ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • ভারতীয় উপমহাদেশে মুঘল শাসন • Combined Board • দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন

আজম খান পৈতৃক সূত্রে একটি ক্ষুদ্র অঞ্চলের অধিপতি ছিলেন। কিন্তু নিকট আত্মীয়দের ষড়যন্ত্রের কারণে ঐ রাজ্য তার হাতছাড়া হয়ে যায়। পরবর্তীকালে তিনি রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা; ভৌগোলিক নৈকট্য ও অরাজকতাপূর্ণ অবস্থার সুযোগ নিয়ে পার্শ্ববর্তী রাজ্য আক্রমণ করেন। উন্নত রণকৌশল ও কামান ব্যবহার করে তিনি প্রতিবেশীর বিশাল সেনাবাহিনীকে যুদ্ধে পরাজিত করতে সক্ষম হন। আজম খানের সাফল্যের মূলে ছিল সামরিক দক্ষতা এবং অশ্বারোহী- ও গোলন্দাজ বাহিনীর বিজ্ঞানসম্মত সমন্বয়। তিনি একটি সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার গৌরব অর্জন করেন।

  1. ক)

    মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা কে?

    (1)
  2. খ)

    বাবরনামা কী? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ঘটনার সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন মুঘল শাসকের মিল খুঁজে পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের আলোকে উত্ত শাসকের কৃতিত্ব মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা হলেন জহিরুদ্দিন মুহাম্মদ বাবর।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'বাবরনামা' (বা তুজুক-ই-বাবরি) হলো প্রথম মুঘল সম্রাট জহিরুদ্দিন মুহাম্মদ বাবরের আত্মজীবনী, যা তাঁর মাতৃভাষা চাগতাই তুর্কি ভাষায় রচিত। এতে বাবরের জীবনসংগ্রাম, যুদ্ধ-বিগ্রহের পাশাপাশি তৎকালীন ভারতবর্ষ ও মধ্য এশিয়ার ভৌগোলিক পরিবেশ, উদ্ভিদ, প্রাণী, অর্থনীতি এবং সামাজিক অবস্থার এক নিখুঁত ও প্রামাণ্য চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ঘটনার সাথে পাঠ্যবইয়ের মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা জহিরুদ্দিন মুহাম্মদ বাবরের সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়।

    বাবর পৈতৃক সূত্রে মধ্য এশিয়ার ক্ষুদ্র ফারগানা রাজ্যের শাসক হন। কিন্তু জ্ঞাতি-ভাই ও আত্মীয়দের ষড়যন্ত্র এবং উজবেক নেতা শৈবানী খানের আক্রমণের কারণে তিনি রাজ্যচ্যুত হন। পরবর্তীতে তিনি কাবুলে আধিপত্য বিস্তার করেন এবং ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অনৈক্যের সুযোগ নিয়ে ভারত আক্রমণ করেন। ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে পানিপথের প্রথম যুদ্ধে বাবর তাঁর অসাধারণ রণকৌশল এবং কামান ও অশ্বারোহী বাহিনীর সমন্বয়ে ইব্রাহিম লোদির বিশাল বাহিনীকে পরাজিত করে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। উদ্দীপকের আজম খানের জীবন ও সামরিক কর্মকাণ্ড বাবরের এই ঐতিহাসিক যাত্রার প্রতিচ্ছবি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের আজম খানের সাফল্যের বর্ণনায় সম্রাট বাবরের অনন্য সামরিক ও রাজনৈতিক কৃতিত্বের প্রতিফলন ঘটেছে।

    সম্রাট বাবরের প্রধান কৃতিত্ব হলো চরম প্রতিকূলতা ও রাজ্য হারানোর পরেও হতাশ না হয়ে মধ্য এশিয়া থেকে ভারতবর্ষে এসে একটি সুদৃঢ় সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করা। পানিপথের প্রথম যুদ্ধে (১৫২৬) বাবরের সামরিক প্রতিভার সর্বোৎকৃষ্ট প্রকাশ ঘটেছিল। তিনি সেখানে রুমি কৌশল ও তুলঘুমা রণকৌশল প্রয়োগ করেন। বিশাল লোদি বাহিনীর তুলনায় বাবরের সৈন্যসংখ্যা কম থাকলেও তিনি কামান ও তুখোড় অশ্বারোহী বাহিনীর সুসমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমে শত্রুকে পরাস্ত করেন।

    পরবর্তীতে তিনি খানুয়ার যুদ্ধে (১৫২৭) রানা সঙ্গকে এবং ঘর্ঘরার যুদ্ধে (১৫২৯) আফগানদের পরাজিত করে ভারতে মুঘল শাসনের ভিত মজবুত করেন। তাঁর এ সাফল্য কেবল সামরিক বিজয়েই সীমাবদ্ধ ছিল না; তিনি ছিলেন একজন অসাধারণ সাহিত্যিক, কবি ও প্রকৃতিপ্রেমী। সামগ্রিকভাবে, সামরিক দক্ষতা ও উদ্ভাবনী যুদ্ধনীতির মাধ্যমে তিনি উপমহাদেশে প্রায় তিন শতাব্দীর মুঘল শাসনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন