সহপাঠ • উপন্যাস: লালসালু • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৯
সহপাঠ প্রশ্ন
তুহিন বন্ধুদের নিয়ে মধুখালী নদীর তীরে বেড়াতে গেল। তাদের খেয়া নৌকার মাঝি 'হানিফ' নদীর লঞ্চ টার্মিনালের পাশে আস্তানা গেড়েছে। গত তিনদিন আগেও যেখানে মানুষের নিশানা ছিল না; সেখানে লাল কাপড়ের সীমানা। ইতোমধ্যে সেখানে অনেক লোক জড়ো হয়েছে এবং ‘হানিফ'কে ঘিরে জিকির করছে। হানিফের মহিমা বর্ণিত হচ্ছে। মাটিতে বিছানো লাল কাপড়ে টাকা-পয়সার স্তূপ ।
- ক)(1)
খালেক ব্যাপারীর দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম কী?
- খ)(2)
“শস্যের চেয়ে টুপি বেশি, ধর্মের আগাছা বেশি"। বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের বর্ণিত ঘটনার সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের কোন ঘটনা অনুরূপ? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“উদ্দীপকের, হানিফ এবং ‘লালসালু' উপন্যাসের মজিদের আত্মিপ্রতিষ্ঠা একই বৃত্তে আবদ্ধ।” – তোমার মতামত দিয়ে ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
খালেক ব্যাপারীর দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম তনুবিবি।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“শস্যের চেয়ে টুপি বেশি, ধর্মের আগাছা বেশি”— কথাটির মাধ্যমে মহব্বতনগর গ্রামের মানুষের ধর্মীয় অজ্ঞতা, কুসংস্কার ও ধর্মান্ধতাকে নির্দেশ করা হয়েছে।
গ্রামে জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় শস্য বা ফসলের উৎপাদন কম হলেও সেখানে ধর্মীয় লেবাসধারী মানুষের সংখ্যা ছিল প্রচুর। মানুষ ধর্মের প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত না হয়ে ধর্মীয় কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস ও বাহ্যিক আচার-অনুষ্ঠানকেই সর্বস্ব জ্ঞান করত। জমিতে অপ্রয়োজনীয় আগাছা যেমন ফসলের ক্ষতি করে, তেমনি ধর্মের অপব্যাখ্যা ও ভণ্ড ধর্মব্যবসায়ীদের প্রভাব সমাজকে অবক্ষয়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছিল। লেখক এই নির্মম বাস্তবতা বোঝাতেই ব্যঙ্গাত্মক এ মন্তব্যটি করেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের বর্ণিত ঘটনার সাথে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ কর্তৃক মহব্বতনগর গ্রামে এসে মোদাচ্ছের পীরের ভুয়া মাজার প্রতিষ্ঠার ঘটনার সাদৃশ্য বা অনুরূপতা রয়েছে।
'লালসালু' উপন্যাসে দেখা যায়, মজিদ নিজের জীবিকা ও প্রতিপত্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কুসংস্কারাচ্ছন্ন মহব্বতনগর গ্রামে প্রবেশ করে একটি পুরোনো ও অজ্ঞাত কবরকে ‘মোদাচ্ছের পীরের মাজার’ হিসেবে ঘোষণা করে। সে গ্রামবাসীকে ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার ও ভীতি প্রদর্শন করে সেই কবরে লালসালু কাপড় বিছিয়ে মাজার বানিয়ে নিজের কায়েমী আস্তানা গড়ে তোলে। ধীরে ধীরে মাজারকে ঘিরে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস ও দান-দক্ষিণার মাধ্যমে সে তার প্রভাব বিস্তার করে।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, মাঝি হানিফ নদীর লঞ্চ টার্মিনালের জনশূন্য একটি স্থানে লাল কাপড়ের সীমানা দিয়ে আস্তানা তৈরি করে। কিছুদিনের মধ্যেই সাধারণ মানুষ তাকে ঘিরে জড়ো হয়, জিকির করতে থাকে এবং লাল কাপড়ে টাকা-পয়সার স্তূপ জমে ওঠে। ধর্মীয় অনুভূতিকে পুঁজি করে লাল কাপড়ের মাধ্যমে ভিত্তিহীন ধর্মব্যবসায়ের ফাঁদ পাতার এই প্রক্রিয়াটি 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদের মাজার প্রতিষ্ঠার ঘটনার সাথে সম্পূর্ণ অনুরূপ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“উদ্দীপকের হানিফ এবং ‘লালসালু’ উপন্যাসের মজিদের আত্মপ্রতিষ্ঠা একই বৃত্তে আবদ্ধ”— মন্তব্যটি যথার্থ ও যৌক্তিক।
উভয়ের আত্মপ্রতিষ্ঠার ভিত্তি ও কৌশল গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তারা দুজনই সাধারণ মানুষের সরল ধর্মবিশ্বাস, অজ্ঞতা এবং কুসংস্কারকে পুঁজি করে নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের অসদুপায় অবলম্বন করেছে।
'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ ছিল মূলত চরম অভাবগ্রস্ত এক নিঃস্ব মানুষ। নিজের অস্তিত্ব রক্ষা ও সমাজে প্রভাব-প্রতিপত্তি কায়েম করার জন্য সে চাতুরীর আশ্রয় নিয়ে মহব্বতনগরের একটি অজ্ঞাত কবরকে পীরের মাজার হিসেবে দাবি করে। লাল কাপড়ে মোড়ানো সেই মাজারকে কেন্দ্র করে সে ধর্মভীরু গ্রামবাসীকে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে এবং তাদের অন্ধবিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে বিত্তশালী ও প্রভাবশালী হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে উদ্দীপকের হানিফও পেশায় একজন খেয়া নৌকার মাঝি হলেও লঞ্চ টার্মিনালের পাশে লাল কাপড়ের সীমানা দিয়ে আস্তানা গেড়েছে। সে মানুষের ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই নিজেকে মহিমান্বিত করেছে। মানুষ তার চাতুরীর ফাঁদে পড়ে জিকির করছে এবং টাকা-পয়সা দান করে তার আস্তানা ভরিয়ে তুলছে।
অতএব, হানিফ ও মজিদ— দুজনেরই লক্ষ্য আত্মপ্রতিষ্ঠা এবং অর্থবিত্ত লাভ। আর সেই লক্ষ্য অর্জনে তারা দুজনেই ধর্মব্যবসা, লাল কাপড়ের প্রতীকী মোহ এবং মানুষের অজ্ঞতাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। তাদের চিন্তা ও কর্মপদ্ধতি একই সূত্রে গাঁথা হওয়ায় বলা যায়, তাদের আত্মপ্রতিষ্ঠা একই বৃত্তে আবদ্ধ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও