সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩

সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

তন্বীর বিয়ে হঠাৎ করে ঠিক হয়েছে। গত মাসে তার বড় বোন তাহমিনা মারা গিয়েছে। বোনের দুটি সন্তানের অসহায়ত্বের কথা চিন্তা করে তন্বী বাবা-মার কথা মতো তার বড় বোনের স্বামীকে বিয়ে করতে রাজি হয়।

  1. ক)

    জৈবিক জ্ঞাতিসম্পর্ক কী?

    (1)
  2. খ)

    পরিবারকে শিশুর প্রাথমিক বিদ্যালয় বলা হয় কেন? বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে কোন ধরনের বিবাহের চিত্র ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "উদ্দীপকে উল্লেখিত বিবাহের ধরন ব্যতীত বাংলাদেশে আরও বিভিন্ন ধরনের বিবাহ প্রচলিত আছে"- বক্তব্যটির যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রক্তের সম্পর্কের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা জ্ঞাতিসম্পর্ককে জৈবিক বা রক্তসম্পর্কীয় জ্ঞাতিসম্পর্ক (Consanguineal Kinship) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পরিবার হলো শিশুর সামাজিকীকরণের প্রথম ও প্রধান মাধ্যম। জন্মের পর থেকেই শিশু পরিবারের সদস্যদের আচার-আচরণ, ভাষা, রীতিনীতি, মূল্যবোধ এবং নৈতিকতা অনুকরণ করে শেখে। পারিবারিক পরিবেশেই শিশুর মানসিক, নৈতিক ও সামাজিক বিকাশ ঘটে এবং সমাজোপযোগী প্রাথমিক শিক্ষা ও অনুশাসন পরিবার থেকেই শুরু হয়। এই কারণে পরিবারকে শিশুর প্রাথমিক বিদ্যালয় বা শাশ্বত বিদ্যালয় বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'শ্যালিকা বিবাহ' বা 'সোরোরেট' (Sororate) ধরনের বিবাহের চিত্র ফুটে উঠেছে।

    সমাজবিজ্ঞানের ভাষায়, স্ত্রীর মৃত্যুর পর তার অবিবাহিত বোনকে (শ্যালিকা) বিয়ে করাকে শ্যালিকা বিবাহ বা সোরোরেট বিবাহ বলা হয়।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, তন্বীর বড় বোন তাহমিনা মারা যাওয়ার পর তার দুই সন্তানের অসহায়ত্ব বিবেচনা করে তন্বী তার মৃত বোনের স্বামীর সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়। সমাজবিজ্ঞানের ধারণানুযায়ী মৃত স্ত্রীর বোনের সাথে পুরুষের এরূপ বিবাহই হলো শ্যালিকা বিবাহ বা সোরোরেট। মূলত সন্তানদের সঠিক লালন-পালন ও পারিবারিক সংহতি রক্ষায় এ ধরনের বিবাহ সম্পন্ন হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লেখিত 'শ্যালিকা বিবাহ' ব্যতীত বাংলাদেশে আরও বিভিন্ন ধরনের বিবাহ প্রচলিত রয়েছে— বক্তব্যটি অত্যন্ত যৌক্তিক।

    বাংলাদেশে ধর্মের অনুশাসন, সামাজিক প্রথা এবং পারিবারিক রীতির ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ধরনের বিবাহ প্রচলিত রয়েছে:

    ১. একক বিবাহ (Monogamy): বাংলাদেশে সর্বাধিক প্রচলিত ও আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য বিবাহ হলো একক বিবাহ, যেখানে একজন পুরুষ একই সময়ে কেবল একজন নারীকে বিয়ে করেন।
    ২. বহুবিবাহ (Polygamy): বিশেষ পরিস্থিতিতে মুসলিম পারিবারিক আইনে শর্তসাপেক্ষে একজন পুরুষ একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করতে পারেন, যাকে বহুপত্নী বিবাহ (Polygyny) বলা হয়। তবে বহুপতি বিবাহ বাংলাদেশে দেখা যায় না।
    ৩. বহির্গোত্র ও অন্তর্গোত্র বিবাহ: হিন্দু সমাজে একই গোত্রের মধ্যে বিবাহ নিষিদ্ধ (বহির্গোত্র বিবাহ) হলেও নিজেদের বর্ণের মধ্যে বিবাহ (অন্তর্গোত্র বিবাহ) প্রচলিত রয়েছে।
    ৪. পাত্র-পাত্রী নির্বাচনের ভিত্তিতে বিবাহ: বাংলাদেশে পারিবারিকভাবে আয়োজিত বিবাহ (Arranged marriage) এবং ছেলেমেয়ের পারস্পরিক পছন্দের ভিত্তিতে বিবাহ (Love marriage)—উভয় রূপই প্রচলিত।
    ৫. দেবীবর বিবাহ (Levirate): স্বামীর মৃত্যুর পর তার ভাইয়ের সাথে বিধবা নারীর বিবাহ বাংলাদেশের গ্রামীণ সমাজে ক্ষেত্রবিশেষে দেখা যায়।

    অতএব, দেখা যায় যে বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে শ্যালিকা বিবাহ ছাড়াও একক বিবাহ, বহুবিবাহ, সম্বন্ধ বিবাহসহ বিভিন্ন রূপভেদ বিদ্যমান রয়েছে। তাই উদ্দীপকের বক্তব্যটি যথার্থ ও বাস্তবসম্মত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন