বাংলা ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

ইতিহাস পথ নিলো কুটিল পদ্মার বাঁকে বাঁকে, বারুদে জোয়ার লাগে, পীতাঙ্গ গোঁয়ার বান ডাকে- এশিয়ার সূর্য ওঠে দোর্দণ্ড প্রতাপ। আর্তনাদ করে নিতে অগণিত প্রজাপুঞ্জ বিশ্বাসঘাতক প্রভু নিয়েছে বিদায়; যে ক্লীব পালাবে তার মুক্তি নেই আর।

  1. ক)

    সিরাজউদ্দৌলার মায়ের নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    "আমার নালিশ আজ আমার বিরুদ্ধে”- এ উক্তির তাৎপর্য কী?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের বক্তব্যের সাথে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের পটভূমিগত সাদৃশ্য কতটুকু বিশ্লেষণ করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “বিশ্বাসঘাতক প্রভু নিয়েছে বিদায়।"- এ উক্তিটি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের কাহিনীর আলোকে কতটা সত্য? মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সিরাজউদ্দৌলার মায়ের নাম আমেনা বেগম।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "আমার নালিশ আজ আমার বিরুদ্ধে"— নবাব সিরাজউদ্দৌলার এ উক্তিটির মাধ্যমে তাঁর নিজের ভুল সিদ্ধান্ত ও অতিরিক্ত ক্ষমাশীলতার প্রতি আত্মধিক্কার প্রকাশিত হয়েছে।

    ইংরেজ ও প্রাসাদের ঘাতক-ষড়যন্ত্রকারীদের ঔদ্ধত্য দেখে নবাব বুঝতে পারেন যে, পূর্বে তাদের বারবার ক্ষমা করে তিনি মারাত্মক ভুল করেছিলেন। রাজবল্লভ, জগৎশেঠ, মীরজাফরদের অপরাধ জানা সত্ত্বেও কঠোর শাস্তি না দিয়ে তিনি বিশ্বাস রেখেছিলেন, যার ফলে দেশ আজ চরম বিপদের মুখে। তাই অন্যের ওপর দোষ না চাপিয়ে নবাব নিজের অতিরিক্ত সরলতা ও রাজনৈতিক দুর্বলতার জন্য নিজেকেই দায়ী করে এই আক্ষেপ করেছেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের বক্তব্য ও শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের ঐতিহাসিক পটভূমির মধ্যে গভীর সাদৃশ্য বিদ্যমান।

    'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মূল পটভূমি হলো অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে পলাশীর যুদ্ধের প্রাক্কালে বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার পরাধীনতার কালো ছায়া এবং ঔপনিবেশিক ইংরেজ শক্তির আগ্রাসন। দেশীয় কুচক্রী ও বিশ্বাসঘাতকদের সহযোগিতায় ইংরেজ সেনাপতি ক্লাইভ বারুদের শক্তিতে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বাংলা তথা সমগ্র এশিয়ার স্বাধীন সূর্যকে অস্তমিত করেছিল। সাধারণ মানুষ ও প্রজার আর্তনাদ ছাপিয়ে দেশ চলে গিয়েছিল শোষকদের হাতে।

    উদ্দীপকেও দেখা যায় বারুদের জোয়ার, পথ হারানো ইতিহাস এবং এশিয়ার ওপর নিষ্ঠুর শক্তির দোর্দণ্ড প্রতাপ বিস্তারের চিত্র। বিশ্বাসঘাতকের বিদায় ও প্রজাপুঞ্জের আর্তনাদের যে রূপ উদ্দীপকের কবিতায় ফুটে উঠেছে, তা মূলত পলাশীর প্রান্তরে বাংলার স্বাধীনতার পতন এবং কোম্পানির শাসন কায়েম হওয়ার ঐতিহাসিক পটভূমিকেই প্রতিফলিত করে। ফলে উভয় রচনার পটভূমিগত ঐক্য অত্যন্ত সুস্পষ্ট।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “বিশ্বাসঘাতক প্রভু নিয়েছে বিদায়।”— উক্তিটি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের কাহিনীর আলোকে সম্পূর্ণ সত্য নয়, বরং আপাতদৃষ্টিতে বিভ্রান্তিকর এবং প্রকৃত অর্থে বিপরীতমুখী।

    উদ্দীপকের উক্তিতে শাসককে 'বিশ্বাসঘাতক প্রভু' হিসেবে আখ্যা দিয়ে তার পলায়নের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। কিন্তু 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলা কোনো বিশ্বাসঘাতক প্রভু ছিলেন না; তিনি ছিলেন বাংলার স্বাধীনতাকামী, প্রজাদরদি ও দেশপ্রেমিক এক সার্বভৌম শাসক। তিনি সাম্রাজ্য রক্ষার জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করেছেন এবং বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন তাঁরই সভাসদ ও সেনাপতিরা— যেমন মীরজাফর, রায়দুর্লভ, উমিচাঁদ ও জগৎশেঠ। নবাবের পতন বা পলায়ন কোনো ক্লীবের পলায়নের মতো ছিল না; বরং তা ছিল নতুন শক্তি সঞ্চয় করে পুনরায় দেশকে রক্ষার ব্যর্থ চেষ্টা।

    তবে ইতিহাসের প্রেক্ষিতে বিচার করলে, নবাবের পতনের মাধ্যমে স্বাধীন শাসনব্যবস্থা বিদায় নিয়েছিল এবং ক্ষমতায় বসেছিল প্রকৃত বিশ্বাসঘাতকদের পুতুল সরকার। নাটকের মূল চেতনা হলো সিরাজউদ্দৌলার দেশপ্রেম ও ট্র্যাজেডি; তিনি প্রজাদের আর্তনাদ উপেক্ষা করে অন্যায় করেননি, বরং বিশ্বাসঘাতক অমাত্যদের কারণে নিগৃহীত হয়েছিলেন।

    সুতরাং, সিরাজউদ্দৌলাকে 'বিশ্বাসঘাতক প্রভু' আখ্যায়িত করা নাটকের ঐতিহাসিক সত্য ও চরিত্রের মহিমার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন