বাংলা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

মেলান্দহ নদীর পাড় ঘেঁষে পাইনশাইল গ্রাম। গ্রামের দক্ষিণ পাড়ায় মিলিটারি ক্যাম্প। সবুর কমান্ডারের নেতৃত্বে ছাপ্পান্ন জন মুক্তিযোদ্ধা এক বর্ষণমুখর রাতে আক্রমণ চালায় মিলিটারি ক্যাম্পে। তিনদিক থেকে বিরতিহীন গুলি বর্ষণে দিশেহারা হয়ে পড়ে পাক-সেনার দল। নিতান্তই আত্মরক্ষার জন্য গুলি ছুঁড়ে তারা। একজন রাজাকার পাক কমান্ডারকে বলে, “গুলি না চালিয়ে চলেন পালাই।” কমান্ডারকে নিয়ে নদীপথে পালিয়ে প্রাণে বাঁচে সে। ততক্ষণে মিলিটারি ক্যাম্প সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত।

  1. ক)

    নবাব সিরাজউদ্দৌলার শ্বশুরের নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    'দেশপ্রেমিকের রক্ত যেন আবর্জনার স্তূপে চাপা না পড়ে।' সংলাপটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের রাজাকার ও কমান্ডার 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের কোন কোন চরিত্রের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ বিশ্লেষণ কর।

    (3)
  4. ঘ)

    “নবাব সিরাজউদ্দৌলার ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের মিলিটারি ক্যাম্প আক্রমণ একই প্রেরণা থেকে উৎসারিত।”— তোমার মতামত ব্যক্ত কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নবাব সিরাজউদ্দৌলার শ্বশুরের নাম ইরিচ খাঁ।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উক্তিটি দ্বারা দেশপ্রেমিক শহিদদের আত্মত্যাগ যেন স্বার্থপর দেশদ্রোহীদের কারণে বৃথা বা বিস্মৃত না হয়, সেই সতর্কবাণী প্রকাশ করা হয়েছে।

    'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে মীরমদন ও মোহনলালের মতো অকুতোভয় দেশপ্রেমিকদের আত্মত্যাগকে সম্মান জানাতে নবাব সিরাজউদ্দৌলা এ কথাটি বলেছেন। দেশমাতৃকার সেবায় যাঁরা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাঁদের সেই রক্ত ও অবদান যেন ক্ষমতার লোভী ও বিশ্বাসঘাতকদের চক্রান্তের অতলে হারিয়ে না যায়, বরং ইতিহাসে চিরভাস্বর হয়ে থাকে—এ উপলব্ধিতেই সংলাপটির অবতারণা করা হয়েছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের রাজাকার চরিত্রটি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের রাজবল্লভ, উমিচাঁদ বা মীর জাফরের মতো স্বার্থপর বিশ্বাসঘাতক চরিত্রের সঙ্গে এবং পাক কমান্ডার চরিত্রটি ইংরেজ সেনাপতি রজার ড্রেক বা হলওয়েলের মতো চরিত্রের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, মুক্তিযোদ্ধাদের তীব্র আক্রমণের মুখে রাজাকার ও পাক কমান্ডার নিজেদের জীবন বাঁচাতে কাপুরুষের মতো নদীপথে পালিয়ে যায়। এই রাজাকার দেশের সন্তান হয়েও দখলদার বাহিনীর সহযোগী এবং বিপদের মুখে আত্মস্বার্থপর পলায়নবাদী।

    'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ আক্রমণের সময়ে ইংরেজ গভর্নর ড্রেক দুর্গের সাধারণ সৈন্য ও কর্মচারীদের চরম বিপদের মুখে ফেলে পেছনের দরজা দিয়ে জাহাজে চড়ে পালিয়ে গিয়েছিল। একই সঙ্গে উমিচাঁদ ও মীর জাফরের মতো বিশ্বাসঘাতকরা ব্যক্তিগত সুবিধা আদায়ে মত্ত ছিল এবং সংকটকালে কেবল আত্মরক্ষার পথ খুঁজত। তাই উদ্দীপকের কাপুরুষ ও স্বার্থপর রাজাকার চরিত্রটি নাটকের বিশ্বাসঘাতকদের সঙ্গে এবং পাক কমান্ডার চরিত্রটি পালিয়ে যাওয়া ইংরেজ গভর্নর ড্রেকের চরিত্রের সঙ্গে সাদৃশ্য প্রকাশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “নবাব সিরাজউদ্দৌলার ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের মিলিটারি ক্যাম্প আক্রমণ একই প্রেরণা থেকে উৎসারিত।”— মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ।

    নবাব সিরাজউদ্দৌলা যখন সিংহাসনে আরোহণ করেন, তখন ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ, অবৈধ দুর্গ নির্মাণ এবং এদেশীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ শুরু করে। নবাব তাদের দমন ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার তাগিদে কলকাতায় ইংরেজদের শক্ত ঘাঁটি ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ আক্রমণ করে দখল করে নেন। এই আক্রমণের মূলে ছিল মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং দখলদার ও অত্যাচারী শক্তির আগ্রাসন প্রতিহত করার প্রেরণা।

    উদ্দীপকেও দেখা যায়, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মাতৃভূমিকে পাকিস্তানি হানাদার মুক্ত করার জন্য কমান্ডার সবুরের নেতৃত্বে ছাপ্পান্ন জন মুক্তিযোদ্ধা বর্ষার রাতে অসীম সাহসিকতার সাথে মিলিটারি ক্যাম্পে অতর্কিত আক্রমণ চালান। তাঁদের এই আক্রমণের একমাত্র প্রেরণা ছিল দেশকে শত্রুমুক্ত করা ও পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙা।

    উভয় ঘটনার মূল লক্ষ্য ছিল দেশদ্রোহী ও বিদেশি আগ্রাসনকারীদের কবল থেকে দেশকে মুক্ত করা এবং জাতির আত্মমর্যাদা রক্ষা করা। অতএব, দেশপ্রেম, আগ্রাসন প্রতিরোধ এবং মাতৃভূমির স্বাধীনতা রক্ষার অভিন্ন প্রেরণা থেকেই উভয় আক্রমণ পরিচালিত হয়েছিল বলে মন্তব্যটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন