জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৭

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

রহিম তার বাবার খামারে মুরগির বাচ্চাগুলো লক্ষ করে দেখলেন-সাদা পালকের মাঝে কয়েকটি রঙিন পালকের বাচ্চা ১৩:৩ অনুপাতে রয়েছে। তিনি ভাবছেন, খামারের সব মোরগ-মুরগি সাদা পালকের, কিন্তু কয়েকটি রঙিন বাচ্চা হলো কীভাব?

  1. ক)

    বিবর্তন কী?

    (1)
  2. খ)

    রেসাস ফ্যাক্টর বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের এই ঘটনাটির সাথে বংশগতির কোনো সম্পর্ক আছে কি? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের আলোকে এই ঘটনার জীনতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা চেকারবোর্ডে দেখাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সুদীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে ক্রমাগত পরিবর্তনের মাধ্যমে সরলতম পূর্বপুরুষ থেকে জটিল ও উন্নততর নতুন প্রজাতির উৎপত্তি ঘটার প্রক্রিয়াকে বিবর্তন বা অভিব্যক্তি (Evolution) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রেসাস বানরের (Rhesus macaque) লোহিত রক্তকণিকায় বিদ্যমান এক প্রকার বিশেষ অ্যান্টিজেন যা মানুষের রক্তেও পাওয়া যায়, তাকে রেসাস ফ্যাক্টর বা Rh ফ্যাক্টর বলে। যাদের রক্তে এ অ্যান্টিজেন থাকে তাদের Rh-পজিটিভ (Rh+) এবং যাদের রক্তে থাকে না তাদের Rh-নেগেটিভ (Rh-) বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, উদ্দীপকের ঘটনাটির সাথে বংশগতির গভীর সম্পর্ক রয়েছে। এটি মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের একটি ব্যতিক্রম, যা 'প্রকট এপিস্ট্যাসিস' (Dominant Epistasis বা Inhibitory Gene Interaction) নামে পরিচিত।

    মেন্ডেলের দ্বি-সংকর ক্রসের স্বাভাবিক অনুপাত হওয়ার কথা ৯:৩:৩:১। কিন্তু একটি প্রকট জিন যখন অন্য একটি নন-অ্যালিলিক প্রকট জিনের ফিনোটাইপিক প্রকাশে বাধা দেয়, তখন তাকে প্রকট এপিস্ট্যাসিস বলে। মুরগির পালকের রঙের ক্ষেত্রে রঙিন পালকের জন্য দায়ী প্রকট জিন C-এর প্রকাশকে অপর একটি প্রকট এপিস্ট্যাটিক জিন I বাধা দিয়ে পালককে সাদা করে। উভয় হোমোজাইগাস ও হেটারোজাইগাস অবস্থাতে এপিস্ট্যাটিক জিনের উপস্থিতির কারণে রঙ প্রকাশ না পেয়ে পালক সাদা হয়। ফলে F2 জনুতে মেন্ডেলের ৯:৩:৩:১ অনুপাত পরিবর্তিত হয়ে ১৩:৩ অনুপাতে সাদা ও রঙিন মুরগি জন্ম নেয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ঘটনাটি হলো প্রকট এপিস্ট্যাসিস (১৩:৩ অনুপাত)।

    ধরি,
    রঙিন পালকের জন্য দায়ী প্রকট জিন = C
    সাদা পালকের জন্য দায়ী প্রচ্ছন্ন জিন = c
    রঙিন প্রকাশে বাধা দানকারী প্রকট এপিস্ট্যাটিক জিন = I
    বাধা না দেওয়া প্রচ্ছন্ন জিন = i

    পিতামাতা (P1): সাদা পালকযুক্ত মুরগি (CCII) × সাদা পালকযুক্ত মুরগি (ccii)
    গ্যামেট: CI এবং ci
    F1 জনু: CcIi (সবগুলো সাদা পালকযুক্ত, কারণ প্রকট এপিস্ট্যাটিক জিন I বিদ্যমান)

    F1 × F1 ক্রসে:
    পুরুষ গ্যামেট: CI, Ci, cI, ci
    স্ত্রী গ্যামেট: CI, Ci, cI, ci

    F2 জনুর চেকারবোর্ড:
    ১. CCII (সাদা)
    ২. CCIi (সাদা)
    ৩. CcII (সাদা)
    ৪. CcIi (সাদা)
    ৫. CCIi (সাদা)
    ৬. CCii (রঙিন)
    ৭. CcIi (সাদা)
    ৮. Ccii (রঙিন)
    ৯. CcII (সাদা)
    ১০. CcIi (সাদা)
    ১১. ccII (সাদা)
    ১২. ccIi (সাদা)
    ১৩. CcIi (সাদা)
    ১৪. Ccii (রঙিন)
    ১৫. ccIi (সাদা)
    ১৬. ccii (সাদা)

    ফলাফল:
    জিনোটাইপ যেখানে C এবং I উভয়ই উপস্থিত (C-I-): ৯টি (সাদা)
    জিনোটাইপ যেখানে শুধুমাত্র I উপস্থিত (ccI-): ৩টি (সাদা)
    জিনোটাইপ যেখানে C ও I কোনটিই কার্যকর নেই (ccii): ১টি (সাদা)
    জিনোটাইপ যেখানে C উপস্থিত কিন্তু I অনুপস্থিত (C-ii): ৩টি (রঙিন)

    অতএব, F2 জনুতে ফিনোটাইপিক অনুপাত: সাদা পালক : রঙিন পালক = ১৩ : ৩।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন