‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২১

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

জনাব 'M' সম্মোহনী নেতৃত্বের অধিকারী একজন নেতা। তার দেশের সামরিক শাসন শুরু হলে তিনি এর বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলেন। সামরিক শাসক তার বিরুদ্ধে জেল জুলুম নির্যাতন শুরু করে। জনাব  'M' তার রাজনৈতিক জীবনের অধিকাংশ সময় জেলে কাটিয়েছেন। তিনি ছিলেন আপসহীন নেতা। ব্যক্তিস্বার্থের চেয়ে আদর্শ ছিল তার কাছে বড়। সামরিক সরকারের সাথে তিনি কখনই আপস করেননি। জনগণের মুক্তি তার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য ছিল। দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের পর তার ডাকে সাড়া দিয়ে জাতীয়তাবাদের উদ্বুদ্ধ হয়ে জনগণ মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করে।

  1. ক)

    মজলুম জননেতা কে?

    (1)
  2. খ)

    শিক্ষা বিস্তারে নবাব স্যার সলিমুল্লাহর অবদান ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে জনাব  'M' এর সাথে তোমার পঠিত কোন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশ ও স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ভূমিকা বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীকে 'মজলুম জননেতা' বলা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নবাব স্যার সলিমুল্লাহ ছিলেন অবিভক্ত বাংলার মুসলমানদের শিক্ষা বিস্তারের অন্যতম অগ্রদূত। তিনি পিছিয়ে পড়া মুসলিম সমাজকে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য বহু পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে তিনি ১৯১২ সালে ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জের নিকট জোরালো দাবি উত্থাপন করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য জমি ও বিপুল অর্থ অনুদান প্রদান করেন। এছাড়া তিনি আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল (বর্তমান বুয়েট) প্রতিষ্ঠায় আর্থিক সহায়তা করেন এবং মুসলিম ছাত্রদের জন্য সলিমুল্লাহ মুসলিম এতিমখানা প্রতিষ্ঠা করেন। এভাবে বাংলার পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিক্ষায় তিনি অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে জনাব 'M' এর সাথে বাংলাদেশের মহান স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাদৃশ্য রয়েছে।

    বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন অসামান্য সম্মোহনী নেতৃত্বের (Charismatic Leadership) অধিকারী একজন বিশ্বনেতা। তিনি পাকিস্তানের সামরিক শাসনের (আইয়ুব খান ও ইয়াহিয়া খান) বিরুদ্ধে আজীবন আপসহীন সংগ্রাম পরিচালনা করেছেন। তিনি জীবনের উল্লেখযোগ্য সময় (প্রায় ১৪ বছর) জেলে কাটিয়েছেন, তবুও জনগণের স্বাধিকার ও মুক্তির প্রশ্নে কখনো আপস করেননি।

    উদ্দীপকের জনাব 'M'-ও সম্মোহনী নেতৃত্বের অধিকারী, সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলনকারী, জীবনের অধিকাংশ সময় জেলে কাটানো আপসহীন নেতা এবং যাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জিত হয়। এই বৈশিষ্ট্যগুলো সামগ্রিকভাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনের সাথে হুবহু মিলে যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ ও স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকা ছিল অপরিসীম ও মুখ্য।

    ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বৈষম্যমূলক নীতির বিরুদ্ধে বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটতে থাকে। বঙ্গবন্ধু ১৯৪৮ ও ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। তিনি ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে জয়লাভ, ১৯৫৮ সালের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং ১৯৬৬ সালে ঐতিহাসিক 'ছয় দফা' দাবি পেশ করার মাধ্যমে বাঙালি জাতীয়তাবাদকে সংহত রূপ দেন। তাঁর এই ছয় দফাই ছিল বাঙালি জাতির মুক্তির সনদหรือ ম্যাগনাকার্টা।

    ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে তিনি 'বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত হন এবং ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় নিশ্চিত করেন। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে তাঁর অমর বাণী—"এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম" সমগ্র বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করে। ২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তাঁর অনুপস্থিতিতেও তাঁরই আদর্শ ও নেতৃত্বে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়।

    অতএব, বলা যায়, বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূল প্রবক্তা ও স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মূল কারিগর ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন