ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
ফতেহনগর রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান লিয়াকত সাহেব প্রশাসনের সর্বত্র গণতন্ত্র, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য বহু পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। শাসনকার্যে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার জন্য তিনি রাষ্ট্রের শিক্ষিত, বিজ্ঞ ও যোগ্য নাগরিকদের নিয়ে একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করেন। পরিষদ রাষ্ট্রপ্রধানকে দৈনন্দিন প্রশাসন পরিচালনা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরামর্শ দিতেন। প্রশাসন ছাড়াও রাষ্ট্রপতি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য রাজস্ব ও কর ব্যবস্থায় বহুবিধ সংস্কার সাধন করেন। মানুষ তার সুফল ভোগ করছে।
- ক)(1)
ইসলামের ইতিহাসে প্রথম গৃহযুদ্ধ কোনটি?
- খ)(2)
হযরত ওসমান (রা) রা) কীভাবে মদিনার পানীয় জলের অভাব দূর করেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লেখিত উপদেষ্টা পরিষদের সাথে খলিফা ওমর (রা)-এর প্রতিষ্ঠিত মজলিশ- উস-শুরার সাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত রাজস্ব ও কর ব্যবস্থাপনা হযরত ওমর (রা)-এর রাজস্ব ব্যবস্থার আংশিক চিত্র'- বক্তব্যটি সমর্থন করো কি? মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ইসলামের ইতিহাসে প্রথম গৃহযুদ্ধ হলো জঙ্গে জামাল বা উটের যুদ্ধ (৬৫৬ খ্রিষ্টাব্দ)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হযরত ওসমান (রা.) খলিফা হওয়ার পূর্বে মদিনায় হিজরতের পর তীব্র পানীয় জলের সংকট দেখা দিয়েছিল। সে সময় মদিনায় মিষ্টি পানির একমাত্র উৎস ছিল 'বীর-ই-রুমা' নামক একটি কূপ, যার মালিক ছিল এক ইহুদি। সে চড়া মূল্যে মুসলমানদের কাছে পানি বিক্রি করত। মুসলমানদের এই চরম কষ্ট দূর করার জন্য মহানবী (সা.)-এর আহ্বানে সাড়া দিয়ে হযরত ওসমান (রা.) বিপুল অর্থের বিনিময়ে কূপটি ক্রয় করেন এবং তা সকল মুসলমান ও সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত বা ওয়াক্ফ করে দেন। এভাবে তিনি মদিনার পানীয় জলের অভাব দূর করেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লেখিত লিয়াকত সাহেবের উপদেষ্টা পরিষদের সাথে ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর (রা.)-এর প্রতিষ্ঠিত 'মজলিশ-উস-শুরা'র গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।
হযরত ওমর (রা.) ছিলেন গণতান্ত্রিক চেতনার মূর্ত প্রতীক। তিনি শাসনকার্য সুচারুভাবে পরিচালনার জন্য বিজ্ঞ ও প্রবীণ সাহাবিদের নিয়ে 'মজলিশ-উস-শুরা' বা পরামর্শক সভা গঠন করেছিলেন। এটি প্রধানত দুটি অংশে বিভক্ত ছিল—সাধারণ পরিষদ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ নিয়ে গঠিত উচ্চ পরিষদ বা ক্যাবিনেট। রাষ্ট্রের যেকোনো নীতিনির্ধারণী বা গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বিষয়ে তিনি শুরার সদস্যদের সঙ্গে গভীর পরামর্শ করতেন এবং অধিকাংশের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন।
উদ্দীপকের লিয়াকত সাহেবও স্বৈরাচার পরিহার করে গণতন্ত্র, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য সমাজের শিক্ষিত, বিজ্ঞ ও যোগ্য নাগরিকদের সমন্বয়ে একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করেন, যারা তাকে রাষ্ট্র পরিচালনায় পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করে। সুতরাং, কার্যক্রম ও গঠনগত লক্ষ্যের দিক থেকে এটি হযরত ওমর (রা.)-এর 'মজলিশ-উস-শুরা'র অনুরূপ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, আমি উদ্দীপকে বর্ণিত রাজস্ব ও কর ব্যবস্থাপনাকে হযরত ওমর (রা.)-এর রাজস্ব ব্যবস্থার 'আংশিক চিত্র' হিসেবে চিহ্নিত করার বক্তব্যটিকে সমর্থন করি।
হযরত ওমর (রা.)-এর খেলাফতকালে ইসলামী সাম্রাজ্যের ব্যাপক বিস্তৃতি ঘটে। বিশাল সাম্রাজ্যের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য তিনি একটি অত্যন্ত সুসংগঠিত, বৈজ্ঞানিক ও পূর্ণাঙ্গ রাজস্ব ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। তিনি রাজস্বের প্রধান উৎস হিসেবে যাকাত, জিজিয়া (অমুসলিমদের নিরাপত্তা কর), খারাজ (ভূমি রাজস্ব), উশর (মুসলিমদের কৃষিজমির কর), আল-ফাই এবং গনিমত নির্ধারণ করেন। এছাড়া রাজস্বের হিসাব ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য 'দিওয়ান' (রাজস্ব বিভাগ) প্রতিষ্ঠা করেন এবং প্রথমবারের মতো বায়তুল মালকে একটি সুশৃঙ্খল রাষ্ট্রীয় কোষাগারে রূপ দেন। পাশাপাশি কৃষক ও জনগণের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা লাঘব করা হয় এবং সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন করে কৃষির বিকাশ ঘটানো হয়।
উদ্দীপকে ফতেহনগর রাষ্ট্রের প্রধান লিয়াকত সাহেব দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য কেবল রাজস্ব ও কর ব্যবস্থায় সংস্কার সাধন করেছেন বলে উল্লেখ রয়েছে, যা রাষ্ট্রের নাগরিকরা ভোগ করছে। কিন্তু ওমরী রাজস্ব ব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ (যেমন- দিওয়ান প্রতিষ্ঠা, নির্ধারিত বিভিন্ন করের সুষম বণ্টন ও বায়তুল মালের সুনির্দিষ্ট কল্যাণমুখী ব্যয়) উদ্দীপকে বিস্তারিতভাবে উঠে আসেনি; কেবল সাধারণ কর সংস্কারের বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে।
অতএব, লিয়াকত সাহেবের পদক্ষেপটি হযরত ওমর (রা.)-এর সুবিশাল ও বহুমুখী রাজস্ব সংস্কারের একটি আংশিক রূপ মাত্র।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও