বাংলা ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৬
বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন
10.
(ক) বৈশ্বিক উষ্ণতা ও বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে একটি সংলাপ রচনা কর।অথবা,(খ) নিম্নোক্ত ইঙ্গিত অবলম্বনে একটি খুদে গল্প রচনা কর:এখন পৌষ মাস। কাকলি গ্রামে বেড়াতে এসেছে। সেদিনই গ্রামের স্কুল মাঠে বসেছিল পৌষের পিঠামেলা। মেলায় ঘুরতে এসে কাকলির দৃষ্টি আটকে গেল...
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
(ক) বৈশ্বিক উষ্ণতা ও বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ:
স্থান: একটি পার্কের গাছের ছায়া
চরিত্র: রাফি ও সজল
রাফি: কেমন আছ সজল? আজকাল গরমের তীব্রতা যেন দিন দিন বেড়েই চলেছে!
সজল: ভালো আছি রাফি। তবে সত্যি বলেছ, আজকাল ঋতুর স্বাভাবিক আচরণ আর লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণেই এমনটা ঘটছে।
রাফি: ঠিক বলেছ। পুরো পৃথিবী জুড়েই তাপমাত্রা বাড়ছে, যাকে বলা হয় গ্লোবাল ওয়ার্মিং। মেরু অঞ্চলের বরফ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে।
সজল: আর এর মূল কারণ হলো নির্বিচারে গাছপালা উজাড় করা এবং বাতাসে ক্ষতিকর গ্রিনহাউস গ্যাস, বিশেষ করে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়া।
রাফি: হ্যাঁ, কলকারখানা ও যানবাহনের ধোঁয়া থেকে প্রতিনিয়ত বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড ছড়িয়ে পড়ছে। কিন্তু তা শোষণ করার মতো পর্যাপ্ত গাছপালা প্রকৃতিতে অবশিষ্ট নেই।
সজল: এই পরিস্থিতি থেকে বাঁচার সবচেয়ে কার্যকর ও সহজ সমাধান হলো ব্যাপক হারে বৃক্ষরোপণ করা। বৃক্ষ শুধু কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে না, বরং আমাদের জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহ করে।
রাফি: এছাড়া গাছপালা মাটির ক্ষয় রোধ করে, বৃষ্টিপাতে সহায়তা করে এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখে। প্রতিটি মানুষেরই উচিত অন্তত দুটি করে ফলদ, বনজ বা ঔষধি গাছ লাগানো।
সজল: একদম সঠিক। আমাদের ব্যক্তি পর্যায় থেকে শুরু করে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে বৃক্ষরোপণ অভিযানকে একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে।
রাফি: আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এই বর্ষাতেই আমাদের বাড়ির আশপাশের ফাঁকা জায়গায় বেশ কিছু চারা রোপণ করব এবং বন্ধুদেরও এতে উৎসাহিত করব।
সজল: চমৎকার উদ্যোগ! আমিও তোমার সাথে যোগ দেব। চলো, সবুজ পৃথিবী গড়ার অঙ্গীকার করি।
রাফি: ধন্যবাদ সজল, ভালো থেকো।
সজল: তোমাকেও ধন্যবাদ, সুস্থ থেকো।
অথবা,
(খ) খুদে গল্প: পিঠামেলার সেই চোখ দুটি
এখন পৌষ মাস। কাকলি শহরে বড় হলেও শীতের এই সময়টায় গ্রামে বেড়াতে এসেছে দাদাবাড়িতে। সেদিনই গ্রামের স্কুল মাঠে বসেছিল জমজমাট পৌষের পিঠামেলা। দূর-দূরান্ত থেকে নানা বয়সের মানুষ এসেছে ঐতিহ্যবাহী পিঠার স্বাদ নিতে। ভাপা, চিতই, পাটিসাপটা, পুলি পিঠার মৌ মৌ গন্ধে চারপাশ মাতোয়ারা। রঙিন আলো আর সানাইয়ের মিষ্টি সুরে এক আনন্দঘন পরিবেশ।
মেলায় ঘুরতে এসে কাকলির দৃষ্টি আটকে গেল মেলার এক কোণে বসা ছেঁড়া কাঁথা গায়ে জড়ানো ছোট একটি ছেলের ওপর। আট-নয় বছরের ছেলেটির গায়ে শীতের গরম কাপড় নেই, তীব্র শীতে সে কাঁপছে। বড় বড় ছলছলে চোখ দিয়ে সে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে পাশের একটি চিতই পিঠার স্টলের দিকে। গরম ভাপ ওঠা পিঠার দিকে তার চেয়ে থাকার গভীর তৃষ্ণা কাকলির মনকে নাড়া দিল। মেলায় উৎসবের আমেজ থাকলেও এই শিশুটির চোখের ভাষা ছিল একেবারেই অন্যরকম—সেখানে ছিল ক্ষুধা আর নিদারুণ বঞ্চনার নীরব কান্না।
কাকলি এক মুহূর্তও দেরি করল না। সে এগিয়ে গেল স্টলটির দিকে। এক প্লেট গরম ভাপা পিঠা ও গুড় কিনে সোজা চলে গেল ছেলেটির সামনে। কাঁপা কাঁপা গলায় বলল, 'এই যে ভাইয়া, পিঠা খাবে?' ছেলেটি অবাক হয়ে কাকলির দিকে তাকাল, বিশ্বাসই করতে পারছিল না কেউ তার দিকে এমন মমতার হাত বাড়াতে পারে। এক গাল মিষ্টি হাসি দিয়ে সে হাত বাড়িয়ে প্লেটটি নিল এবং পরম তৃপ্তিতে খেতে শুরু করল।
পিঠা খাওয়ার পর ছেলেটির মুখে যে স্বর্গীয় তৃপ্তির হাসি ফুটে উঠল, তা দেখে কাকলির মন অনাবিল শান্তিতে ভরে গেল। কাকলি বুঝল, নিজের আনন্দকে সবার মাঝে বিলিয়ে দেওয়ার নামই আসল উৎসব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও