ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৬
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র প্রশ্ন
অফিস পিয়ন শামীম অধ্যক্ষের চিঠিগুলো নিয়ে পোস্ট অফিসে যাওয়ার সময় উপাধ্যক্ষ মহোদয় তাকে কতগুলো কাগজ দিয়ে ফটোকপি করে আনতে বললেন। ফটোকপি করা শেষে শামীম পোস্ট অফিসে গিয়ে জানতে পারলো ততক্ষণে প্রথম ডাক চলে গেছে। যথাসময়ে চিঠিটি ডাকে না দেয়ার কারণে অধ্যক্ষ মহোদয় পিয়ন শামীমকে কৈফিয়ত তলব করেন।
- ক)(1)
ব্যবস্থাপনা কী?
- খ)(2)
জোড়া মই শিকল নীতি বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে ব্যবস্থাপনার কোন নীতিটি লঙ্ঘিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত অধ্যক্ষ মহোদয় কর্তৃক পিয়ন শামীমকে কৈফিয়ত তলব করার যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় উপায়-উপকরণগুলোর সংহতকরণ এবং পরিকল্পনা, সংগঠন, কর্মীসংস্থান, নির্দেশনা, প্রেষণা, সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ কার্যাবলির ধারাবাহিক প্রক্রিয়াকে ব্যবস্থাপনা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জোড়ামই শিকল নীতি (Scalar Chain) বলতে প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে সর্বনিম্ন পর্যায় পর্যন্ত কর্তৃত্ব ও যোগাযোগের অবিচ্ছিন্ন ও নিয়মতান্ত্রিক ধারা বা শৃঙ্খলকে বোঝায়।
এই নীতি অনুসারে প্রতিটি আদেশ, নির্দেশ ও তথ্য এই শিকল বা ধাপ অনুযায়ী ক্রমান্বয়ে উপর থেকে নিচে বা নিচ থেকে উপরে পরিবাহিত হতে হয়, যাতে প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা বজায় থাকে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ব্যবস্থাপনার 'আদেশের ঐক্য' (Unity of Command) নীতিটি লঙ্ঘিত হয়েছে।
আদেশের ঐক্য নীতি অনুযায়ী, একজন অধস্তন কর্মী কেবল একজন মাত্র প্রত্যক্ষ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নিকট থেকে আদেশ পাবেন এবং তাঁর কাছেই কাজের জন্য সরাসরি জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবেন। একাধিক কর্মকর্তার যুগপৎ আদেশ অধীনস্থ কর্মীর মনে বিভ্রান্তি, দ্বিধা ও কাজের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।
উদ্দীপকে অফিস পিয়ন শামীম অধ্যক্ষ মহোদয়ের চিঠি নিয়ে পোস্ট অফিসে যাওয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিল। কিন্তু যাওয়ার পথে উপাধ্যক্ষ মহোদয় তাকে অন্য কিছু কাগজ ফটোকপির নির্দেশ দেন। একই সময়ে দুজন ঊর্ধ্বতনের পরস্পরবিরোধী দায়িত্ব পাওয়ার ফলে শামীম উপাধ্যক্ষের আদেশ পালন করতে গিয়ে অধ্যক্ষের গুরুত্বপূর্ণ কাজটি যথাসময়ে সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয়। সুতরাং, এখানে আদেশের ঐক্য নীতি লঙ্ঘিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত অধ্যক্ষ মহোদয় কর্তৃক পিয়ন শামীমকে কৈফিয়ত তলব করার পদক্ষেপটি প্রশাসনিক শৃঙ্খলার দৃষ্টিকোণ থেকে স্বাভাবিক হলেও সার্বিক বিবেচনায় যৌক্তিক নয়।
ব্যবস্থাপনার অন্যতম মৌলিক নীতি হলো কর্তৃত্ব ও দায়িত্বের সমতা এবং আদেশের ঐক্য। অধীনস্থ কর্মীকে কোনো দায়িত্ব প্রদানের পর যদি অন্য কোনো সমমর্যাদা বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাকে অন্য কাজে নিয়োজিত করেন, তবে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার জন্য কেবল অধীনস্থ কর্মচারীকে এককভাবে দায়ী করা অনুচিত।
উদ্দীপকে শামীম স্বেচ্ছায় বা অবহেলাবশত চিঠি ডাকে দিতে দেরি করেনি। সে প্রতিষ্ঠানটিরই দ্বিতীয় শীর্ষ ব্যক্তি উপাধ্যক্ষ মহোদয়ের প্রদত্ত কাগজ ফটোকপি করতে বাধ্য হয়েছিল। শামীমের মতো একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর পক্ষে উপাধ্যক্ষের আদেশ অমান্য করা সম্ভব ছিল না। উপাধ্যক্ষ মহোদয়ের অনধিকার চর্চা ও আদেশের ঐক্য নীতি লঙ্ঘনের কারণেই মূলত কাজটি যথাসময়ে হয়নি। প্রকৃত কারণ উদঘাটন না করে কেবল দুর্বল পিয়ন শামীমকে দোষারোপ করা বা কৈফিয়ত তলব করা অবিবেচনাপ্রসূত।
অতএব, অধ্যক্ষ মহোদয়ের উচিত ছিল শামীমকে জবাবদিহি করানোর আগে উপাধ্যক্ষ মহোদয়ের দেওয়া নির্দেশের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া। কাজেই শামীমকে এককভাবে দায়ী করে কৈফিয়ত তলব করা পুরোপুরি যৌক্তিক বলা যায় না।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও