ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • ভারতীয় উপমহাদেশে মুঘল শাসন • Combined Board • দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন

কাশেম খান মসনদে অধিষ্ঠিত হয়ে জনকল্যাণমূলক কাজে নিয়োজিত হন। তিনি মাত্র পাঁচ বছর শাসন করেন। বহু রাস্তাঘাট, সরাইখানা, সেতু ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেন। জমি জরিপ, সামরিক সংস্কার, পুলিশ ব্যবস্থা, বিচার ব্যবস্থা,ডাক বিভাগ ইত্যাদি সংস্কারমূলক কাজের জন্য ইতিহাসে বিখ্যাত হয়ে আছেন।

  1. ক)

    পানিপথের প্রথম যুদ্ধ কত খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত হয়?

    (1)
  2. খ)

    আওরঙ্গজেবকে জিন্দাপির বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের শাসকের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন শাসকের কার্যকলাপের পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত শাসকের কৃতিত্ব মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পানিপথের প্রথম যুদ্ধ ১৫২৬ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব অত্যন্ত অনাড়ম্বর, ধার্মিক ও সংযমী জীবনযাপন করতেন বলে তাঁকে 'জিন্দাপির' বা জীবন্ত সাধু বলা হয়। তিনি রাজকোষের অর্থ ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যয় করতেন না। নিজের জীবিকা নির্বাহের জন্য তিনি টুপি সেলাই করতেন এবং পবিত্র কুরআন নকল করে বিক্রি করতেন। ইসলামি অনুশাসনের কঠোর অনুসারী ও ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত ত্যাগী ও ধার্মিক হওয়ায় তৎকালীন ধর্মপ্রাণ প্রজারা তাঁকে শ্রদ্ধার সাথে 'জিন্দাপির' অভিধায় ভূষিত করেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের শাসক কাশেম খানের সাথে পাঠ্যবইয়ের সুর বংশের প্রতিষ্ঠাতা সম্রাট শেরশাহের কার্যকলাপের সাদৃশ্য পাওয়া যায়। শেরশাহ মাত্র পাঁচ বছর (১৫৪০-১৫৪৫ খ্রি.) দিল্লির মসনদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। স্বল্প সময়ের শাসনকালেই তিনি শাসন ব্যবস্থার পুনর্গঠন এবং যুগান্তকারী জনকল্যাণমূলক সংস্কার সাধন করে ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন। উদ্দীপকে উল্লিখিত কাশেম খানের মতোই শেরশাহ জমি জরিপ করে পাট্টা ও কবুলিয়ত প্রথার প্রবর্তন করেন, শক্তিশালী সামরিক ও পুলিশি ব্যবস্থার সংস্কার করেন, বিচার ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করেন এবং দ্রুত সংবাদ আদান-প্রদানের জন্য ঘোড়ার ডাক চালু করেন। এছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে তিনি গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোডসহ অসংখ্য রাস্তা, সরাইখানা ও বৃক্ষরোপণ করেন। অতএব, উদ্দীপকের কাশেম খানের পাঁচ বছরের শাসনকাল ও প্রশাসনিক সংস্কার শেরশাহের শাসন ও সংস্কারমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতিচ্ছবি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত শাসক শেরশাহ ছিলেন মধ্যযুগের ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও দূরদর্শী শাসক এবং সংস্কারক। মাত্র পাঁচ বছরের রাজত্বকালে তিনি প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ ক্ষেত্রে যেসব মৌলিক সংস্কার বাস্তবায়ন করেন, তা পরবর্তীতে মুঘল সম্রাট আকবর ও ব্রিটিশ শাসকদের জন্য আদর্শ হিসেবে কাজ করেছে। শেরশাহ সাম্রাজ্যকে কয়েকটি প্রদেশে এবং প্রদেশগুলোকে সরকার ও পরগনায় বিভক্ত করে একটি বিকেন্দ্রীকৃত শাসন কাঠামো গড়ে তোলেন। ভূমি রাজস্বে তিনি কৃষকদের মালিকানা নিশ্চিত করতে 'পাট্টা' দান করেন এবং কৃষকদের কাছ থেকে আনুগত্যের অঙ্গীকারপত্র 'কবুলিয়ত' গ্রহণ করেন। যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে তাঁর নির্মিত সোনারগাঁও থেকে পেশোয়ার পর্যন্ত বিস্তৃত দীর্ঘ 'গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড' (সড়ক-ই-আজম) একটি ঐতিহাসিক কীর্তি। পথচারী ও বণিকদের বিশ্রামের জন্য তিনি নির্দিষ্ট দূরত্বে সরাইখানা, পান্থশালা, মসজিদ ও মন্দির নির্মাণ করেন। অপরাধ দমন ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য কার্যকর পুলিশ প্রথা এবং ঘোড়ার সাহায্যে দ্রুত ডাক যোগাযোগ ব্যবস্থা শেরশাহেরই অন্যতম বড় অবদান। মুদ্রাব্যবস্থায় তাঁর প্রবর্তিত রৌপ্যমুদ্রা 'রুপয়া' আধুনিক ভারতের মুদ্রার ভিত্তি স্থাপন করে। উপসংহারে বলা যায়, শেরশাহ কেবল একজন সফল সেনাপতি বা বিজেতাই ছিলেন না, বরং একজন সুশাসক, সংস্কারক ও প্রজাবৎসল শাসক হিসেবে ইতিহাসে তাঁর কৃতিত্ব চিরস্মরণীয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন