‍অর্থনীতি ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৯

‍অর্থনীতি ১ম পত্র প্রশ্ন

জনাব সুমন চিকিৎসার জন্য ‘X’ দেশে গিয়ে দেখলেন, সেখানে সবকিছুই ব্যক্তি মালিকানায় পরিচালিত হয়, একই সাথে ব্যক্তিগত ভোগের ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ন্ত্রণও আছে ।

  1. ক)

    উৎপাদন বলতে কী বুঝো?

    (1)
  2. খ)

    উৎপাদন সম্ভাবনা রেখার ধারণা দাও ।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত দেশটিতে কোন ধরনের অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান? ব্যাখ্যা করো ।

    (3)
  4. ঘ)

    উল্লিখিত অর্থব্যবস্থার সাথে ইসলামি অর্থব্যবস্থার পার্থক্য বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অর্থনীতিতে উৎপাদন বলতে কোনো প্রাকৃতিক সম্পদের রূপ বা আকার পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন উপযোগ সৃষ্টি করাকে বোঝায়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উৎপাদন সম্ভাবনা রেখা (Production Possibility Curve বা PPC) হলো এমন একটি রেখা, যার বিভিন্ন বিন্দুতে নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ ও চলতি প্রযুক্তির সাপেক্ষে দুটি দ্রব্যের সম্ভাব্য উৎপাদনের সংমিশ্রণ নির্দেশ করা হয়। এই রেখার সাহায্যে অর্থনীতিতে সম্পদের সীমাবদ্ধতা, পছন্দের সমস্যা এবং সুযোগ ব্যয়ের ধারণা সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা যায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত দেশটিতে মিশ্র অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান।

    মিশ্র অর্থব্যবস্থা হলো এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা যেখানে ধনতান্ত্রিক ও নির্দেশমূলক অর্থব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য একসাথে বিদ্যমান থাকে। অর্থাৎ, এখানে ব্যক্তি মালিকানা ও উদ্যোগের পাশাপাশি জনকল্যাণে রাষ্ট্রের সক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ও হস্তক্ষেপ থাকে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব সুমনের পরিদর্শিত ‘X’ দেশে সবকিছুই ব্যক্তিমালিকানায় পরিচালিত হয় (যা ধনতান্ত্রিক বৈশিষ্ট্য), কিন্তু একই সাথে ব্যক্তিগত ভোগের ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ন্ত্রণ রয়েছে (যা সমাজতান্ত্রিক বা নির্দেশমূলক বৈশিষ্ট্য)। এই দুই ব্যবস্থার যৌথ উপস্থিতির কারণেই ‘X’ দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাটি মিশ্র অর্থব্যবস্থা।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত মিশ্র অর্থব্যবস্থার সাথে ইসলামি অর্থব্যবস্থার বেশ কিছু মৌলিক পার্থক্য বিদ্যমান। নিচে এ পার্থক্যগুলো বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. দর্শনের ভিত্তি: মিশ্র অর্থব্যবস্থা মানবসৃষ্ট এবং এটি ধনতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রের সমন্বয়ে গঠিত। অন্যদিকে, ইসলামি অর্থব্যবস্থার মূল ভিত্তি হলো কুরআন ও সুন্নাহ এবং এটি শরিয়াহ নির্দেশিত নীতিমালার ওপর প্রতিষ্ঠিত।
    ২. সম্পদের মালিকানা: মিশ্র অর্থনীতিতে ব্যক্তি ও রাষ্ট্র উভয়ের মালিকানা স্বীকৃত হলেও তা মূলত মানুষের চূড়ান্ত অধিকার হিসেবে গণ্য হয়। পক্ষান্তরে, ইসলামি অর্থনীতিতে যাবতীয় সম্পদের চূড়ান্ত মালিক আল্লাহ তাআলা; মানুষ কেবল আল্লাহর প্রতিনিধি বা আমানতদার হিসেবে সম্পদ ভোগ ও ব্যবহার করে।
    ৩. সুদের বিধান: মিশ্র অর্থব্যবস্থায় প্রচলিত ব্যাংক ও সুদের ব্যবস্থা অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বীকৃত। কিন্তু ইসলামি অর্থব্যবস্থায় সুদ (রিবা) সম্পূর্ণ হারাম এবং সেখানে মুনাফা ও ক্ষতির অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে অর্থনৈতিক লেনদেন পরিচালিত হয়।
    ৪. আয় বণ্টন ও সামাজিক নিরাপত্তা: মিশ্র অর্থনীতিতে কর ব্যবস্থার মাধ্যমে বৈষম্য কমানোর চেষ্টা করা হয়। তবে ইসলামি অর্থব্যবস্থায় ধনীদের অতিরিক্ত সম্পদ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে জাকাত, সদকা ও উশর আদায়ের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমাজে সম্পদের পুনর্বণ্টন ও সুবিচার নিশ্চিত করা হয়।
    ৫. উৎপাদনের ধরন: মিশ্র অর্থনীতিতে কেবল সামাজিক ক্ষতিকর দ্রব্য ছাড়া মুনাফাদায়ক যে কোনো পণ্য উৎপাদিত হতে পারে, তবে ইসলামি অর্থব্যবস্থায় কেবল 'হালাল' দ্রব্য উৎপাদন ও বাণিজ্য বৈধ এবং সব ধরনের 'হারাম' দ্রব্য ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

    সুতরাং, মিশ্র অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিমালিকানা ও রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপের সংমিশ্রণ ঘটলেও নৈতিক ও ধর্মীয় কাঠামোর দিক থেকে তা সুদমুক্ত ও শরিয়াহভিত্তিক ইসলামি অর্থব্যবস্থা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন