অর্থনীতি ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৬
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
বজলার স্যার একদিন এদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে ক্লাসে বক্তৃতা করতে গিয়ে বললেন, বাংলাদেশে এ যাবৎ যতগুলো পরিকল্পনা প্রণীত হয়েছে তারমধ্যে ষষ্ঠ-পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা নানা দিক থেকে স্বতন্ত্র। উন্নয়ন পরিকল্পনার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যমাত্রার ভিত্তিতে এমন কথা বলা যায়।
- ক)(1)
উন্নয়ন পরিকল্পনা কী?
- খ)(2)
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
এদেশে দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য উদ্দীপকে উল্লিখিত পরিকল্পনার উদ্দেশ্যসমূহ লেখ।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে ষষ্ঠ-পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার স্বাতন্ত্র্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একটি নির্দিষ্ট সময়ে কোনো দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট নীতি ও কৌশল সম্বলিত অগ্রিম প্রণীত রূপরেখাকে উন্নয়ন পরিকল্পনা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হলো এমন এক ধরনের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, যা তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ সময়ের (সাধারণত ১০ থেকে ২০ বছর বা তার বেশি) জন্য গ্রহণ করা হয়। একে প্রেক্ষিত পরিকল্পনাও (Perspective Plan) বলা হয়। এ জাতীয় পরিকল্পনায় দেশের দীর্ঘমেয়াদি রূপকল্প ও কাঠামোগত পরিবর্তন অর্জনের জন্য রূপরেখা তৈরি করা হয়, যার অধীনে একাধিক মধ্যমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত পরিকল্পনাটি হলো বাংলাদেশের 'ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা' (২০১১-২০১৫)। এ পরিকল্পনায় দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য গৃহীত প্রধান উদ্দেশ্যসমূহ নিচে উল্লেখ করা হলো:
১. দ্রুত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি অর্জন: অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার বৃদ্ধি করে তা থেকে প্রাপ্ত সুফল দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া।
২. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: শিল্প ও সেবা খাতের বিকাশ ঘটিয়ে ব্যাপক উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান তৈরি করা এবং বেকারত্ব হ্রাস করা।
৩. সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী জোরদার করা: চরম দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য খাদ্য নিরাপত্তা ও বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির পরিধি বৃদ্ধি করা।
৪. শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন: মানবসম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে দরিদ্র মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টিসেবা নিশ্চিত করা।
৫. আঞ্চলিক বৈষম্য দূরীকরণ: তুলনামূলকভাবে অনুন্নত ও পশ্চাৎপদ অঞ্চলে অর্থনৈতিক সুযোগ বৃদ্ধি করে আঞ্চলিক দারিদ্র্য বৈষম্য কমিয়ে আনা। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে শিক্ষক বজলার সাহেবের বক্তব্যের আলোকে ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার স্বাতন্ত্র্য নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. প্রেক্ষিত পরিকল্পনার সাথে সংযুক্তি: ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ছিল বাংলাদেশের 'রূপকল্প ২০২১'-এর আওতায় প্রণীত দীর্ঘমেয়াদি প্রেক্ষিত পরিকল্পনার (২০১০-২০২১) প্রথম মধ্যমেয়াদি ধাপ। এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি রূপকল্পের সাথে মধ্যমেয়াদি লক্ষ্যের চমৎকার সমন্বয় ঘটে।
২. পিআরএসপি (PRSP) থেকে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় প্রত্যাবর্তন: ২০০২ সালের পর থেকে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা বিঘ্নিত হয়ে দারিদ্র্য বিমোচন কৌশলপত্র (PRSP) চালু ছিল। ষষ্ঠ পরিকল্পনার মাধ্যমেই দেশে পুনরায় সুসংগঠিত পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার কাঠামোতে প্রত্যাবর্তন ঘটে।
৩. টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি: এতে কেবল প্রবৃদ্ধি অর্জন নয়, বরং উচ্চ প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি বৈষম্য হ্রাস, দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর যুগপৎ জোর দেওয়া হয়।
৪. পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা: উন্নয়ন প্রক্রিয়ার সাথে পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করা ছিল এই পরিকল্পনার একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য।
৫. সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (PPP): অবকাঠামো উন্নয়ন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ ধারণাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়।অতএব, লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ, প্রেক্ষিত পরিকল্পনার বাস্তবায়ন এবং কৌশলগত দিক থেকে ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা পূর্ববর্তী অন্যান্য পরিকল্পনার চেয়ে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও