মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮

মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    নিউরন কী?

    (1)
  2. খ)

    লালাগ্রন্থিকে বহিঃক্ষরা গ্রন্থি বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে চিত্র-১ এর X গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন সম্পর্কে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    ব্যক্তিত্ব ও বুদ্ধি বিকাশে চিত্র-১ এবং চিত্র-২ কীভাবে ভূমিকা রাখে? এর তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    স্নায়ুতন্ত্রের গঠনমূলক ও কার্যকরী একককে নিউরন বা স্নায়ুকোষ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যেসব গ্রন্থির ক্ষরণ নালী বা নালিকার মাধ্যমে সরাসরি নির্দিষ্ট অঙ্গে বা লক্ষ্যস্থলে পৌঁছায়, সেগুলোকে বহিঃক্ষরা গ্রন্থি বা সনাল গ্রন্থি বলে। লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারস নিজস্ব নালির মাধ্যমে মুখগহ্বরে নিঃসৃত হয় এবং খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে। রক্তের মাধ্যমে এর ক্ষরণ পরিবাহিত হয় না। তাই লালাগ্রন্থিকে বহিঃক্ষরা গ্রন্থি বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চিত্র-১ এ 'X' চিহ্নিত গ্রন্থিটি হলো প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থি (Parathyroid gland), যা থাইরয়েড গ্রন্থির পৃষ্ঠদেশে অবস্থিত চারটি ক্ষুদ্র গ্রন্থি নিয়ে গঠিত।

    প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থি থেকে 'প্যারাথরমোন' (Parathormone বা PTH) নিঃসৃত হয়। এই হরমোনের প্রধান কাজ ও প্রভাব নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
    ১. ক্যালসিয়াম ও ফসফেটের ভারসাম্য রক্ষা: প্যারাথরমোন রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বাড়ায় এবং ফসফেটের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। এটি হাড় থেকে ক্যালসিয়াম মুক্ত করে রক্তে সরবরাহ করে এবং বৃক্কে ক্যালসিয়ামের পুনর্শোষণ বাড়ায়।
    ২. কম ক্ষরণের প্রভাব (Hypoparathyroidism): রক্তে প্যারাথরমোনের ঘাটতি দেখা দিলে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ কমে যায়, যার ফলে পেশির খিঁচুনি বা টিটেনি (Tetany) রোগ হয়। ব্যক্তি স্নায়ুবিক দুর্বলতা, অস্থিরতা এবং অবসাদ অনুভব করে।
    ৩. অতিরিক্ত ক্ষরণের প্রভাব (Hyperparathyroidism): প্যারাথরমোনের মাত্রাতিরিক্ত ক্ষরণে হাড় থেকে অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম রক্তে চলে আসে, ফলে হাড় ভঙ্গুর ও দুর্বল হয়ে পড়ে এবং বৃক্কে পাথর সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া ব্যক্তির আচরণে ক্লান্তিভাব ও উদাসীনতা দেখা দেয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চিত্র-১ হলো থাইরয়েড ও প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থি এবং চিত্র-২ হলো পিটুইটারি গ্রন্থি (মাস্টার গ্ল্যান্ড)। ব্যক্তিত্ব ও বুদ্ধির স্বাভাবিক বিকাশে এ দুটি অন্তঃখরা গ্রন্থির ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। নিচে এদের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে ভূমিকা:

    • থাইরয়েড গ্রন্থি (চিত্র-১): শৈশবে থাইরয়েড থেকে থাইরক্সিন হরমোনের কম ক্ষরণ হলে 'ক্রিটিনিজম' (Cretinism) নামক রোগ হয়। এর ফলে শিশুর শারীরিক বৃদ্ধির পাশাপাশি মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং শিশু চরম জড়বুদ্ধিসম্পন্ন হয়। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এর ঘাটতিতে 'মিক্সিডিমা' হয়, যার ফলে স্মৃতিশক্তি হ্রাস পায় ও চিন্তাশক্তি ধীরগতির হয়ে পড়ে।
    • পিটুইটারি গ্রন্থি (চিত্র-২): পিটুইটারি গ্রন্থি থাইরোট্রপিক হরমোন (TSH) ক্ষরণের মাধ্যমে থাইরয়েড গ্রন্থির কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে এটি পরোক্ষভাবে বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে সহায়তা করে। সরাসরি বুদ্ধিমত্তার তুলনায় সামগ্রিক শারীরিক ও স্নায়বিক সমন্বয় নিয়ন্ত্রণে এর প্রভাব বেশি।

    ২. ব্যক্তিত্বের ওপর প্রভাব:

    • চিত্র-১ (থাইরয়েড ও প্যারাথাইরয়েড): থাইরক্সিনের অতিরিক্ত ক্ষরণে ব্যক্তি খিটখিটে, অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ, অস্থির ও অনিদ্রাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। আবার কম ক্ষরণে অলস, উদ্যমহীন ও বিষাদগ্রস্ত ব্যক্তিত্ব তৈরি হয়। প্যারাথরমোনের ঘাটতি দেখা দিলে স্নায়ুবিক অস্থিরতা বাড়ে।
    • চিত্র-২ (পিটুইটারি গ্রন্থি): পিটুইটারি গ্রন্থি নিঃসৃত সোমাটোট্রপিক হরমোন বা বৃদ্ধি হরমোন (GH) শারীরিক উচ্চতা ও দৈহিক গঠন নিয়ন্ত্রণ করে। শৈশবে এর কম ক্ষরণে বামনত্ব (Dwarfism) এবং অতি ক্ষরণে অতিকায়ত্ব (Gigantism) বা এক্রোমেগালি ঘটে। অস্বাভাবিক শারীরিক গঠনের ফলে ব্যক্তির মধ্যে হীনম্মন্যতা তৈরি হতে পারে, যা সামাজিক অভিযোজন ও ব্যক্তিত্বের সুষ্ঠু বিকাশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

    পরিশেষে, পিটুইটারি গ্রন্থি অন্যান্য গ্রন্থির নিয়ামক হিসেবে এবং থাইরয়েড গ্রন্থি বিপাক ও মানসিক শক্তির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে বুদ্ধিমত্তা ও ব্যক্তিত্ব গঠনে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন