অর্থনীতি ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৭
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
নিম্নে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যের একটি তথ্য প্রদান করা হলো- (মিলিয়ন মার্কিন ডলার)
বছর | প্রাথমিক দ্রব্য রপ্তানি | শিল্পজাত দ্রব্য রপ্তানি
২০১০-১১ | ১৩১৬ | ২১৬১২
২০১১-১২ | ১২৬৭ | ২৩০৩৫
২০১২-১৩ | ১৩১০ | ২৫৭১৭
- ক)(1)
বিশ্বায়ন কী?
- খ)(2)
বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কেন গুরুত্বপূর্ণ? আলোচনা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের তথ্যের ভিত্তিতে রপ্তানি বাণিজ্যের পরিমাণ স্তম্ভ চিত্রের মাধ্যমে দেখাও।
- ঘ)(4)
উদ্দীপক থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যের গতিধারার উপর মন্তব্য করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে উন্মুক্ত ও পারস্পরিক আন্তঃনির্ভরশীল যোগাযোগ গড়ে ওঠাকে বিশ্বায়ন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও স্বনির্ভরতা অর্জনে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মাধ্যমে বাংলাদেশ তার অভ্যন্তরীণ উদ্বৃত্ত পণ্য (যেমন- তৈরি পোশাক, পাট ও পাটজাত পণ্য ইত্যাদি) বিদেশে রপ্তানি করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে। পাশাপাশি দেশের শিল্পোন্নয়ন ও অবকাঠামোগত প্রয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় মূলধনি যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল ও প্রযুক্তির ঘাটতি আমদানির মাধ্যমে মেটানো সম্ভব হয়। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অভ্যন্তরীণ বাজারে প্রতিযোগিতার সৃষ্টি করে পণ্যের মান বৃদ্ধি করে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক রূপান্তরে বিশেষ অবদান রাখে। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের তথ্যানুযায়ী রপ্তানি বাণিজ্যের পরিমাণের স্তম্ভচিত্র নিচে বর্ণনা করা হলো:
অক্ষের বিবরণ:
- ভূমিক্ষ (X-অক্ষ): অর্থবছর (২০১০-১১, ২০১১-১২, ২০১২-১৩)
- উলম্ব অক্ষ (Y-অক্ষ): রপ্তানির পরিমাণ (মিলিয়ন মার্কিন ডলারে)
তথ্যসারণি:
১. ২০১০-১১ অর্থবছর: প্রাথমিক দ্রব্য = ১৩১৬ মিলিয়ন ডলার, শিল্পজাত দ্রব্য = ২১৬১২ মিলিয়ন ডলার (মোট রপ্তানি = ২২৯২৮ মিলিয়ন ডলার)
২. ২০১১-১২ অর্থবছর: প্রাথমিক দ্রব্য = ১২৬৭ মিলিয়ন ডলার, শিল্পজাত দ্রব্য = ২৩০৩৫ মিলিয়ন ডলার (মোট রপ্তানি = ২৪৩০২ মিলিয়ন ডলার)
৩. ২০১২-১৩ অর্থবছর: প্রাথমিক দ্রব্য = ১৩১০ মিলিয়ন ডলার, শিল্পজাত দ্রব্য = ২৫৭১৭ মিলিয়ন ডলার (মোট রপ্তানি = ২৭০২৭ মিলিয়ন ডলার)চিত্র অঙ্কন পদ্ধতি: ভূমিক্ষে তিনটি বছর চিহ্নিত করে প্রতিটি বছরের জন্য পাশাপাশি দুটি করে উল্লম্ব স্তম্ভ (Bar) অঙ্কন করতে হবে—একটি প্রাথমিক দ্রব্যের জন্য এবং অপরটি শিল্পজাত দ্রব্যের জন্য। উলম্ব অক্ষে উপযুক্ত স্কেল (যেমন প্রতি একক = ৫০০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) ধরে ২০১০-১১ অর্থবছরের প্রাথমিক দ্রব্যের জন্য ১৩১৬ ও শিল্পজাত দ্রব্যের জন্য ২১৬১২ উচ্চতাবিশিষ্ট স্তম্ভ; ২০১১-১২ অর্থবছরের জন্য যথাক্রমে ১২৬৭ ও ২৩০৩৫ উচ্চতাবিশিষ্ট স্তম্ভ; এবং ২০১২-১৩ অর্থবছরের জন্য যথাক্রমে ১৩১০ ও ২৫৭১৭ উচ্চতাবিশিষ্ট স্তম্ভ অঙ্কন করলে প্রয়োজনীয় বহুগুণিতক স্তম্ভচিত্র (Multiple Bar Diagram) পাওয়া যাবে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপক থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যের গতিধারায় দুটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য বা গতিধারা পরিলক্ষিত হয়:
১. মোট রপ্তানি আয়ের ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধি: ২০১০-১১ অর্থবছরে মোট রপ্তানি আয় ছিল ২২,৯২৮ মিলিয়ন ডলার (১৩১৬ + ২১৬১২), ২০১১-১২ অর্থবছরে তা বৃদ্ধি পেয়ে হয় ২৪,৩০২ মিলিয়ন ডলার (১২৬৭ + ২৩০৩৫) এবং ২০১২-১৩ অর্থবছরে আরও বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ২৭,০২৭ মিলিয়ন ডলার (১৩১০ + ২৫৭১৭)। এটি নির্দেশ করে যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য সামগ্রিকভাবে সম্প্রসারণশীল।
২. শিল্পজাত দ্রব্যের নিরঙ্কুশ প্রাধান্য: বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের সিংহভাগই আসে শিল্পজাত দ্রব্য (বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প) থেকে। ২০১০-১১, ২০১১-১২ এবং ২০১২-১৩ অর্থবছরে মোট রপ্তানির মধ্যে শিল্পজাত দ্রব্যের অংশ ছিল যথাক্রমে প্রায় ৯৪.২৬%, ৯৪.৭৯% এবং ৯৫.১৫%। অর্থাৎ বছর বছর শিল্পজাত দ্রব্যের অংশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
৩. প্রাথমিক দ্রব্যের রপ্তানিতে স্থবিরতা: অপরপক্ষে প্রাথমিক দ্রব্যের রপ্তানি ২০১০-১১ অর্থবছরে ১৩১৬ মিলিয়ন ডলার থেকে ২০১১-১২ অর্থবছরে কমে ১২৬৭ মিলিয়ন ডলার হয় এবং ২০১২-১৩ অর্থবছরে সামান্য বৃদ্ধি পেয়ে ১৩১০ মিলিয়ন ডলার হয়। মোট রপ্তানিতে এর অনুপাত ক্রমাগত হ্রাস পেয়ে প্রায় ৫% এর নিচে নেমে এসেছে।
সুতরাং, উদ্দীপকের তথ্যের ভিত্তিতে এটি স্পষ্ট যে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য ক্রমশ ঐতিহ্যবাহী প্রাথমিক কৃষিজাত পণ্যের নির্ভরতা কাটিয়ে শিল্পজাত পণ্যভিত্তিক অর্থনীতির দিকে সফলভাবে অগ্রসর হচ্ছে, যা একটি উন্নয়নশীল অর্থনীতির ইতিবাচক রূপান্তরকে নির্দেশ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও