ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন
হুমায়ুরা ব্যাংক প্রদত্ত চুম্বকীয় কার্ড ব্যবহার করে যেকোনো সময় ব্যাংকে জমা টাকা উত্তোলন করতে পারে। অন্যদিকে, নাজিফা তার ব্যাংক হিসাবে পর্যাপ্ত টাকা না থাকার পরেও একই ধরনের অন্য একটি কার্ড ব্যবহার করে সকল কেনাকাটা ও বিল পরিশোধ করতে পারে। কিন্তু নাজিফাকে পরবর্তীতে উক্ত টাকা সুদসহব্যাংকে পরিশোধ করতে হয়।
- ক)(1)
স্বয়ংক্রিয় নিকাশ ঘর সেবা কী?
- খ)(2)
মোবাইল ব্যাংকিং জনপ্রিয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে হুমায়রার ব্যবহৃত কার্ডটি কোন ধরনের চুম্বকীয় কার্ড? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে যে দুটি কার্ডের কথা উল্লেখ করা হয়েছে তন্মধ্যে কোন কার্ডটির সুবিধা তুলনামূলক বেশি? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্বয়ংক্রিয় নিকাশ ঘর (Automated Clearing House বা ACH) হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক পরিচালিত একটি কম্পিউটারাইজড ও ইলেকট্রনিক ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে আন্তঃব্যাংক চেক, ডেবিট ও ক্রেডিট লেনদেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষ্পত্তি করা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মোবাইল ব্যাংকিং হলো এমন একটি ব্যাংকিং সেবা যেখানে গ্রাহক মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যেকোনো সময় ও স্থান থেকে আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন করতে পারেন।
এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় হওয়ার প্রধান কারণ হলো এর সহজলভ্যতা, দ্রুততা এবং ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন সেবা। সাধারণ মানুষের ব্যাংকে না গিয়ে ঘরে বসেই তাৎক্ষণিকভাবে টাকা পাঠানো (সেন্ড মানি), গ্রহণ করা, ইউটিলিটি বিল পরিশোধ, বেতন প্রাপ্তি ও কেনাকাটার পেমেন্ট করার সুবিধা পাওয়ার কারণে মোবাইল ব্যাংকিং ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে হুমায়রার ব্যবহৃত কার্ডটি হলো 'ডেবিট কার্ড'।
ডেবিট কার্ড হলো ব্যাংক কর্তৃক আমানতকারীকে প্রদত্ত এমন একটি ইলেকট্রনিক প্লাস্টিক কার্ড, যার সাহায্যে গ্রাহক তার ব্যাংক হিসাবে জমাকৃত অর্থের সীমা পর্যন্ত যেকোনো সময় এটিএম বুথ থেকে নগদ অর্থ উত্তোলন বা পিওএস (POS) টার্মিনালের মাধ্যমে কেনাকাটার বিল পরিশোধ করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে লেনদেনের সাথে সাথেই গ্রাহকের হিসাব থেকে সমপরিমাণ অর্থ কেটে নেওয়া হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, হুমায়রা ব্যাংক প্রদত্ত চুম্বকীয় কার্ড ব্যবহার করে যেকোনো সময় তার ব্যাংকে জমা টাকা উত্তোলন করতে পারে। সে হিসাবে জমার অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে পারে না। ডেবিট কার্ডের মূল বৈশিষ্ট্যই হলো নিজস্ব জমার বিপরীতে লেনদেন করা। সুতরাং, হুমায়রার ব্যবহৃত কার্ডটি একটি ডেবিট কার্ড।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত দুটি কার্ড হলো হুমায়রার 'ডেবিট কার্ড' এবং নাজিফার 'ক্রেডিট কার্ড'। সার্বিক সুযোগ-সুবিধা, জরুরি আর্থিক সহায়তা এবং ক্রয়ক্ষমতার দিক বিবেচনায় ক্রেডিট কার্ডের সুবিধা তুলনামূলক বেশি।
ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে কেবল নিজের ব্যাংক হিসাবে জমা থাকা অর্থই তোলা বা খরচ করা যায়। হিসাবে টাকা না থাকলে ডেবিট কার্ড কোনো উপকারে আসে না। অন্যদিকে, ক্রেডিট কার্ড হলো ব্যাংক কর্তৃক প্রদত্ত একটি পূর্ব-অনুমোদিত ঋণের সুবিধা সংবলিত কার্ড। এর মাধ্যমে হিসাবে টাকা না থাকলেও একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত কেনাকাটা, বিল পরিশোধ বা ঋণ গ্রহণ করা যায়।
ক্রেডিট কার্ডের অতিরিক্ত সুবিধাসমূহ নিম্নরূপ:
১. জরুরি প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক ঋণ সুবিধা: হঠাৎ নগদ অর্থের সংকট দেখা দিলে বা ব্যাংক হিসাবে পর্যাপ্ত টাকা না থাকলেও যেকোনো জরুরি কেনাকাটা বা চিকিৎসা খরচ তাৎক্ষণিকভাবে মেটানো যায়, যা উদ্দীপকে নাজিফার ক্ষেত্রে দেখা গেছে।
২. গ্রেস পিরিয়ড বা সুদমুক্ত সময়: নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে (সাধারণত ৪৫-৫০ দিন) বিল পরিশোধ করলে কোনো সুদ দিতে হয় না।
৩. ইএমআই (EMI) ও ক্যাশব্যাক সুবিধা: বড় অঙ্কের কেনাকাটায় সহজ কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ এবং রিওয়ার্ড পয়েন্ট বা ডিসকাউন্ট সুবিধা পাওয়া যায়।যদিও ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে সময়মতো টাকা পরিশোধ না করলে চড়া সুদ বহন করতে হয়, তথাপি তাৎক্ষণিক তারল্য সংকট মোকাবেলা এবং ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির বিবেচনায় ডেবিট কার্ডের চেয়ে ক্রেডিট কার্ডের উপযোগিতা ও সুবিধা তুলনামূলকভাবে বেশি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও