যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৩

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

তথ্য-১: সালাম হয় মেরুদণ্ডীকালাম হয় মেরুদণ্ডীকমল হয় মেরুদণ্ডীসুতরাং সকল মানুষ হয় মেরুদণ্ডী প্রাণী।
তথ্য-২ : আমির সাহেব ওষুধ বিক্রেতা। জ্বর-সর্দিসহ বিভিন্ন রোগের ওষুধ তিনি একটি নামকরা কোম্পানির বিক্রি করেন। এজন্য লোকজন মনে করে, ফার্মেসিটি ওই কোম্পানির একটি বিক্রয়কেন্দ্র।

  1. ক)

    বৈজ্ঞানিক আরোহ কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    অবৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত সম্ভাব্য কেন?

    (2)
  3. গ)

    ফার্মেসি সম্পর্কে লোকজনের ভাবনা কোন আরোহকে ইঙ্গিত করেছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    তথ্য-১ এবং তথ্য-২-এর সম্পর্ক বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়মের ওপর নির্ভর করে কয়েকটি বিশেষ দৃষ্টান্তের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে একটি সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য প্রতিষ্ঠা করার প্রক্রিয়াকে বৈজ্ঞানিক আরোহ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অবৈজ্ঞানিক আরোহে কোনো কার্যকারণ সম্পর্কের বিচার-বিশ্লেষণ ছাড়াই কেবল অবাধ ও অনুকূল অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সার্বিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কার্যকারণ নিয়মের অনুপস্থিতির কারণে যেকোনো সময় একটিমাত্র প্রতিকূল বা বিপরীত দৃষ্টান্ত প্রকাশিত হলেই পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত বাতিল হয়ে যেতে পারে। তাই অবৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত নয়, বরং সম্ভাব্য।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ফার্মেসি সম্পর্কে লোকজনের ভাবনা আরোহের অন্যতম রূপ 'সাদৃশ্যানুমান'কে (বিশেষভাবে অসাধু সাদৃশ্যানুমান) ইঙ্গিত করেছে।

    দুটি বস্তুর মধ্যে কয়েকটি অগুরুত্বপূর্ণ বা আপাত বিষয়ে মিল দেখে তাদের মধ্যে অন্য কোনো বিশেষ গুণ বা সম্পর্কের বিদ্যমানতা অনুমান করাকে অসাধু সাদৃশ্যানুমান বলে।

    উদ্দীপকের তথ্য-২ এ দেখা যায়, আমির সাহেব কেবল একটি নির্দিষ্ট নামকরা কোম্পানির ওষুধ বেশি বিক্রি করেন। লোকজন এই একটি আপাত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ফার্মেসিটি সরাসরি ওই কোম্পানির বিক্রয়কেন্দ্র বলে ধরে নিয়েছে। কিন্তু কোনো ডিলারশিপ বা সরাসরি মালিকানার মতো মৌলিক ও শর্তযুক্ত প্রমাণ ছাড়াই কেবল ওষুধ বিক্রির বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে এমন ধারণা করা অযৌক্তিক সাদৃশ্যানুমানকে নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের তথ্য-১ এ 'বৈজ্ঞানিক আরোহ' এবং তথ্য-২ এ 'সাদৃশ্যানুমান' এর প্রতিফলন ঘটেছে। যুক্তিবিদ্যার আলোকে এদের সম্পর্ক ও তুলনামূলক রূপ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. সাধারণ মিল বা আরোহমূলক সাদৃশ্য: তথ্য-১ এবং তথ্য-২ উভয়ই আরোহ অনুমানের প্রক্রিয়া। উভয়ের মধ্যেই জানা থেকে অজানায় উত্তরণের প্রক্রিয়া অর্থাৎ 'আরোহমূলক লম্ফ' রয়েছে। তথ্য-১ এ সালাম, কালামদের দেখে সকল মানুষ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং তথ্য-২ এ ওষুধ বিক্রির পর্যবেক্ষণ থেকে ফার্মেসির মালিকানা অনুমান করা হয়েছে।

    ২. কার্যকারণ সম্পর্কের উপস্থিতি: তথ্য-১ এর ক্ষেত্রে মানুষ হিসেবে মেরুদণ্ডী হওয়ার পেছনে বৈজ্ঞানিক ও শারীরবৃত্তীয় কার্যকারণ সম্বন্ধ এবং প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা বিদ্যমান, যার ফলে সিদ্ধান্তটি সুনিশ্চিত। কিন্তু তথ্য-২ এ নামকরা কোম্পানির ওষুধ বিক্রি করার সাথে ফার্মেসিটি সেই কোম্পানির বিক্রয়কেন্দ্র হওয়ার কোনো অনিবার্য কার্যকারণ সম্পর্ক নেই।

    ৩. সিদ্ধান্তের নিশ্চয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা: তথ্য-১ এ প্রতিষ্ঠিত সিদ্ধান্ত নিশ্চিত এবং সার্বিক সত্য। পক্ষান্তরে তথ্য-২ এ লোকজনের ভাবনা একটি সাদৃশ্যানুমান হওয়ায় এর সিদ্ধান্ত কেবল সম্ভাব্য এবং এতে ভ্রান্তির ঝুঁকি অনেক বেশি।

    অতএব, উভয় প্রক্রিয়াই আরোহ অনুমানের অন্তর্গত হলেও বৈজ্ঞানিক আরোহ (তথ্য-১) বস্তুগত সত্যতা ও কার্যকারণ সম্পর্কের ভিত্তিতে গঠিত একটি সুদৃঢ় অনুমান, যেখানে তথ্য-২ সাদৃশ্যের ওপর নির্ভরশীল একটি দুর্বল ও সম্ভাব্য অনুমান।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন