পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৯
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
জনগণের ন্যায্য অধিকার দাবি করায় 'ক' নামক রাষ্ট্রের একজন জনপ্রিয় নেতাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেফতার করা হয়। গণআন্দোলনের মুখে সরকার মামলা প্রত্যাহার করে উত্ত নেতাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। মুক্তিলাভের পরবর্তী বছরে জাতীয় ও প্রাদেশিক নির্বাচনে উক্ত নেতার রাজনৈতিক দলটি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে একটি অঞ্চলের স্বাধীনতার পথকে প্রশস্ত করে।
- ক)(1)
বেঙ্গল প্যাক্টের উদ্যোক্তা কে ছিলেন?
- খ)(2)
৭ মার্চের ভাষণের সাংবিধানিক গুরুত্ব বর্ণনা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের মামলার সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ে বর্ণিত যে মামলার সাদৃশ্য আছে তার ফলাফল ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের নির্বাচনের মতো তোমার পঠিত নির্বাচনটির তাৎপর্য। বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বেঙ্গল প্যাক্ট (Bengal Pact)-এর উদ্যোক্তা ছিলেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তি সংগ্রামের মূল প্রেরণা এবং একটি সাংবিধানিক দলিলতুল্য ঘোষণা। এই ভাষণে বঙ্গবন্ধু একদিকে পাকিস্তানের সামরিক জান্তার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে কার্যত পূর্ব পাকিস্তানের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং অন্যদিকে স্পষ্ট ঘোষণা দেন—"এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম"। বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫০ অনুচ্ছেদ এবং পঞ্চম তফসিলে এই ঐতিহাসিক ভাষণকে অন্তর্ভুক্ত করে এর সাংবিধানিক ও আইনি স্বীকৃতি চিরস্থায়ী করা হয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের মামলার সাথে আমার পাঠ্যবইয়ে বর্ণিত ১৯৬৮ সালের ঐতিহাসিক 'আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা' (রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য)-র সাদৃশ্য রয়েছে।
এই মামলার ফলাফল ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী:
১. তীব্র গণআন্দোলন: মামলাটির বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্র-জনতা তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তোলে, যা ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
২. মামলা প্রত্যাহার ও মুক্তি: প্রচণ্ড গণবিক্ষোভ ও আন্দোলনের মুখে পাকিস্তান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মামলাটি প্রত্যাহার করে নিতে এবং শেখ মুজিবুর রহমানসহ সকল রাজবন্দীকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।
৩. 'বঙ্গবন্ধু' উপাধি লাভ: কারামুক্তির পরদিন অর্থাৎ ২৩ ফেব্রুয়ারি রেসকোর্স ময়দানে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের বিশাল জনসভায় শেখ মুজিবুর রহমানকে ছাত্র-জনতার পক্ষ থেকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
৪. আইয়ুব খানের পতন: এই আন্দোলনের ফলেই সামরিক শাসক আইয়ুব খান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন এবং জেনারেল ইয়াহিয়া খানের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। এটি বাঙালির জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে স্বাধীনতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের নির্বাচনটি নির্দেশ করে ১৯৭০ সালের পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনকে। এই নির্বাচনটির তাৎপর্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অপরিসীম।
নিম্নে ১৯৭০ সালের নির্বাচনের তাৎপর্য বিশ্লেষণ করা হলো:
১. ছয় দফার প্রতি জনগণের সুস্পষ্ট ম্যান্ডেট: ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদে পূর্ব পাকিস্তানের ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসন (মহিলা আসনসহ) এবং প্রাদেশিক পরিষদের ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৮৮টি আসনে বিপুল বিজয় অর্জন করে। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা ছিল প্রকৃতপক্ষে বাঙালি জাতির প্রাণের দাবি।
২. জাতীয়তাবাদের বিজয়: এই নির্বাচনের মাধ্যমে বাঙালি জাতীয়তাবাদের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটে এবং পাকিস্তানের দ্বি-জাতিতত্ত্বের অসারতা পুনরায় প্রমাণিত হয়। বাঙালি জনগণ তাদের নিজস্ব আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের পক্ষে রায় দেয়।
৩. অবিসংবাদিত নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা: নির্বাচনের ঐতিহাসিক বিজয়ের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সমগ্র পাকিস্তানের জনগণের একক সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা এবং বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত হন।
৪. স্বাধীনতার পথ উন্মুক্তকরণ: নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করা সত্ত্বেও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নেয়। এর ফলেই ১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলন, ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ এবং অবশেষে সশস্ত্র মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।পরিশেষে বলা যায়, ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন ছিল বাঙালি জাতির স্বাধীনতা অর্জনের পথে সবচেয়ে শক্তিশালী ও নির্ণায়ক গণতান্ত্রিক ভিত্তিপ্রস্তর।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও