‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৩

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

'X' রাষ্ট্রের একটি অঞ্চল স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকেই আশা করছিল তাদের অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নতি সাধন হবে। কিন্তু তারা শাসকশ্রেণীর শোষণের শিকার হয়। একপর্যায়ে তাদের এক সম্মোহনী নেতা একটি কর্মসূচি পেশ করেন। যাতে তার অঞ্চলের জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি, স্বাধীকারের কথা বলা হয়। পরবর্তীতে এই নেতার মাধ্যমে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের আবির্ভাব হয়। স্বাধীনতা অর্জনের এক বছরের মধ্যেই তিনি জাতিকে একটি লিখিত সুস্পষ্ট নীতিমালা উপহার দেন, যার মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনা হবে।

  1. ক)

    মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়?

    (1)
  2. খ)

    রাষ্ট্র প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    লিখিত সুস্পষ্ট নীতিমালা দ্বারা তোমার পাঠ্য বইয়ের কোন বিষয়কে বোঝানো হয়েছে? এর বৈশিষ্ট্য গুলো ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত "কর্মসূচি ছিল সমগ্র বাঙালি বাঁচার দাবি"-বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে মোট ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রাষ্ট্র প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধা বলতে বোঝায় নাগরিকের ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশ ও সুন্দর জীবনযাপনের জন্য রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও সংরক্ষিত অধিকারসমূহ।
    নাগরিকদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং আইনের দৃষ্টিতে সমতার মতো মৌলিক সুযোগ-সুবিধা রাষ্ট্র নিশ্চিত করে। এসব অধিকার ভোগ করার মাধ্যমেই ব্যক্তি সমাজে মর্যাদা ও যোগ্যতার সাথে বসবাস করতে পারে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে স্বাধীনতা অর্জনের এক বছরের মধ্যে জাতিকে দেওয়া 'লিখিত সুস্পষ্ট নীতিমালা' দ্বারা ১৯৭২ সালের 'বাংলাদেশের সংবিধান'-কে বোঝানো হয়েছে।

    ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর এই সংবিধান গৃহীত হয় এবং ১৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে আলোচনা করা হলো:
    ১. লিখিত ও দুষ্পরিবর্তনীয়: এটি একটি পূর্ণাঙ্গ লিখিত দলিল। এর যেকোনো ধারা পরিবর্তনের জন্য জাতীয় সংসদের মোট সদস্যের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন হয়।
    ২. রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি: সংবিধানে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা—এই চারটি মূলনীতি ঘোষণা করা হয়।
    ৩. মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা: সংবিধানে নাগরিকদের জীবনধারণ, চলাফেরা, সমাবেশ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সহ মৌলিক অধিকারসমূহ সুরক্ষিত করা হয়েছে।
    ৪. সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা: এতে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রীপরিষদ শাসিত বা সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়।
    ৫. এককেন্দ্রীক রাষ্ট্র ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা: বাংলাদেশকে একটি একক রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত কর্মসূচিটি হলো ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক 'ছয় দফা কর্মসূচি'। এই কর্মসূচি বাস্তবিক অর্থেই ছিল বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ বা বাঁচার দাবি।

    ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর থেকেই পূর্ব পাকিস্তান পশ্চিম পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক বৈষম্যের শিকার হতে থাকে। বাঙালিরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় ক্ষমতায় তাদের প্রভাব ছিল নগণ্য। জাতীয় আয়ের সিংহভাগ পশ্চিম পাকিস্তানে ব্যয় করা হতো এবং পূর্ব পাকিস্তান থেকে সম্পদ পাচার করা হতো।

    এই শোষণ ও বৈষম্য থেকে মুক্তির লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে ছয় দফা কর্মসূচি উত্থাপন করেন। ছয় দফার মাধ্যমে তিনি পূর্ব পাকিস্তানের জন্য পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন, পৃথক মুদ্রা বা ব্যাংকিং ব্যবস্থা, নিজস্ব রাজস্ব আদায় ও কর ধার্যের ক্ষমতা এবং আধা-সামরিক বাহিনী গঠনের দাবি জানান। এটি কেবল একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না; বরং তা ছিল বাঙালির অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অস্তিত্ব রক্ষার দলিল।

    পরবর্তীতে এই ছয় দফাকে কেন্দ্র করেই বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন বেগবান হয়, যার ধারাবাহিকতায় ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচন এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। সুতরাং, এই কর্মসূচি ছিল সমগ্র বাঙালির বাঁচার প্রকৃত দাবি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন