্বতনগর গ্রামে এসে নাটকীয়ভাবে আত্মপ্রকাশ করে। সে নিজেকে এক বিশেষ ধর্মীয় সাধক হিসেবে উপস্থাপন করে এবং মোদাচ্ছের পীরের মাজারের খাদেম দাবি করে মানুষের সরল ধর্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে নিজের অস্তিত্ব প্রতিষ্ঠা করে। ক্ষুধার তাড়নায় আসা মজিদ তার অতীত পরিচয় গোপন রেখে আত্মপ্রকাশের মাধ্যমে ক্ষমতাবান হয়ে ওঠে।

    উদ্দীপকের রহমত মিয়াও একইভাবে দুর্গম পথ অতিক্রম করে অচেনা শ্যামচুর গ্রামে মেহের আলীর বাড়িতে এসে নিজেকে পীর হিসেবে পরিচয় দেয়। সে অলৌকিক কর্মকাণ্ডের গল্প বলে গ্রামের সহজ-সরল মানুষকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। নিজের শঙ্কা ও উদ্বেগকে আড়াল করে ধর্মের মুখোশ পরে আত্মপরিচয় নির্মাণ করার দিক থেকে রহমত মিয়া ও মজিদ চরিত্র দুটি পরস্পর অভিন্ন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “উদ্দীপকের গ্রাম্যজীবন যেন 'লালসালু' উপন্যাসের গ্রাম্যজীবনের খণ্ডিতরূপ।”— মন্তব্যটি যথার্থ ও যৌক্তিক।

    'লালসালু' উপন্যাসে গ্রামীণ জনজীবনের একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র অঙ্কিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে প্রকৃতির অনুগ্রহ, ফসলের প্রাচুর্য, মানুষের অন্ধ ধর্মবিশ্বাস, কুসংস্কার, ভীতি এবং ধর্মের নামে শোষণের জটিল সামাজিক বাস্তবতা। মহব্বতনগরের মানুষ একদিকে যেমন ধর্মপ্রাণ ও পরিশ্রমী, অন্যদিকে তারা ভয় ও পাপবোধে আচ্ছন্ন, যা মজিদের আধিপত্যের প্রধান ভিত্তি।

    উদ্দীপকের শ্যামচুর গ্রামের চিত্রে দেখা যায় ফসলের মাঠ, গ্রামীণ কাজকর্ম, উৎসব-আনন্দ এবং প্রকৃতির প্রাচুর্যে ভরা এক সহজ-সরল সুখী জীবন। এই চিত্রটি 'লালসালু' উপন্যাসের মহব্বতনগরের মানুষের সরলতা ও কৃষিনির্ভর জীবনের একটি অংশের সাথে মিলে যায়। তবে 'লালসালু'তে সহজ জীবনের পাশাপাশি মাজারকেন্দ্রিক ভয়, ধর্মীয় ভণ্ডামি, নৈতিক স্খলন, নারীর নিপীড়ন এবং সচেতন মানুষের সংকটের যে গভীর ও সামগ্রিক সামাজিক দ্বন্দ্ব রয়েছে, উদ্দীপকে তা পুরোপুরি আসেনি। উদ্দীপকে কেবল অলৌকিকতায় বিশ্বাসী সহজ-সরল গ্রামীণ জীবনের সূচনাটুকুই দেখানো হয়েছে।

    অতএব, গ্রামীণ জীবনের বহুস্তরীয় দ্বন্দ্ব ও শোষণের সামগ্রিক চিত্র অনুপস্থিত থাকায় উদ্দীপকের শ্যামচুর গ্রামের জীবনকে 'লালসালু'র গ্রাম্যজীবনের খণ্ডিতরূপ বলা সম্পূর্ণ যুক্তিসঙ্গত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন