ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৬
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র প্রশ্ন
মিঃ তৌহিদ রূপালী কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় কাজ তার অধস্তনদের বুঝিয়ে দিয়ে প্রয়োজনীয় দায়িত্ব ও কর্তৃত্ব হস্তান্তর করেন। তার অফিসের ফ্যাক্স মেশিনটি খারাপ হওয়ায় পিয়ন আবুলকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট জরুরী ভিত্তিতে ফ্যাক্স করার জন্য বাহিরে পাঠায়। আবুলের প্রস্থানের পরপরই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান তামিম মিঃ তৌহিদের রুমে প্রবেশ করেন। চেয়ারম্যানের আপ্যায়নের জন্য মাঝপথ থেকে মিঃ তৌহিদ আবুলকে ফিরিয়ে আনেন। চেয়ারম্যান চলে যাবার পর আবুল ডকুমেন্টটি ফ্যাক্স করে। ফ্যাক্স দেরীতে পার্টির নিকট পৌঁছানোর কারণে বিদেশী অর্ডারটি বাতিল হয়। এ কারণে মিঃ তৌহিদ আবুলকে বরখাস্ত করেন। ফলে শ্রমিক সংঘ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।
- ক)(1)
নীতি কি?
- খ)(2)
ব্যবস্থাপনার চক্র বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
তুমি কি মনে করো আবুলকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্ভূত পরিস্থিতিটি সমাধানে মিঃ তৌহিদের করণীয় ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নীতি হলো কোনো কাজ সম্পাদনের জন্য দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও অনুশীলনের মাধ্যমে গড়ে ওঠা সাধারণ নির্দেশিকা বা মৌলিক সত্য।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্যবস্থাপনার ধারাবাহিক ও পরস্পর নির্ভরশীল কার্যাবলির চক্রাকারে আবর্তিত হওয়াকে ব্যবস্থাপনা চক্র বলে।
ব্যবস্থাপনা চক্রের প্রধান কাজগুলো হলো—পরিকল্পনা, সংগঠন, কর্মীসংস্থান, নির্দেশনা, প্রেষণা, সমন্বয়সাধন এবং নিয়ন্ত্রণ। একটি কাজ শেষ হলে পরবর্তী কাজের সূচনা হয় এবং নিয়ন্ত্রণ কার্যের মাধ্যমে পুনরায় নতুন পরিকল্পনা গ্রহণের মধ্য দিয়ে এ প্রক্রিয়া চক্রের মতো চলতে থাকে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
না, আমি মনে করি পিয়ন আবুলকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল না।
ব্যবস্থাপনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নীতি হলো 'জোড়া-মই-শিকল' এবং 'আদেশের ঐক্য' নীতি, যেখানে নির্দেশনার স্পষ্টতা এবং কর্মচারীদের প্রতি সুবিচার নিশ্চিত করা আবশ্যক। কারো ওপর এমন কোনো ভুলের দায় চাপানো অনুচিত যা তার নিজস্ব ব্যর্থতার কারণে ঘটেনি।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জরুরি ফ্যাক্স পাঠানোর উদ্দেশ্যে আবুল রওনা হলেও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিঃ তৌহিদ নিজে চেয়ারম্যানের আপ্যায়নের মতো অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য তাকে মাঝপথ থেকে ফিরিয়ে আনেন। পরবর্তীতে ফ্যাক্স পৌঁছাতে দেরি হওয়া এবং অর্ডার বাতিলের মূল কারণ ছিল মিঃ তৌহিদের ভুল অগ্রাধিকার ও সিদ্ধান্তহীনতা। অথচ নিজের ভুলের দায় আবুলের ওপর চাপিয়ে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অন্যায্য ও অগ্রহণযোগ্য। তাই সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল না।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্ভূত পরিস্থিতি (শ্রমিক বিক্ষোভ ও অসন্তোষ) নিরসনে মিঃ তৌহিদের অবিলম্বে আবুলকে স্বপদে পুনর্বহাল করা এবং শ্রমিক সংঘের সাথে ফলপ্রসূ আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
ব্যবস্থাপনায় সুবিচার নিশ্চিত না হলে শ্রম অসন্তোষ দেখা দেয়, যা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে ব্যাহত করে। তাই ব্যবস্থাপককে অবিলম্বে সংকট নিরসনে দায়িত্বশীল ও সংবেদনশীল ভূমিকা পালন করতে হয়।
উদ্দীপকে অন্যায়ভাবে আবুলকে বরখাস্ত করার ফলে শ্রমিক সংঘ বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় মিঃ তৌহিদের করণীয় নিম্নরূপ:
১. বরখাস্তাদেশ প্রত্যাহার: আবুলের বরখাস্তের সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল বিধায় এটি তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করে তাকে চাকরিতে পুনর্বহাল করতে হবে।
২. শ্রমিক সংঘের সাথে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা: শ্রমিক নেতাদের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বসে পুরো ঘটনার সঠিক ব্যাখ্যা প্রদান করতে হবে এবং তাদের আস্থা অর্জন করতে হবে।
৩. নিজের ভুলের দায় স্বীকার: ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ হিসেবে নিজের আদেশের অগ্রাধিকার নির্ধারণে যে ভুল ছিল, তা নমনীয়ভাবে গ্রহণ করে সৌহার্দ্য রক্ষা করা।
৪. প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ-সুবিধা ও বিকল্প নিশ্চিত করা: জরুরি যোগাযোগের জন্য নষ্ট ফ্যাক্স মেশিন দ্রুত মেরামত বা বিকল্প আধুনিক প্রযুক্তির (যেমন ইমেইল) ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা না ঘটে।অতএব, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও সমঝোতার মাধ্যমে আবুলকে স্বপদে ফিরিয়ে নেওয়াই উদ্ভূত সংকট সমাধানের সর্বোত্তম উপায়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও