সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, যশোর, সিলেট বোর্ড ২০২৩
সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
মি. সেলিম সাহেব খুলনার একজন সুপরিচিত এবং ধনাঢ্য ব্যবসায়ী। তার একমাত্র সন্তান নিরব শহরের একটি স্বনামধন্য স্কুলের মেধাবী ছাত্র। ইদানিং সে স্কুল ফাঁকি দিয়ে কিছু বন্ধুদের সঙ্গে সিনেমা দেখতে যায়, রাস্তার মোড়ে আড্ডায় রত থাকে, মেয়েদেরকে। উত্ত্যক্ত করে। এমনকি নেশা করার পাশাপাশি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে। থাকে।
- ক)(1)
প্রগতি কী?
- খ)(2)
অনুলোম ও প্রতিলোম বিবাহ বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকের নিরবের কর্মকাণ্ড অপরাধের কোন ধরনকে ইঙ্গিত। করে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
নিরবের মতো বিপথগামীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে? নিজ মতামতসহ। বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রগতি হলো কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের দিকে কোনো সমাজের সামগ্রিক ইতিবাচক, গুণগত ও কল্যাণমুখী পরিবর্তন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উচ্চবর্ণের পুরুষের সঙ্গে নিম্নবর্ণের নারীর বিবাহকে 'অনুলোম বিবাহ' বলা হয়। প্রাচীন হিন্দু সমাজে এ ধরনের বিবাহ সামাজিকভাবে স্বীকৃত ছিল।
অন্যদিকে, উচ্চবর্ণের নারীর সঙ্গে নিম্নবর্ণের পুরুষের বিবাহকে 'প্রতিলোম বিবাহ' বলা হয়। প্রাচীন বর্ণপ্রথা অনুযায়ী এ ধরনের বিবাহ সামাজিকভাবে অস্বীকৃত ও নিন্দনীয় ছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নিরবের কর্মকাণ্ড অপরাধের ‘কিশোর অপরাধ’ (Juvenile Delinquency) ধরনকে ইঙ্গিত করে।
আইন অনুযায়ী অপ্রাপ্তবয়স্ক বা নির্দিষ্ট বয়সসীমার (বাংলাদেশে সাধারণত ৭ থেকে অনূর্ধ্ব ১৬ বছর, শিশু আইনে ১৮ বছর পর্যন্ত) কোনো শিশু-কিশোর কর্তৃক সমাজ বা রাষ্ট্রবিরোধী আচরণ ও আইন লঙ্ঘন করাকে কিশোর অপরাধ বলে। সাধারণত অসৎ সঙ্গ, পারিবারিক তদারকির অভাব ও নৈতিক শিক্ষার অভাবে কিশোররা এ পথে পা বাড়ায়।
উদ্দীপকের নিরব স্কুলের একজন ছাত্র, অর্থাৎ সে অপ্রাপ্তবয়স্ক বা কিশোর। সে স্কুল ফাঁকি দিয়ে সিনেমা দেখতে যাওয়া, মোড়ে আড্ডা দেওয়া, মেয়েদের উত্ত্যক্ত (ইভটিজিং) করা, মাদক গ্রহণ এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িয়ে পড়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় আইন ও সমাজবিরোধী এসব কাজে লিপ্ত হওয়া কিশোর অপরাধেরই সুস্পষ্ট রূপ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নিরবের মতো বিপথগামী কিশোরদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সংশোধনমূলক ও সহযোগিতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। আমার মতে নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে:
১. কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে প্রেরণ: প্রচলিত কারাগারে অপরাধীদের সাথে না রেখে তাকে কিশোর উন্নয়ন বা সংশোধন কেন্দ্রে পাঠিয়ে কাউন্সেলিং ও মানসিক রূপান্তরের ব্যবস্থা করা।
২. পারিবারিক সচেতনতা ও সান্নিধ্য: পিতা-মাতা ধনী হলেও সন্তানের সঠিক মানসিক বিকাশের জন্য সময় দেওয়া প্রয়োজন। নিরবের পরিবারকে তার সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলে একাকীত্ব ও অসৎ সঙ্গ থেকে মুক্ত রাখতে হবে।
৩. মাদকাসক্তি নিরাময়: মাদক থেকে মুক্তি দিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রিহ্যাবিলিটেশন বা পুনর্বাসন কেন্দ্রে রেখে চিকিৎসা প্রদান।
৪. অসৎ সঙ্গ ত্যাগ ও পরিবেশ পরিবর্তন: খারাপ বন্ধুদের সঙ্গ বিচ্ছিন্ন করা এবং প্রয়োজনে স্কুল বা বাসস্থান পরিবর্তন করা।
৫. ইতিবাচক কাজে সম্পৃক্তকরণ: খেলাধুলা, সৃজনশীল কর্মকাণ্ড, সাহিত্যচর্চা ও সামাজিক সেবামূলক কাজে তাকে উৎসাহিত ও ব্যস্ত রাখা।
৬. নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষা প্রদান: মূল্যবোধ জাগ্রত করতে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সঠিক নৈতিক ও সামাজিক শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করা।অতএব, শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পরিবর্তে সংশোধনমূলক ও সহানুভূতিশীল পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমেই নিরবের মতো বিপথগামীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও