সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, যশোর, সিলেট বোর্ড ২০২৩
সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
রহিম এবং তার স্ত্রী রুবির প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই এবং তারা অর্থনৈতিকভাবে ভীষণ দুর্বল। প্রতিদিন সকালে তারা একসঙ্গে বেরিয়ে চাউল তৈরির একটি চাতালে সমানভাবে কাজ করে। দিনের শেষে রহিম ও রুবি পারিশ্রমিক পায় যথাক্রমে ৪০০ ও ২০০ টাকা। রুবির মনে ভীষণ কষ্ট যে, সে একই রকম শ্রম দিলেও স্বামী রহিমের অর্ধেক পরিমাণ পারিশ্রমিক পায়। আবার তারা বাড়িতে ফিরে এলে বুঝিকেই ঘরের সব কাজ সামলাতে হয় আর রহিম বিশ্রাম নেয়।
- ক)(1)
জেন্ডার কী?
- খ)(2)
"সকল বিচ্যুতি অপরাধ নয়, কিন্তু সকল অপরাধই বিচ্যুতি”- বুঝিয়ে লেখো ।
- গ)(3)
উদ্দীপকে কোন সামাজিক বৈষম্যের চিত্র ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“উক্ত বৈষম্য সামাজিক উন্নতির পথে বাধাস্বরূপ"- যুক্তিসহ তোমার মতামত দাও ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জেন্ডার হলো নারী ও পুরুষের জৈবিক পার্থক্যের ভিত্তিতে সমাজ কর্তৃক আরোপিত আচরণ, ভূমিকা, দায়িত্ব ও সামাজিক পরিচয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সামাজিক বিচ্যুতি হলো সমাজের প্রচলিত নিয়ম, প্রথা ও মূল্যবোধের পরিপন্থী আচরণ। অন্যদিকে, অপরাধ হলো রাষ্ট্রের প্রচলিত ফৌজদারি আইন লঙ্ঘনকারী নির্দিষ্ট ও শাস্তিযোগ্য আচরণ।
সব অপরাধই সামাজিক মূল্যবোধ ও নিয়ম ভেঙে সংঘটিত হয় বলে প্রতিটি অপরাধই বিচ্যুতির অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু সমাজের অনেক বিচ্যুতিমূলক আচরণ (যেমন—গুরুজনকে অসম্মান করা, মিথ্যা বলা বা অশোভন আচরণ) প্রচলিত রাষ্ট্রীয় আইনে শাস্তিযোগ্য নয়। ফলে সেগুলো বিচ্যুতি হলেও অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় না। তাই বলা হয়, "সকল বিচ্যুতি অপরাধ নয়, কিন্তু সকল অপরাধই বিচ্যুতি"।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ‘জেন্ডার বৈষম্য’ বা ‘লিঙ্গভিত্তিক সামাজিক বৈষম্য’-এর চিত্র ফুটে উঠেছে।
নারী ও পুরুষের মধ্যে সমাজ কর্তৃক সৃষ্ট অসম সুযোগ-সুবিধা, বৈষম্যমূলক মজুরি এবং শ্রমবিভাজনকে জেন্ডার বৈষম্য বলা হয়। সমাজে নারীদের শ্রমকে প্রায়ই অবমূল্যায়ন করা হয় এবং উৎপাদনশীল কাজে সমপরিশ্রম সত্ত্বেও পুরুষদের তুলনায় কম মজুরি দেওয়া হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, রহিম ও তার স্ত্রী রুবি প্রতিদিন সমানভাবে চাতালের কঠিন পরিশ্রম করে। কিন্তু দিনশেষে রহিম পায় ৪০০ টাকা এবং রুবি পায় রহিমের অর্ধেক অর্থাৎ ২০০ টাকা। এছাড়াও ঘরে ফিরে রহিমের কাজ না করে বিশ্রাম নেওয়া এবং সমস্ত গৃহস্থালি কাজের ভার কেবল রুবির একার ওপর বর্তানো—স্পষ্টতই জেন্ডার বৈষম্য ও পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“উক্ত বৈষম্য (জেন্ডার বৈষম্য) সামাজিক উন্নতির পথে বাধাস্বরূপ”—উক্তিটি যথার্থ এবং এর স্বপক্ষে আমার মতামত তুলে ধরা হলো:
একটি দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই নারী। দেশের সার্বিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য নারী-পুরুষের সমতা ও যৌথ অংশগ্রহণ অপরিহার্য। কিন্তু উদ্দীপকে বর্ণিত বৈষম্য সমাজকে নানাভাবে পিছিয়ে দেয়:
১. অর্থনৈতিক পশ্চাৎপদতা: সমান শ্রম দিয়েও নারীকে অর্ধেক মজুরি দেওয়া হলে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন বাধাগ্রস্ত হয় এবং পরিবার দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র থেকে বের হতে পারে না।
২. মানসিক অবক্ষয় ও হতাশা: কাজের স্বীকৃতি ও ন্যায্য মজুরি না পেলে নারীদের কাজের আগ্রহ কমে যায়, যা জাতীয় উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
৩. দ্বৈত কাজের বোঝা: সারাদিন উপার্জনের কাজ শেষে গৃহস্থালির সমস্ত কাজ একা নারীকে করতে হওয়ায় তার স্বাস্থ্যহানি ঘটে এবং ব্যক্তিগত বিকাশের সুযোগ রুদ্ধ হয়।
৪. সামাজিক অসমতা বৃদ্ধি: এই বৈষম্য সমাজে পুরুষতান্ত্রিক আধিপত্যকে টিকিয়ে রাখে এবং নারীর মানবাধিকার ক্ষুণ্ণ করে, যা একটি প্রগতিশীল ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজের অন্তরায়।সুতরাং, জনসংখ্যার অর্ধেক অংশকে বৈষম্যের শিকার করে কোনো সমাজের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই জেন্ডার বৈষম্য দূর করে নারী-পুরুষের সমঅধিকার ও সমমজুরি নিশ্চিত করাই সামাজিক উন্নতির মূল চাবিকাঠি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও