ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
বেশ কিছু দিন ধরে 'জাহান ডিপার্টমেন্টাল স্টোর' এর সেলসম্যান রূপা কাজে আসছে না। কারণ জানার জন্য মিসেস নাজমা জাযান রূপার বাসায় আসেন। কাজে না আসার কারণ জানতে চাইলে রূপা কান্না বিজড়িত কণ্ঠে বলে যে, তার স্বামীর সীমাহীন অত্যাচার ও নির্যাতনের কারণে সে অসুস্থ। সে মিসেস নাজমা জাহানকে আরও বলে যে, তার মদ্যপ স্বামী তার দুই কন্যাকে মারধর করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে, সমাজে নারীদের কোনো অধিকার নেই। মিসেস নাজমা জাহান এসব শুনে খুব ব্যথিত হন। তিনি সমাজে নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও যথাযথ মর্যাদার সাথে বসবাসের জন্য সচেতনতামূলক বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এতে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে।
- ক)(1)
প্রাক-ইসলামি আরবের শ্রেষ্ঠ কবি কে ছিলেন?
- খ)(2)
উটকে মরুভূমির জাহাজ বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লেখিত করুণ ঘটনাটি প্রাক-ইসলামি আরবের সামাজিক অবস্থার কোন দিকটিকে নির্দেশ করছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
'মিসেস নাজমা জাহানের চিন্তা-চেতনায় নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় মহানবির (স) নির্দেশনা ও আদর্শ প্রতিফলিত হয়েছে'- বক্তব্যটি সমর্থন কর কি? উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রাক-ইসলামি আরবের শ্রেষ্ঠ কবি ছিলেন ইমরুল কায়েস।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মরুভূমির চরম প্রতিকূল পরিবেশে উট অত্যন্ত সহনশীল ও উপযোগী প্রাণী হওয়ায় একে 'মরুভূমির জাহাজ' বলা হয়।
উট তার পিঠের কুঁজে চর্বি জমিয়ে রাখে এবং বিশেষ পাকস্থলীর কারণে একটানা বহু দিন পানি ও খাদ্য ছাড়া মরুভূমির তপ্ত বালুর ওপর দিয়ে দ্রুত চলাচল করতে পারে। উটের চওড়া ও নরম পায়ের পাতা মরুভূমির বালুতে দেবে যায় না। আরব দেশের মানুষ পণ্য পরিবহন ও যাতায়াতের প্রধান বাহন হিসেবে উটের ওপর নির্ভরশীল ছিল বলে ঐতিহাসিকরা উটকে রূপক অর্থে 'মরুভূমির জাহাজ' (Ship of the Desert) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লেখিত করুণ ঘটনাটি প্রাক-ইসলামি আরবের বা 'আইয়ামে জাহেলিয়া' যুগের সামাজিক অবস্থার নারীদের চরম অমর্যাদা ও তাদের ওপর নির্মম নির্যাতন-নিপীড়নের দিকটিকে নির্দেশ করছে।
প্রাক-ইসলামি আরবে নারীদের কোনো সামাজিক বা মানবিক মর্যাদা ছিল না। নারীদের ভোগ্যপণ্য এবং দাসীর মতো বিবেচনা করা হতো। কন্যাসন্তান জন্মগ্রহণ করলে তাকে অপমানের কারণ মনে করে অনেক পিতা জীবন্ত কবর দিত। পরিবার ও সমাজে নারীদের উত্তরাধিকার বা ব্যক্তিস্বাধীনতার কোনো অধিকার ছিল না; বরং পুরুষদের অন্যায্য অত্যাচার সহ্য করাই ছিল তাদের নিয়তি।
উদ্দীপকে বর্ণিত রূপার প্রতি তার স্বামীর সীমাহীন নির্যাতন এবং দুই কন্যাকে মারধর করে তাড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা প্রাক-ইসলামি আরবের সেই অন্ধকারাচ্ছন্ন জাহেলি যুগের নারী নির্যাতন ও কন্যাসন্তানের প্রতি নিষ্ঠুর অবহেলার প্রতিফলন ঘটায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, 'মিসেস নাজমা জাহানের চিন্তা-চেতনায় নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় মহানবির (স) নির্দেশনা ও আদর্শ প্রতিফলিত হয়েছে'- উক্তিটির সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত।
ইসলাম-পূর্ব যুগে আরবে নারীদের কোনো সম্মানজনক অস্তিত্ব ছিল না। হজরত মুহাম্মদ (সা.) ইসলাম প্রচারের মাধ্যমে নারীদের মর্যাদাহীন অবস্থান থেকে মুক্ত করে সমাজে সর্বোচ্চ সম্মান ও অধিকার দান করেন। তিনি ঘোষণা করেন, 'মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেশত'। তিনি কন্যাভ্রূণ হত্যা ও কন্যাসন্তানকে জীবন্ত কবর দেওয়া চিরতরে নিষিদ্ধ করেন। ইসলামে নারীদের বিয়েতে সম্মতি প্রদানের স্বাধীনতা, মোহরানা প্রাপ্তি এবং পিতা ও স্বামীর সম্পত্তিতে সুনির্দিষ্ট উত্তরাধিকারের অধিকার প্রদান করা হয়েছে। নারীদের শিক্ষা, সম্মান ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মহানবি (সা.) কঠোর নির্দেশনা দিয়েছিলেন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মিসেস নাজমা জাহান রূপার দুর্দশা ও সমাজে নারীদের অধিকারহীনতার কথা জেনে ব্যথিত হন। তিনি সমাজে নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও মর্যাদার সাথে বাঁচার জন্য সচেতনতামূলক নানা পদক্ষেপ নেন, যা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে। নাজমা জাহানের এই উদ্যোগ প্রাক-ইসলামি আরবে নারীদের অধিকার রক্ষায় মহানবি (সা.)-এর বৈপ্লবিক সংস্কার ও মহান আদর্শেরই সার্থক প্রতিফলন। তাই বলা যায়, নাজমা জাহানের চিন্তা ও কর্মকাণ্ড মহানবি (সা.)-এর নারীমুক্তির আদর্শের সাথে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও