যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৯

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১: দেবতার কোপানলে সূর্যগ্রহণ হয়।দৃশ্যকল্প-২: পর্যাপ্ত রক্ত চলাচলের অভাবে দেহকোষের মৃত্যু হয়।

  1. ক)

    শৃঙ্খলযোজন কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    সার্বিক নিয়মের ব্যাখ্যা করা যায় না কেন?

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-২ এ ব্যাখ্যার যে প্রকারের প্রতিফলন ঘটেছে তার ব্যাখ্যা দাও।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-১ এবং দৃশ্যকল্প-২ এ যে দুটি বিষয়ের ইঙ্গিত করা হয়েছে তাদের তুলনামূলক সম্পর্ক বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার যে প্রক্রিয়ায় দুটি দূরবর্তী ঘটনার মধ্যবর্তী কার্যকারণ সম্বন্ধযুক্ত স্তরগুলোকে ক্রমান্বয়ে আবিষ্কার করে সংযুক্ত করা হয়, তাকে শৃঙ্খলযোজন বা অন্তর্ভুক্তি (Concatenation) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যেসব নিয়ম বা সত্য প্রকৃতিতে সর্বোচ্চ বা চরমতম সার্বিক এবং যার চেয়ে উচ্চতর কোনো ব্যাপক নিয়ম নেই, তাকে অন্য কোনো ব্যাপকতর নিয়মের অন্তর্ভুক্ত করা যায় না। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার মূল পদ্ধতিই হলো কম ব্যাপক নিয়মকে অধিক ব্যাপক নিয়মের অধীনে এনে ব্যাখ্যা করা। সুতরাং, প্রকৃতির সর্বোচ্চ সার্বিক নিয়মসমূহের (যেমন: কার্যকারণ নিয়ম বা শক্তির অবিনশ্বরতা নীতি) ঊর্ধ্বে আর কোনো নিয়ম না থাকায় তাদের ব্যাখ্যা করা যায় না।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-২ এ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার প্রতিফলন ঘটেছে।

    বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা হলো এমন একটি ব্যাখ্যা প্রক্রিয়া যেখানে কোনো ঘটনা বা কার্যকারণ সম্পর্ককে বিজ্ঞানসম্মত নিয়ম, কার্যকারণ নিয়ম ও নিরীক্ষণের ওপর ভিত্তি করে যুক্তিসঙ্গতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়।

    উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২ এ বলা হয়েছে, "পর্যাপ্ত রক্ত চলাচলের অভাবে দেহকোষের মৃত্যু হয়"। এটি জীববিজ্ঞানের একটি প্রমাণিত ও প্রাকৃতিক কার্যকারণ সম্পর্ক। রক্ত চলাচল বন্ধ হলে কোষে অক্সিজেন ও পুষ্টির সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, ফলে কোষের মৃত্যু ঘটে। এটি কোনো অলৌকিক বা মনগড়া কল্পনা নয়, বরং সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক নিয়ম ও প্রাকৃতিক কার্যকারণ সূত্রের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তাই দৃশ্যকল্প-২ এ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার যথার্থ প্রতিফলন ঘটেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-১ এবং দৃশ্যকল্প-২ এ যথাক্রমে 'লৌকিক ব্যাখ্যা' এবং 'বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা'র ইঙ্গিত করা হয়েছে। নিচে এদের তুলনামূলক সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. ধারণাগত পার্থক্য: দৃশ্যকল্প-১ এ কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস ও অলৌকিক শক্তির সাহায্য নিয়ে সূর্যগ্রহণের ব্যাখ্যা (দেবতার কোপানল) দেওয়া হয়েছে, যা লৌকিক ব্যাখ্যা। পক্ষান্তরে, দৃশ্যকল্প-২ এ প্রাকৃতিক নিয়ম ও কার্যকারণ সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে দেহকোষের মৃত্যুর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।

    ২. কার্যকারণ সম্পর্ক: বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় কোনো ঘটনার প্রকৃত কার্যকারণ উদঘাটন করা হয়; কিন্তু লৌকিক ব্যাখ্যায় কাল্পনিক ও অতিপ্রাকৃতিক কারণকে ভিত্তি করা হয়।

    ৩. যাচাইযোগ্যতা: বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষণ ও প্রমাণের মাধ্যমে যাচাইযোগ্য। কিন্তু লৌকিক ব্যাখ্যায় ব্যবহৃত অলৌকিক বা অতিপ্রাকৃতিক ধারণাকে কোনো প্রমাণ বা পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করা যায় না।

    ৪. সার্বজনীনতা ও পরিবর্তনশীলতা: বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা যুক্তি ও প্রমাণের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় সার্বজনীন ও বস্তুনিষ্ঠ। নতুন তথ্যের ভিত্তিতে এটি পরিবর্তিত বা সংশোধিত হতে পারে। অপরদিকে, লৌকিক ব্যাখ্যা ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও লোকবিশ্বাসের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় তা পরিবর্তনীয় নয় এবং সার্বজনীন নয়।

    সুতরাং, দৃশ্যকল্পদ্বয়ে নির্দেশিত লৌকিক ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার মধ্যে প্রকৃতিগত, পদ্ধতিগত ও উদ্দেশ্যগত মৌলিক বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন