সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮

সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

মি. সোহেল চৌধুরী উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা ঘুস, দুর্নীতি ও অবৈধ অর্থ উপার্জনের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি তা করেন না। তিনি সততা ও নিষ্ঠার সাথে অফিসিয়াল ও ব্যক্তি জীবনের সকল দায়িত্ব পালন করেন এবং সহকর্মীদেরও খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকতে পরামর্শ দেন। ব্যক্তিজীবনে মি. সোহেল চৌধুরী নিজে সৎভাবে জীবনযাপন করেন। এজন্য তিনি সকলের কাছে নীতিবান ব্যক্তি হিসাবে পরিচিত।

  1. ক)

    জাতিবর্ণ প্রথা কী?

    (1)
  2. খ)

    সম্পত্তি বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের মি. সোহেল চৌধুরীর মধ্যে যে মানবিক গুণের প্রতিফলন। ঘটেছে তা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    সমাজজীবনে উক্ত গুণটির প্রভাব বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জাতিবর্ণ প্রথা (Caste system) হলো জন্মসূত্রে নির্ধারিত এবং অনমনীয় এমন একটি সামাজিক স্তরবিন্যাস ব্যবস্থা, যাতে ব্যক্তির মর্যাদা আজীবন অপরিবর্তনীয় থাকে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সম্পত্তি বলতে সাধারণত এমন বস্তুগত বা অবস্তুগত দ্রব্য ও অধিকারকে বোঝায়, যার ওপর ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর আইনগত মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ থাকে এবং যা হস্তান্তর বা ভোগ করা যায়। সমাজবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে সম্পত্তি কেবল বস্তু নয়, বরং এটি কোনো বস্তুর ওপর ব্যক্তির বিশেষ অধিকার বা সম্পর্কের সমষ্টি, যা সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের মি. সোহেল চৌধুরীর মধ্যে 'নৈতিকতা' বা 'সততা' নামক মানবিক গুণের প্রতিফলন ঘটেছে।

    নৈতিকতা হলো মানুষের বিবেকপ্রসূত বোধ, যা ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ এবং উচিত-অনুচিতের মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করে। এটি ব্যক্তির অভ্যন্তরীণ চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে অসৎ পথ থেকে দূরে রাখে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. সোহেল চৌধুরী উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও ঘুস, দুর্নীতি বা অবৈধ অর্থ উপার্জনের সুযোগ গ্রহণ করেন না। তিনি সততা ও নিষ্ঠার সাথে অফিশিয়াল ও ব্যক্তিগত দায়িত্ব পালন করেন এবং সহকর্মীদেরও অসৎ কাজ থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত করেন। তাঁর এই আচরণ সমাজবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে উচ্চ নৈতিক মূল্যবোধ ও সততার প্রতিফলন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সমাজজীবনে সততা ও নৈতিকতার মতো মানবিক গুণের প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী এবং ইতিবাচক। নিচে সমাজজীবনে উক্ত গুণটির প্রভাব বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা: সমাজে যখন ব্যক্তি ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা নৈতিক গুণে বলীয়ান হন, তখন ঘুস, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি দূর হয় এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়।
    ২. সামাজিক সংহতি ও শান্তি বজায় রাখা: নীতিবান মানুষের উপস্থিতি সমাজে পারস্পরিক বিশ্বাস ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধি করে, যার ফলে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হ্রাস পায় এবং সামাজিক শৃঙ্খলা অটুট থাকে।
    ৩. অর্থনৈতিক উন্নয়ন: দুর্নীতির অনুপস্থিতিতে রাষ্ট্রের সম্পদের সুষ্ঠু ও ন্যায়সংগত ব্যবহার সম্ভব হয়, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কল্যাণকে ত্বরান্বিত করে।
    ৪. অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত সৃষ্টি: উদ্দীপকের সোহেল চৌধুরীর মতো ব্যক্তিরা সমাজের অন্যদের, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম ও সহকর্মীদের ভালো কাজে অনুপ্রাণিত করেন।

    অতএব, একটি আদর্শ, শোষণমুক্ত ও সুশৃঙ্খল সমাজ বিনির্মাণে সততা ও নৈতিকতার ভূমিকা অপরিসীম।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন