উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২১
উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র প্রশ্ন
জনাব পিটু চৌধুরীর সিমেন্ট কারখানায় বর্তমানে ২০০ জন শ্রমিক কর্মরত আছে। উক্ত প্রতিষ্ঠানে তার বিনিয়োগের পরিমাণ ২০ কোটি টাকা। জনাব পিটু চৌধুরীর সাফল্য দেখে তার বন্ধু লিটন তার বন্ধুসহ একই স্থানে অন্য একটি সিমেন্ট কারখানা স্থাপন করেন। তাদের কারখানায় বিনিয়োগের পরিমাণ ৫০ কোটি টাকা। ৩৫০ জন শ্রমিক নিয়োগের মাধ্যমে লিটন সাহেবের ব্যবসায়টিও সফলতার সাথে এগিয়ে চলছে।
- ক)(1)
উৎপাদন মাত্ৰা কী?
- খ)(2)
“কুটির শিল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক”— ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে জনাব পিটু চৌধুরীর প্রতিষ্ঠানটি মাত্রা অনুযায়ী কোন ধরনের এন্টারপ্রাইজ? ব্যাখ্যা করো ।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানদুটির মধ্যে জাতীয় অর্থনীতিতে কোনটির ভূমিকা বেশি? ধরন উল্লেখ করে মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যে পরিমাণ পণ্য বা সেবা উৎপাদনের ক্ষমতা বা সামর্থ্য রাখে, তাকে উৎপাদন মাত্রা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কুটির শিল্প মূলত পরিবারভিত্তিক এবং স্বল্প পুঁজিনির্ভর হওয়ায় এটি ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এ ধরনের শিল্পে স্থানীয় কাঁচামাল এবং পরিবারের সদস্যদের শ্রমকে কাজে লাগানো হয়। বিশেষ করে নারী, বেকার যুবক এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর ঘরে বসেই আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়, যা দারিদ্র্য দূরীকরণ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জনাব পিটু চৌধুরীর প্রতিষ্ঠানটি উৎপাদন মাত্রা ও জাতীয় শিল্পনীতি অনুযায়ী একটি 'মাঝারি শিল্প' (Medium Enterprise)।
বাংলাদেশের জাতীয় শিল্পনীতি অনুযায়ী, উৎপাদনমুখী শিল্পে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ১৫ কোটি টাকার অধিক এবং অনূর্ধ্ব ৫০ কোটি টাকা হলে কিংবা যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ১২১ থেকে ৩০০ জন শ্রমিক নিয়োজিত থাকে, তাকে মাঝারি শিল্প বলে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব পিটু চৌধুরীর সিমেন্ট কারখানায় বিনিয়োগের পরিমাণ ২০ কোটি টাকা এবং কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যা ২০০ জন। বিনিয়োগ (১৫ কোটি থেকে ৫০ কোটির মধ্যে) এবং শ্রমিক সংখ্যা (১২১ থেকে ৩০০ জনের মধ্যে) উভয় মানদণ্ড বিবেচনায় প্রতিষ্ঠানটি উৎপাদনমুখী মাঝারি শিল্পের আওতাভুক্ত।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানদুটির মধ্যে জাতীয় অর্থনীতিতে জনাব লিটনের 'বৃহৎ শিল্প' প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা বেশি।
জাতীয় শিল্পনীতি অনুযায়ী, উৎপাদনমুখী শিল্পে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ৫০ কোটি টাকার অধিক কিংবা যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ৩০০ জনের অধিক শ্রমিক নিয়োজিত থাকে, তাকে বৃহৎ শিল্প বলে। উদ্দীপকে জনাব পিটু চৌধুরীর কারখানাটি মাঝারি শিল্প হলেও তার বন্ধু লিটনের প্রতিষ্ঠানটিতে বিনিয়োগের পরিমাণ ৫০ কোটি টাকা এবং শ্রমিক সংখ্যা ৩৫০ জন। শ্রমিক সংখ্যা ৩০০-এর বেশি হওয়ায় লিটন সাহেবের কারখানাটি একটি 'বৃহৎ শিল্প'।
মাঝারি শিল্পের তুলনায় বৃহৎ শিল্পের উৎপাদন ক্ষমতা অনেক বেশি থাকে। এটি অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি করে, যা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সহায়ক। তাছাড়া বৃহৎ শিল্প ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে, সরকারি রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করে এবং দেশে আধুনিক প্রযুক্তির বিস্তার ঘটায়। উদ্দীপকে লিটন সাহেবের কারখানায় ৩৫০ জন শ্রমিক কাজ করছে এবং বিপুল পরিমাণ মূলধন খাটানো হয়েছে, যা পিটু চৌধুরীর কারখানার তুলনায় দেশের অর্থনীতিতে সামগ্রিক উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও জাতীয় আয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি অবদান রাখছে। সুতরাং, জাতীয় অর্থনীতিতে বৃহৎ শিল্প হিসেবে লিটন সাহেবের প্রতিষ্ঠানের ভূমিকাই বেশি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও