‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৯

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

মি. জ্যাকবের দেশের সংবিধান লিখিত ও দুষ্পরিবর্তনীয়। রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান। সেখানে দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা এবং বহুদলীয় ব্যবস্থা লক্ষ করা যায়। সংবিধান অনুসারে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার ব্যবস্থা বহাল আছে।

  1. ক)

    বাংলাদেশের আইনসভার নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    গণভোটের প্রয়োজন হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত সংবিধানে বাংলাদেশ সংবিধানের কোন বৈশিষ্ট্যগুলি প্রতিফলিত হয়নি? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের জ্যাকবের দেশের সংবিধান ও বাংলাদেশের সংবিধানের মধ্যে তুমি কোনটি উত্তম বলে মনে কর? যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশের আইনসভার নাম 'জাতীয় সংসদ' (বা ইংরেজিতে House of the Nation)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দেশের জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কোনো রাজনৈতিক বা সাংবিধানিক নীতি-নির্ধারণে এবং সংবিধানের মৌলিক কোনো পরিবর্তনের বিষয়ে জনগণের সরাসরি মতামত ও রায় গ্রহণের জন্য গণভোটের প্রয়োজন হয়। গণভোট প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের অন্যতম মাধ্যম, যা কোনো সিদ্ধান্তের প্রতি জনগণের প্রত্যক্ষ সম্মতি বা অসম্মতি নিশ্চিত করে সিদ্ধান্তকে অধিকতর গণতান্ত্রিক ও গ্রহণযোগ্য করে তোলে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত জ্যাকবের দেশের সংবিধানের সাথে বাংলাদেশের সংবিধানের বেশ কয়েকটি বৈশিষ্ট্যের অমিল রয়েছে, যা বাংলাদেশের সংবিধানে প্রতিফলিত হয়নি।
    ১. সরকার ব্যবস্থা: উদ্দীপকের সংবিধানে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশে বিদ্যমান সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থা।
    ২. আইনসভা: উদ্দীপকের আইনসভা দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট, কিন্তু বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী আইনসভা এক-কক্ষবিশিষ্ট (জাতীয় সংসদ)।
    ৩. রাষ্ট্রীয় কাঠামো: জ্যাকবের দেশের সরকার ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রীয়, যেখানে ক্ষমতা কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে বণ্টিত থাকে। পক্ষান্তরে, বাংলাদেশের সংবিধানের ১নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশ একটি এককেন্দ্রিক প্রজাতন্ত্র (Unitary State), যেখানে কোনো প্রাদেশিক সরকার নেই।
    অতএব, উদ্দীপকের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো, রাষ্ট্রপতি শাসিত রূপ এবং দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট আইনসভার বৈশিষ্ট্যগুলো বাংলাদেশের সংবিধানে অনুপস্থিত।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের জ্যাকবের দেশের সংবিধান (যুক্তরাষ্ট্রীয় ও রাষ্ট্রপতি শাসিত) এবং বাংলাদেশের সংবিধানের (এককেন্দ্রিক ও সংসদীয়) তুলনামূলক পর্যালোচনায় আমি বাংলাদেশের সংবিধানকে আমাদের দেশের প্রেক্ষাপট ও সামগ্রিক গণতান্ত্রিক চর্চার ক্ষেত্রে অধিক উত্তম ও উপযোগী বলে মনে করি।
    যুক্তিসমূহ নিচে তুলে ধরা হলো:
    ১. সংসদীয় জবাবদিহিতা: বাংলাদেশের সংবিধান সংসদীয় ব্যবস্থার প্রবর্তন করেছে, যেখানে মন্ত্রিসভা ও প্রধানমন্ত্রী তাদের কাজের জন্য সরাসরি জনগণের নির্বাচিত আইনসভার কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকেন। রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা অনেক ক্ষেত্রে একচ্ছত্র রূপ নিতে পারে।
    ২. ভৌগোলিক ও সামাজিক বাস্তবতা: বাংলাদেশ ভূখণ্ডগতভাবে ছোট এবং নৃতাত্ত্বিকভাবে অত্যন্ত সমসত্ত্ব। তাই এখানে জটিল ও ব্যয়বহুল যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার চেয়ে এককেন্দ্রিক ব্যবস্থা অধিক কার্যকরী, সুসংহত ও প্রশাসনিকভাবে ব্যয়সাশ্রয়ী।
    ৩. দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও এক-কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা: দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট আইনসভায় আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া অনেক সময় দীর্ঘসূত্রতার কবলে পড়ে। বাংলাদেশের এক-কক্ষবিশিষ্ট সংসদ জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত আইন প্রণয়নে সহায়ক।
    অতএব, জনগণের প্রতি সরকারের প্রত্যক্ষ জবাবদিহিতা এবং ভৌগোলিক বাস্তবতার নিরিখে বাংলাদেশের সংবিধানটি অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ ও উত্তম বলে প্রতীয়মান হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন