পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৩
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
অন্ধত্বের শিকার সুমন তার পরিবারের কাছে নিগৃহীত। তার দাদি তাকে অমঙ্গলের চিহ্ন ভেবে সারাক্ষণ বিভিন্ন ধরনের ভর্ৎসনা করেন। সুমন সব সময় একাকী বসে নিজের ভাগ্যকে দোষার করতে থাকে। পরিবারের সদস্যদের প্রতি সে আর্থিকভাবে নির্ভরশীল বলে আরো বেশি মনেঃকষ্টের ভোগে। সে কোথাও একা যেতেও পারে না। ফলে সে গৃহবন্দী দুর্বিসহ জীবন কাটায়।
- ক)(1)
AIDS- এর পূর্ণরূপ কী?
- খ)(2)
প্রতিবন্ধীকতার দুটি কারণ উল্লেখ কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে সুমন একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
সুমনের মতো প্রতিবন্ধীদের সমস্যা সমাধানের উপায় সমূহ বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
AIDS-এর পূর্ণরূপ হলো Acquired Immuno Deficiency Syndrome।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রতিবন্ধিতার দুটি কারণ হলো:
১. জন্মগত বা বংশগত কারণ (যেমন: গর্ভাবস্থায় মায়ের অপুষ্টি, ভুল ওষুধ সেবন বা জিনগত ত্রুটি)।
২. দুর্ঘটনা বা রোগব্যাধিজনিত কারণ (যেমন: সড়ক দুর্ঘটনা, পোলিও বা সঠিক চিকিৎসার অভাব)। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সুমন একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী, কারণ সে অন্ধত্বের শিকার এবং কোনো কিছু দেখতে পায় না।
যেসকল ব্যক্তি দৃষ্টিশক্তি সম্পূর্ণরূপে হারিয়ে ফেলেন অথবা আংশিকভাবে এত কম দেখতে পান যে সাধারণ আলো বা চশমা দিয়েও স্বাভাবিক কাজকর্ম বা চলাফেরা করতে পারেন না, তাদের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বলা হয়।
উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে যে সুমন অন্ধত্বের শিকার এবং সে একা কোথাও যেতে পারে না। সে পরিবারের অন্য সদস্যদের ওপর নির্ভরশীল এবং একাকী গৃহবন্দী জীবনযাপন করে। দৃষ্টিশক্তি না থাকার কারণে এই স্বাভাবিক চলাচল ও আত্মনির্ভরশীলতা হারানোর বৈশিষ্ট্যটি স্পষ্টতই সুমনের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতাকে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সুমনের মতো প্রতিবন্ধীদের সমস্যা সমাধানে রাষ্ট্র, সমাজ এবং পরিবারের যৌথ উদ্যোগে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ আবশ্যক। সমস্যা সমাধানের প্রধান উপায়গুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ও পারিবারিক সচেতনতা: প্রতিবন্ধিতাকে কোনো 'অমঙ্গল' বা পাপ মনে না করে সুমনের পরিবারের মতো কুসংস্কারগ্রস্ত ধারণা দূর করতে হবে এবং তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ প্রদর্শন করতে হবে।
২. বিশেষ শিক্ষা ও ব্রেইল পদ্ধতির ব্যবস্থা: দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য ব্রেইল পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তারা শিক্ষিত হয়ে নিজের ওপর আস্থা ফিরে পায়।
৩. বৃত্তিমূলক ও কারিগরি প্রশিক্ষণ: তাদের উপযুক্ত কর্মমুখী প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা প্রয়োজন, যেন তারা পরনির্ভরশীল না থাকে।
৪. সহায়ক উপকরণ ও প্রবেশগম্যতা নিশ্চিতকরণ: চলাচলের জন্য সাদা ছড়ি এবং সার্বজনীন সুগম যাতায়াত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
৫. পুনর্বাসন ও সামাজিক সুরক্ষা: সরকার ও বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ভাতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানে কোটা সুবিধা এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি।উপরোক্ত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে সুমনের মতো প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সমাজের মূলধারায় সংযুক্ত হয়ে স্বাভাবিক ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও